বিটিএস ভক্তদের দল পার্পল হার্টস এর ভিন্ন উদ্যোগ

'বিটিএস' এর কয়েকজন ভক্তের ভিন্ন উদ্যোগ
বিটিএস ভক্তদের দল পার্পল হার্টস এর ভিন্ন উদ্যোগ

টিএসসি এলাকায় সবসময়ই কোলাহল চোখে পড়ে। তার মাঝে একদল তরুণ হাতে মাস্ক নিয়ে ছুটে যাচ্ছে যাদের মুখে মাস্ক নেই তাদের মাস্ক পরিধানে উৎসাহিত করতে। হঠাৎ করেই আরেকটা দল খাবার খাওয়াচ্ছে অনাহারী কুকুরদের। হঠাৎ করেই চোখ আটকে গেলো লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একদল পথশিশুর দিকে, যাদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে দুপুরের খাবার। এমন এক ব্যাতিক্রম আয়োজন করেছে বিটিএস আর্মি অব বাংলাদেশের একটি দল ‘পার্পল হার্টস'।

কে-পপ সংগীতের সঙ্গে যাদের পরিচয় তাদের কাছে 'বিটিএস' নামটা বেশ পরিচিত। ২০১০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি সঙ্গীতের ব্যান্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করে তারা। সাত তরুণের দলটির বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলেই রয়েছে বিশাল ভক্ত এবং অনুসারী।

সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বিটিএসের ভক্তদের ডাকা হয় বিটিএস আর্মি হিসেবে। বিটিএস আর্মি অব বাংলাদেশ হিসেবে ডাকা হয় বাংলাদেশী ভক্তদের। 'বিটিএস' দলের সদস্যরা প্রায় সময়ই বিশ্বের নানান প্রান্তে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে তা দেখা যায়। বাংলাদেশের কে-পপ গানের ভক্তরা সবসময়ই ছিলো বিশ্বের অন্য দেশের ভক্তদলের মতো উদ্যমী। তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং প্রিয় দলের মতো করেই অংশ নেয় বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে, কখনো আবার প্রিয় তারকার জন্মদিনে ভক্তরা সেবামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে। এরাই কখনো তৈরী করছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কখনো আবার আয়োজন করছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, মানসিক স্বাস্থ্যের বার্তা প্রচারের কর্মসূচি, এমনকি বন্যার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ত্রাণ বিতরণ।

গত ৮ মার্চ সোমবার বিটিএস সদস্য মিন ইয়ুঙ্গি এর জন্মদিন উপলক্ষে বিটিএস আর্মি অব বাংলাদেশের একটি দল ‘পার্পল হার্টস’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি কর্মসূচির আয়োজন করে। মিন ইয়ুঙ্গি একজন র‍্যাপার, সংগীত-রচয়িতা এবং রেকর্ড প্রডিউসার হিসেবে বেশ পরিচিত। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রখ্যাত বয়ব্যান্ড বিটিএস এর একজন সঙ্গীতশিল্পী। ২০১৩ সালে তিনি বিটিএস এ যোগদান করেন তিনি।

জান্নাত মিম, এলিজা হাসান, ফারজানা বৃষ্টি, উম্মে কুসুম চার বন্ধু মিলে ২০২০ সালে 'পার্পল হার্টস' দলটি শুরু করে৷ আয়োজনের মূল পরিকল্পনাকারী তারাই। ‘বাংলাদেশ বিটিএস আর্মি অফিসিয়াল ফ্যানক্লাব’ এর সদস্যরা সাহায্য করেছে এটি গঠনে। সোমবারের আয়োজন সম্পর্কে জান্নাত মিম জানান, অনাহারী শিশু এবং বয়স্ক মানুষগুলোর মুখে আনন্দের হাসিটাই আমাদের এই আয়োজনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। চার বছরের একটা শিশু যখন হাতে খাবার পেয়ে আমায় মিষ্টি করে বললো 'থ্যাংক ইউ,আপু' তখন আমার মনে হয়েছে আমার জীবনের সেরা কিছু মূহুর্তের একটি এটি। বিটিএস এর অন্যতম একটা বার্তা হচ্ছে বন্ধ হোক সহিংসতা। আমরা ভক্তরা সবসময়ই চেষ্টা করি নিজ নিজ জায়গা থেকে নানান উদ্যোগের মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা দিতে। অন্যকে ভালোবাসার আগে, নিজেকে ভালোবাসো। নিজের দোষ,গুণ সবটা নিয়ে নিজেকে ভালোবাসো প্রয়োজন। আরও একটা বার্তা হচ্ছে লাভ ইয়োর সেলফ। আমরা ভক্তরা নিজেকে ভালবাসছি তারপর সমাজের মানুষকে ভালোবাসার চেষ্টা করছি।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x