সুনামগঞ্জের তরুণ রেজোয়ান চৌধুরী

শিক্ষকতায় পেশা ও নেশা যার

শিক্ষকতায় পেশা ও নেশা রেজোয়ানের
রেজোয়ান চোধুরী

সুনামগঞ্জের তরুণ রেজোয়ান চৌধুরী। হাওরের প্রকৃতির মাঝে বেড়ে উঠেছেন। ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময় শিক্ষকদের পাঠদান তাকে দারুণ আকৃষ্ট করত। প্রায় অর্ধশত বা তারও বেশি শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে চলেছেন, বই খুলে পড়াচ্ছেন নানা বিষয়ের পাঠ, আর তা তন্ময় হয়ে শুনছে শিক্ষার্থীরা—এটি ছিল রেজোয়ানের অন্য এক ভালোলাগা। তখন থেকেই নিজে বড় হয়ে শিক্ষক হবার বীজ বপন হয়ে যায় তার মনে।

সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিকে পড়াশোনা শেষ করে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন রেজোয়ান। পরে সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায় প্রশাসনে ভর্তি হন। ২০১৩ সালে সেখান থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। তবে এই বিষয়ে পড়াশোনা করা অনেকেই ব্যাঙ্ক বা কর্পোরেট চাকরির দিকে ঝুঁকলেও রেজোয়ানের শিক্ষকতায় যাবার আগ্রহ বিন্দুমাত্র কমেনি। ফলে এমবিএ-তে অধ্যয়নরত থাকাকালেই ২০১২ সালে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল ব্রিজ অ্যাকাডেমিতে যোগ দিয়ে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশ করেন। ধীরে ধীরে তা পরিণত হয় নেশায়। পাঠদানের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য কয়েকটি সফ্ট স্কিল ট্রেনিংয়ে অংশ নেন। আইটিসহ নানা বিষয়ে দ্রুতই পারদর্শী হয়ে ওঠেন।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালের আগস্টে নরসিংদীর আব্দুল কাদির মোল্লা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে যোগদান করেন শিক্ষক হিসেবে। এরপর থেকে সেখানেই আইবি (প্রাইমারি ইয়ার্স প্রোগ্রাম) -এ শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত আছেন। গেলবছরের মার্চে যখন করোনা মহামারীর কারণে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে অনলাইনে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়, তার প্রথমসারিতে ছিল এই স্কুলটি। ১৮ মার্চ থেকে জুম, গুগল মিট ও গুগল ক্লাসরুমসহ কার্যকরী কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইন ক্লাস শুরু করেন তারা। রেজোয়ানও অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করেছেন শুরু থেকেই। বাংলাদেশের কারিকুলামে কোভিড-১৯ এর প্রভাব ও অনলাইন শিক্ষা নিয়ে তার লেখা নিবন্ধও প্রকাশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নালে।

রেজোয়ান মনে করেন, শিক্ষকতায় সৃষ্টিশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি প্রকাশ করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নানা ইতিবাচক ধারণা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরকে পড়িয়ে আনন্দ পান তিনি। এছাড়া স্কুলটির আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্পৃক্ততা থাকায় বড় পরিসরে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

ইতোমধ্যেই মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং, ওয়ার্কশপ, কনফারেন্সে যোগ দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন এই তরুণ শিক্ষক।

রেজোয়ান বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক এগিয়েছে। সরকারি বাংলা কারিকুলাম স্কুলে শিক্ষকদের ট্রেনিং বৃদ্ধি করতে হবে৷ আইটি দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য রিসোর্স বৃদ্ধি করতে হবে। প্রায়োগিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া সামাজিক কর্মকাণ্ডমূলক শিক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে যাতে তাদের সঠিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয়।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নানা সংকট থাকা সত্ত্বেও অনলাইন শিক্ষায় বাংলাদেশ অনেকটা এগিয়েছে বলেই ধারণা রেজোয়ানের। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আইটি দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরবর্তী জীবনেও কাজে লাগবে। ভবিষ্যতে নিজ অঞ্চল সিলেট শহরে একটি আন্তর্জাতিক মানের আইবি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে নিজের শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x