বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় ‘শুনতে কি পাও’-এর মেডিক্যাল ক্যাম্প

বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় ‘শুনতে কি পাও’-এর মেডিক্যাল ক্যাম্প
'শুনতে কি পাও?'-এর মেডিকেল ক্যাম্প

প্রতিনিয়ত সৃজনশীল এবং জনকল্যাণমুখী কাজের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'শুনতে কি পাও?'। বিশেষ করে অবহেলিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা দিতে তৎপর এ সংগঠনটি। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২০ মার্চ বান্দরবানের দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত উপজাতিদের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে 'শুনতে কি পাও?'-এর সদস্যরা। বান্দরবান জেলার আলিকদম উপজেলার ৩নং কুরুকপাতা ইউনিয়নের দুসরি বাজার এলাকায় আইয়োজন করা হয় এই ক্যাম্প।

দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে বেশিরভাগ মানুষ আসেন নানা ধরণের ব্যাথা, কাটাছেড়া, ঘা, জ্বর ঠান্ডা, দাঁতের এবং চোখের কিছু সমস্যা নিয়ে। তাদেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, পরামর্শপত্র প্রদান ও ঔষধ প্রদান করা হয়। প্রায় শতাধিক মানুষ এই ক্যাম্পে সেবা নেন। ক্যাম্পে অংশ নেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারী ডিপার্টমেন্টের ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং ফিজিও রবিউল ইসলাম। তাছাড়া হলিফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তিনজন ইন্টার্ন চিকিৎসকও যোগ দেন এই ক্যাম্পে। ৬ জন স্বেচ্ছাসেবক, একজন ডিপ্লোমা স্বাস্থ্যকর্মী এবং একজন মেডিসিন রিপ্রেজেনটেটিভ তাদের সহযোগিতা করেন। জগৎচন্দ্র পাড়ার বাচ্চাদের সাথে সকালে দাঁত মাজার সঠিক নিয়ম এবং বাচ্চাদের সচেতন করার কাজ করেন তারা।

ক্যাম্পে দু'টি জটিল রোগীকেও চিকিৎসা দেয়া হয়। আগুনে পোড়া একটি শিশুর চামড়া পঁচন ধরেছিলো। স্বল্প যন্ত্রপাতির সাথে সেই শিশুর চিকিৎসা করা হয়। দেরি হলে শিশুটিকে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হতো।

ক্যাম্পে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দেন প্রান্তিক চৌধুরী, মোহাম্মদ আব্দলাহ আল ফাহিম, লোকনাথ সাহা, আতিউল্লাহ সরকার, হাসনাত কিরণ এবং মীর ইসলাম। ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ' রকম একটি মহৎ প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণ করতে পেরে সত্যিই ভালো লেগেছে। তবে ক্যাম্পে বার্নের সমস্যা নিয়ে যে শিশুটি এসেছিলো তা একটি সেকেন্ড ডিগ্রী বার্ন ছিলো। সাধারণত বার্ন ইউনিট ছাড়া সদর হাসপাতালেও এত ক্রিটিকাল ড্রেসিং করানো হয় না । তবে আমরা সামান্য কিছু সরঞ্জাম নিয়ে সফলভাবে কাজটি করতে পেরেছি এবং তা শিশুটির জন্য লাইফ সেভিং হয়েছে।' ডা. রাজ বলেন, 'প্রত্যন্ত এলাকায় এসে স্বাস্থ্যসেবাবঞ্চিত মানুষকে সেবা দিতে পেরে ভালো লাগছে।'

স্থানীয় জগৎচন্দ্র ত্রিপুরা মেডিকেল ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন। সমন্বয় করেন নিজাম উদ্দিন।

ক্যাম্প পরিচালনার অর্থ এবং ডাক্তারদের খরচের একটি অংশ আসে একজন শুভাকাঙ্ক্ষীর মাধ্যমে। আর বাকি ব্যবস্থাপনা এবং ডাক্তারদের খরচ বহন করে worldtrac.xyz।

প্রথমদিকে 'শুনতে কি পাও?' এর মেডিকেল ক্যাম্প বা হেলথ ইনিশিয়েটিভগুলো ছিলো ২০১৫-২০১৭ পর্যন্ত। সেই সময় ঢাকাভিত্তিক সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের স্কুলে মেডিকেল ক্যাম্প করত সংগঠনটি। ২০২০ থেকে তারা নতুন একটি প্রজেক্ট হাতে নেয়, যার নাম 'প্রজেক্ট আলো: সুস্থ দেহ, সুন্দর মন'। এই প্রজেক্টের আওতায় বান্দরবানে ২০২০ ও ২০২১ এ বেশকিছু মেডিকেল ক্যাম্প করার টার্গেট ছিল। কমিউনিটিতে কী ধরনের রোগ বেশি হয়, রোগ বালাই নিয়ে কী ধরনের সচেতনতা প্রয়োজন তা জানাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x