স্বেচ্ছাসেবক ফয়সাল

স্বেচ্ছাসেবক ফয়সাল
আবদুল্লাহ আল ফয়সাল

"আগে প্রায়ই আশেপাশে ময়লা ফেলতাম। বিভিন্ন ভলান্টিয়ারিং কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই এখন সে অভ্যাস বদলে গেছে, হাঁটতে ময়লা চোখে পরলেও তুলে নিয়ে সেটা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার চেষ্টা করি।"—বলছিলেন ফয়সাল। এখনো শিক্ষার্থী হলেও পরিচিত সকলের মাঝে 'স্বেচ্ছাসেবক' হিসেবে পরিচিত তিনি।

ফয়সালের পুরোনাম আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, তবে ডাকনাম শাহরুখ আল ফয়সাল নামে চেনেন সবাই। পড়ালেখা চট্টগ্রামের শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের 'ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং' এ। ভলান্টিয়ারিং শব্দটা যেনো জুড়ে আছে ২১ বছর বয়সী এই তরুণের জীবনের অলিগলিতে। ফয়সালের গল্প যখন শুনছিলাম, তখনও কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, নিঃসন্দেহে বলে দিচ্ছিলো নতুন কোনো কাজে ছুটতে যাচ্ছেন তিনি।

নানা সামাজিক সমস্যা নিয়ে লড়ে যাওয়ার ইচ্ছা একদম ছোটকাল থেকে হলেও ফয়সাল স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন বছর ছয়েক আগে। "অন্যান্য দিনের মতোই একদিন ফেসবুকে একটি ভলান্টিয়ার রিক্রুটমেন্টের পোস্ট দেখে তড়িঘড়ি করে রেজিস্ট্রেশন করে ফেলি। সেই থেকে শুরু।"—বললেন ফয়সাল। জাগো ফাউন্ডেশনের যুব শাখা 'ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি)' দিয়েই নেমে পড়েন নতুন এই গন্তব্যে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি)। এই সংগঠনের ভিবিডি-চট্টগ্রাম জেলা শাখার হয়ে স্বপ্নের শৈশব, প্রজেক্ট ওয়েস্ট টু হোপ, প্রজেক্ট গ্রীন ওয়াল, মাই রোড-মাই রেসপন্সিবিলিটি, জলাধারা পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বেশ কয়েকটি উদ্যোগে কাজ করে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। সাধারণ একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে শুরু হলেও ইনস্টিটিউট রিপ্রেজেন্টটেটিভ হয়ে বর্তমানে ফয়সালের পরিচয় একজন কমিটি মেম্বার হিসেবে। ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের সাথে কাজ করার সুবাধে ডাক পান জাগো ফাউন্ডেশন এর সহযোগিতায় Asian Football Confederation ও Bangladesh Football Federation এর Social Responsibility Program এ। 'AFC Dream Asia' নামে পরিচিত এই প্রজেক্টের মাধ্যমে শুরু হয় নতুন আরেক অধ্যায়। শুরু করেন বাচ্চাদের কে ফুটবল খেলার মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক শিক্ষা, সমস্যা ও সমাধান নিয়ে জানানো এবং তাদের দায়িত্বশীল আচরণ শেখানো।

বছর দুয়েক আগে ইউনিসেফ বাংলাদেশে শুরু করেন তাদের নিয়ে অন্য এক ভলান্টিয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। স্বেচ্ছাসেবায় নিজেকে খুঁজে পেতে ফয়সালের নতুন গন্তব্য হয়ে ওঠে ইউনিসেফ। ইতোমধ্যেই সেখানে অংশ নিয়েছেন প্রায় শতাধিক কার্যক্রমের সাথে। এগিয়ে এসেছেন নানান দূর্যোগে, শুনেছেন ভুক্তভোগীর দূভোর্গের কথা। করোনাকালীন সময়ে অংশ নেন 'টিকাদান', 'সত্যান্বেষী'সহ 'মাস্ক-আপ'এর মতো চ্যালেঞ্জে। এছাড়াও নানান সংগঠনের হয়ে কাজ করছেন নানান উদ্যোগে, ছুটে যাচ্ছেন মানুষের প্রয়োজনে।

শুধুই ভলান্টিয়ারিং নয়, ফয়সাল জড়িত আছেন ফ্রীল্যান্স ডিজিটাল মার্কেটিং পেশার সাথে। কমিউনিটিতে গড়ে ওঠা ছোটবড় প্রতিষ্ঠানকে সেবা প্রদান, কনসালট্যান্সি প্রদান করছেন। বড় অর্জন কোনটি, জানতে চাইলে এই তরুণ বলেন, "আমার উল্লেখযোগ্য পুরষ্কার নেই। তবে আমি অনেক মানুষের সাথে মিশতে পেরেছি, তাদের প্রয়োজনের সঙ্গী হতে পেরেছি, সেটিই আমার জন্য বড় অর্জন।" দেশ ও সমাজের উন্নয়নের লক্ষ্যেই সবসময় কাজ করে যাওয়ার ভাবনা তার। এরই সাথে যেনো চোখে উঁকি দিচ্ছিলো নিজের কাজের মাধ্যমে লাল সবুজের পতাকাকে বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরার স্বপ্ন।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x