উপস্থাপক গোলাম রাব্বীর 'কী যে করি'

উপস্থাপক গোলাম রাব্বীর 'কী যে করি'
উপস্থাপক গোলাম রাব্বীর বই 'কী যে করি'

আজকাল উচ্চশিক্ষিত হয়েও তরুণদের মাঝে এক ধরণের হতাশা লেগেই থাকে। দুশ্চিন্তায় ভোগেন কেউ কেউ। অনেকেই কূল-কিনারা হারিয়ে জীবন হারানোর মতো অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তও নিয়ে নেন। যা মোটেই উচিত নয়। তরুণদের বিরাট একটা অংশ শিক্ষিত হয়েও বেকার। ভেবে পান না, কী করবেন? অথচ, একটু স্বপ্নই বদলে দিতে পারে তরুণদের ভবিষ্যৎ। তরুণরা জানে না, কী করলে বড় হতে পারবে কিংবা এগিয়ে যেতে পারবে, ছুঁতে পারবে স্বপ্ন। দেশসেরা সংবাদ উপস্থাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী স্বপ্নবাজ তরুণদের কথা ভেবেই লিখেছেন 'কী যে করি' নামে ভিন্ন একটি বই।

এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বের হলো বইটি৷ বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক এ বইটি। বইটি পড়লে পাঠক জানতে পারবে, এই মুহুর্তে তার কী করা উচিত। কী করলে হতাশা থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব। কী পরিকল্পনা নিলে স্বপ্নের পথে এগোনো যাবে।

অনেকের ভাবনায় কেবল ঘুরপাক খায়, 'কী যে করি'। অথচ কাজ করতে চাইলে কাজের বা চাকরির যে অভাব নেই, সেটিই বইটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।

লেখকের মতে, কোনো কাজ ছোট না। করা যেতে উবার ড্রাইভিং, পার্সেল বা হাল আমলের ফুড ডেলিভারির কাজও। এমনকি ডিজিটাল অঙ্গনে ফ্রিল্যান্সিং এ করা যেতে পারে শত চাকরি। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন বা মোশন গ্রাফিক্সসহ নতুন কত কী শেখার পাশাপাশি চাকরি করার সুযোগ আছে।

এককথায় আলসেমি বাদ দিয়ে শুধু স্বপ্ন, ইচ্ছা থাকলে বর্তমানে একটা না কেবল চাকরির পাশাপাশিও বহুকিছুও করা যেতে পারে। ওদিকে, কাজ করার দরকার না হলে অবসরে আলসেমি না করে নিজেকে গঠন বা বিনোদন বা কিছু শেখাও হতে পারে হতাশা কাটানো বা স্বপ্নপূরণের মূলমন্ত্র।

কিছু করার না থাকলে বা না শিখলেও মজা, নাচ, গান করার মধ্য দিয়ে আনন্দও করা হতে পারে ভালো কাজ। তার মানে আলসেমি বাদ দিয়ে যা কিছু করা বা বিনোদনে থাকাও উত্তম।

গোলাম রাব্বী বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা। পাশে সংবাদ উপস্থাপনা করছেন সময় টেলিভিশনে। এ ছাড়াও তিনি হিউম্যান স্কিল ডেভেলপমেন্ট ড্রিম ডিভাইজার প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা।

বইটি লেখার পেছনের গল্প ও অনুপ্রেরণা

বইটি লেখার নেপথ্য ও অনুপ্রেরণার গল্প তুলে ধরে গোলাম রাব্বী বলেন, লেখার পেছনের গল্প যদি বলা হয়, আমি মনে করি, আমি নিজেই। আমার শুরুটা এবং আমি মনে করি মানুষ কাজ করলে বা মানুষ কিছু করতে চাইলে, স্বপ্ন দেখলে, এটা অনেক বড় বড় গুণী মানুষও বলে গেছেন বা বলেন। আমি ঠিক একইভাবে তাদের কথা থেকে বা হচ্ছে সমাজের সবাইকে, বিশ্বকে দেখে আমি বুঝি, যদি কিছু করতে চায় কেউ, করার অভাব নাই৷ আমি বই পড়ে, বড় বড় মানুষের কথা শোনে, বিশ্ব কিভাবে চলে, দেশ কিভাবে চলে, মানুষ কিভাবে বড় হয়, এগুলো বিশ্লেষণ করে দেখলাম সেটি হচ্ছে যে, আমি যদি কিছু করতে চাই, করার কোন কিছুর অভাব নাই। বরং একসাথে অনেক কিছুও করা সম্ভব। যদি নিজের মন, সাহস, পরিশ্রম করার ক্ষমতা এগুলো থাকে। আর অনুপ্রেরণার জায়গাটা আমি নিজেই।

পাঠক কেন বইটি পড়বে

'বইটি পড়লে আমি মনে করি, তরুণরা স্বপ্নপূরণে অনেকখানি এগিয়ে যাবে। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা সেটি হচ্ছে, কতটুকু এগোবে বা এগোবে কিনা, তারচে বড় বিষয়, আমি মনে করি এ বইটাকে একটা বই বা কেবল ৩০টা অধ্যায়ে যদি আমরা মনে করি, সে জায়গাটা মনে না করে আমি যেটা বার বার বলতে চেয়েছি, এ বইটা কেবল একটা বই হবে না, এটা একটা প্রতিষ্ঠান বা প্লাটফর্মের মতো কাজ করবে। ধরি, আমি বইটা পড়লাম, একজন পাঠক হিসেবে, ওই বইটার লেখক যিনি হচ্ছেন, তাকে কল্পনা করলাম তিনি একজন মানুষ। ঠিক একইভাবে অন্য জেলার বা অন্য কিছু পারেন বা জানেন বা বুঝেন তার কাছে একটা সুযোগ আছে, তিনিও পড়েছেন। আমরা এই মানুষগুলোকে একসূত্রে গাঁথবো, আমরা এ বইটা নিয়ে সবার কাছে যাব, একটা পাঠক বন্ধু বা কী যে করি পাঠক আড্ডা করবো, যেখানে একে অপরকে স্বপ্ন পূরণে এবং কাজ বা হতাশা নিয়ে কাজ করবো৷' বলছিলেন গোলাম রাব্বী।

তরুণদের নিয়ে স্বপ্ন ও তাদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়ে তরুণ এ স্বপ্নদ্রষ্টা বলছেন, তরুণদের নিয়ে সব সময় ইতিবাচক স্বপ্ন দেখি। আমি মনে করি, মানুষ যদি নিজেকে তরুণ রাখতে পারে, নিজেকে যদি সব সময় জাগ্রত রাখতে পারে, নতুন কিছু করার সাহস দেখতে পারে, চ্যালেঞ্জ নিতে পারে, তাহলে ওই মানুষটির দ্বারা যে কোন কিছু করা সম্ভব। তাদের উদ্দেশ্য যেমন কিছু বলার আছে, আমি মনে করি, তাদের কাছ থেকে কিছু শেখারও আছে। যেমন, তরুণ মানুষদেরকেই আমি সব সময় অনুসরণ করি, তাদের দেখে, তাদের সাহস দেখে আমি নিজেও শক্তি পাই। সুতরাং, তরুণ প্রাণরাই আসলে ভিন্নধর্মী হবে, নতুন কিছু করবে, নতুন কিছু বানাবে, নতুন কিছু করে নিজে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেবে, এটাই হচ্ছে আমার পক্ষ থেকে তরুণদের জন্য বলা।

কী করলে তরুণরা এগিয়ে যাবে? এমন প্রশ্নে তরুণ এ উপস্থাপক বলেন, হতাশ না হয়ে কোন কিছু করার জন্য লেগে থাকতে হবে। কারণ, যে মানুষগুলো কিছু করে, আমার মনে হয়, তাদের দ্বারা এমন কিছু হয়, যেটা পৃথিবীর বা বিশ্বের কেউ ভাবই নাই। যেমন, এক সময় আমাদের সোস্যাল এ নেটওয়ার্ক ছিল না। এটা না থাকার কারণে কিছু লোক কাজটা করেছে। যার মধ্যে জাকারবার্গ একজন। তিনি এমন একটা জিনিস আবিষ্কার করেছেন, আজকে দেখা যায়, তার দ্বারা সব কিছু ঘুর্নায়মান। সুতরাং তার আয়, তার অবস্থানটা কত উপরে। আমি মনে করি, কেউ কিছু করতে পারলো না, তাকে লেগে থাকতে হবে। দেখা যাবে, লেগে থাকলেই আরও বড় কিছু হবে। আমি তরুণদের মাঝে সব সময় আলো খুঁজে পাই, দিশা খুঁজে পাই, স্বপ্ন খুঁজে পাই। সুতরাং তরুণরা করাই লেগে থাকুক, এটির দাম এখন হোক বা না হোক, আমার মনে হয়, যদি করাই লেগে থাকে, বিশাল কিছু এক সময় হতে বাধ্য।

গোলাম রাব্বি আরো বলেন, আমরা সবসময় ভাবতে থাকি কী যে করি, কী করবো। কিন্তু আমার এটা ভাবি না চেষ্টা করলে আমরা অনেক কিছুই করতে পারি। আমরা চেষ্টা করলে ব্যাবসা করতে পারি, সেটা না পারলে চাকরি করতে পারি, চাকরির পাশাপাশি আরো অনেক কিছু করতে পারি। যদি কিছু নাও করতে পারি অন্তত একটু ঘুমাতে পারি। যা আমাদের মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। কিন্তু আমরা সেটা না করে সারাক্ষণ কী যে করি সে চিন্তায় মগ্ন থাকি। যা আমাদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে। যারা সারাক্ষণ 'কী যে করি' সে চিন্তায় থাকেন তাদের জন্য আমার এই বই।

বইটি প্রকাশ করেছে আদর্শ পাবলিকেশন। পাওয়া যাবে রকমারি.কম এ।

গোলাম রাব্বীর বেড়ে ওঠা মাদারীপুরের কালকিনির এক অজোপাড়া গাঁয়ে। মাধ্যমিকে প্রথমবারের মতো গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ প্রাপ্তি তাকে দিয়েছিলো- এগিয়ে চলার পাথেয়। জাতীয় টেলিভিশন বিটিভির ‘কুইজ কুইজ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে হয়েছেন দেশসেরা। রচনা প্রতিযোগিতা, সাধারণ জ্ঞান, উপস্থিত বক্তৃতা ও বিতর্কে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। বিশ্ব টেলিকমিউনিকেশন্স দিবসে রাষ্ট্রপতি পদক যার মধ্যে অন্যতম। জেলা শহরের পত্রিকা দিয়ে লেখার রাজ্যে প্রবেশ। কিশোর বয়সে, গ্রাম থেকেই অংশ নিতেন রেডিও ও পত্রিকার নানা আয়োজনে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াকালিন মিডিয়ায় প্রথমে যুক্ত হন ফিচার রাইটার হিসেবে। ক্যারিয়ার ও ইতিবাচক বিষয়ের ফিচার লেখক হিসেবে কাজ করেছেন প্রথম আলো, যুগান্তর, ইত্তেফাক ও জাগো নিউজসহ প্রথম সারির কয়েকটি হাউজে। এর মাঝে হঠাৎই পথ চলা শুরু বেসরকারি এফএম রেডিওর আরজে হিসেবে। জনপ্রিয় টেলিভিশন সময় সংবাদের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রায় এক যুগ ধরে যুক্ত আছেন সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে। অনুষ্ঠান উপস্থাপক হিসেবে যুক্ত আছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিটিভিতেও। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা।

সৃজনশীল কাজ, আইডিয়া ডেভেলপমেন্ট, ইনোভেশন, প্রযুক্তি ভাবনা ও নতুন কিছু করাই তার নেশা-পেশা। লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন সার্কভুক্ত দেশসহ বিশ্বের ৯টি দেশে।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x