লিটন রুবেলের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প

লিটন রুবেলের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প
লিটন রুবেল

ছোটবেলা থেকেই লিটন রুবেলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ক্রিকেট। শৈশব কেটেছে নোয়াখালী শহরে। জীবনের স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হিসেবে জাতীয় দলে খেলার, তবে সে স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় পারিবারের হাল ধরতে গিয়ে। কিন্তু স্বপ্ন তো মানুষকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তাই তিনি আবার স্বপ্নের বীজ বুনেন খেলাঘর ক্রিকেট একাডেমিতে।

স্বপ্নপূরণের পথে এবার বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় ইনজুরি নামক শব্দটা। অস্ত্রোপচার করতে হয় লিটনের। ঢাকা লীগে ডাক পাবার আগ মুহুর্তে ইনজুরি আবার হানা দেয়, করতে হয় অস্ত্রোপচার। ক্রিকেটার হওয়ার পথচলা শেষ হয়ে যায় এখানেই। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত লিটনের পাশে এসে দাঁড়ান খেলাঘর ক্লাবের হেড কোচ রুহুল আমিন। একাডেমির ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করার সুযোগ করে দেন তিনি। এরপর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে ক্লাবের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন লিটন। ২০১৮ সালে ক্রিকেট কে নিয়ে কিছু করার পরিকল্পনা করেন লিটন৷ চাকরির পাশাপাশি ছোট পরিসরে শুরু করেন স্পোর্টস বিজনেস। 'ডিয়ার ফ্রেন্ডস' নামে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করেন সামান্য পুঁজি নিয়ে। অনলাইন ব্যবসায় কিছু জার্সি ও ট্রাউজার দিয়েই পরিচিত হতে থাকেন লিটন। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে রুবেলের ব্যবসা। ক্রিকেট মহলে পরিচয়ের কারণে ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে খুব দ্রুতই পরিচিত হয়ে উঠেন রুবেল। 'ডিয়ার ফ্রেন্ডস' হয়ে উঠে জার্সি প্রেমীদের কাছে ভরসার প্রতীক।

চাকরি আর ব্যবসা দুটো একসাথে চালাতে খুব বেগ পেতে হয় লিটনের৷ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে খেলাঘর ক্লাবের ম্যানেজারের চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। চাকরি ছাড়ার পরপরই হানা দেয় মহামারি করোনাভাইরাস। ভাড়া নেওয়া অফিস এবং নিজের সবকিছু চালাতে হিমশিম খান লিটন। তবে দেশের ই-কমার্স সেক্টরের নতুন বিপ্লব আসে করোনার ফলে। অনলাইন কেনাকাটায় এক প্রকার বাধ্য হয়েই আস্থা রাখেন মানুষ। করোনাকালীন সময়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখেন অল্প কিছু বিক্রি দিয়েই। ধীরে ধীরে মানুষের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠে তার প্রতিষ্ঠান। এখন শুধু জেলা নয়, দেশের প্রায় প্রত্যেক উপজেলা থেকেই ক্রেতা রয়েছে লিটনের। বাংলাদেশ সহ ক্রিকেট খেলুড়ে প্রায় সকল দেশের জার্সি, ট্রাউজার, প্র‍্যাকটিস জার্সি, ট্রাভেল টিশার্ট, ক্যাপ, ট্র‍্যাকস্যুট রয়েছে লিটনের প্রতিষ্ঠানে।

লিটন রুবেল বলেন, ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রম করে বড় হয়েছি। কঠোর পরিশ্রম আর সততার সাথে কাজ করলে আপনি অবশ্যই ভাল ফল পাবেন। শুরুর দিকে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করাটা ছিলো আমার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। অনলাইন বিজনেস মানেই ধোঁকা, এই শব্দটা মানুষের মন থেকে তুলে দিয়ে বিশ্বাসের বীজ বুনতে পারা কিন্তু সহজ ছিলনা। আমার পণ্যের মান অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো হওয়ায় ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপে আসতে থাকে অসংখ্য মানুষের প্রোডাক্ট রিভিউ। আমার জার্সির বিজনেস ছড়িয়ে যেতে থাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আমার অনুপ্রেরণায় জার্সির ব্যবসা শুরু করেছেন আশপাশের আরো অনেকেই।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x