ঘরোয়া রাঁধুনী থেকে দেশসেরা রাঁধুনী হলেন সাদিয়া

ঘরোয়া রাঁধুনী থেকে দেশসেরা রাঁধুনী হলেন সাদিয়া
'সেরা রাঁধুনী ১৪২৭' প্রতিযোগিতার তিন বিজয়ী নাতাশা, সাদিয়া ও নূপুর। ইনসেটে সাদিয়া।

দেশের নানা প্রান্তের রন্ধনশিল্পীদের রান্নার প্রতিভার খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড ৬ষ্ঠ বারের মতো আয়োজন করেছিলো 'সেরা রাঁধুনী ১৪২৭' প্রতিযোগিতা। রান্নার এই মহামঞ্চে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাধ্যমে দেশের কয়েক হাজার রাঁধুনীকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হয়েছেন চট্টগ্রামের মেয়ে সাদিয়া তাহের। শুধু খাবারের স্বাদেই নয়, খাবার পরিবেশন ও খাবারের বিপণনসহ বিচারকদের মানদণ্ডে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করেছেন সাদিয়া তাহের। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় গত ১০ জুলাই, ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। বিভাগীয় অডিশনের মাধ্যমে সারাদেশ থেকে নির্বাচিত হন ২৮ জন। গ্র্যান্ড অডিশনের পর তাদের ১৫ জনকে নিয়ে শুরু হয় মহামঞ্চের স্টুডিও রাউন্ডের লড়াই। তার আগে বিভিন্ন বিষয়ের এক্সপার্টদের কাছ থেকে তাদের জন্য ছিল প্রয়োজনীয় গ্রুমিং সেশন। মহামঞ্চে একের পর এক অভিনব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। কখনো ছিল নিখাঁদ দেশি রান্নার পরীক্ষা, কখনো বা তৈরি করতে হয়েছে বিদেশি রান্না, ছিল মোগলাই রান্না, ইফতার-সেহরি তৈরির দক্ষতা যাচাই, রহস্যময় বাক্সের চ্যালেঞ্জ কিংবা চোখ বুজে স্বাদ নিয়ে রেসিপি বোঝার অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নাটকীয়তা তৈরির স্বার্থে এই পর্বগুলোর পরতে পরতে ছিল প্রচুর চমক ও টুইস্ট। আর শুধু তাদের কুকিং স্কিলই না, রেসিপিগুলোর প্রক্রিয়া ব্যয় ও মূল্য নির্ধারণে তাদের পারদর্শিতাও যাচাই করা হয়েছে। এরকম কঠিন নানা চ্যালেঞ্জ পার হয়ে নাতাশা, সাদিয়া ও নূপুর সেরা তিনে জায়গা করে নেন। এরপর কক্সবাজারে আরো দু’টো প্রফেশনাল চ্যালেঞ্জের (ফাইভ স্টার কিচেন সামলানোর ‘রেস্টুরেন্ট চ্যালেঞ্জ’ এবং ‘সি-ফুড চ্যালেঞ্জ’) মুখোমুখি হতে হয় তাদের। যার নম্বর নির্ধারণ করে চূড়ান্ত ফলাফল।

সাদিয়ার রান্নার হাতেখড়ি মায়ের হাত ধরে। ফেসবুকে 'সেরা রাধুঁনী' প্রতিযোগিতার বিজ্ঞাপন দেখে নাম লেখান সাদিয়া। চট্টগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে পরবর্তী রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত হন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

সাদিয়া বলেন, আমি পুরোপুরি ঘরোয়া রাঁধুনী ছিলাম। প্রফেশনাল রান্নার হাত ছিলো না বলে আমার জন্য ব্যাপারটি বেশ কঠিন ছিলো। তবে প্রফেশনাল রান্না না জানলেও সব ধরনের খাবার সম্পর্কে আমার ধারণা ছিলো। এই প্ল্যাটফর্ম টিকে থাকতে পারাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আমার নিজের প্রতি আত্নবিশ্বাস ছিলো আর তা কাজে লাগিয়েই সফল হতে পেরেছি। সেরা রাঁধুনী হতে হলে সাদিয়ার মতে সবধরনের খাবার সম্পর্কে ধারণা থাকাটা জরুরি। পাশাপাশি খাবারের গুণগত পুষ্টি সম্পর্কেও ধারণা থাকা চাই। এর বাইরেও নিজের ব্যক্তিত্ব তুলে ধরতে হবে ও নিজের প্রতি আত্নবিশ্বাস বাড়াতে হবে। রান্নার প্রতি ভালোবাসা থেকে এসেছিলেন সেরা রাঁধুনীর মঞ্চে। পূর্ব পরিকল্পনা না থাকলেও এখন রান্নাই ধ্যানজ্ঞানে পরিণত হয়েছে সাদিয়ার।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সাদিয়া জানান, শেখার কোন শেষ নেই। আমাকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। তিনি আরো বলেন, আমি সকলের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। সেরা রাঁধুনীর মঞ্চ থেকে আমি অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছি। এর মধ্যে অন্যতম অর্জন ছিলো বিচারক ও এক্সিকিউটিভ শেফ শুভব্রত মৈত্র'র সাথে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে রান্না করা।

সাদিয়ার পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে দেশীয় ভর্তা-ভাজি ধরনের খাবার। বর্তমানে চট্টগ্রামের ইষ্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ ২য় বর্ষে পড়াশোনা করছেন সাদিয়া তাহের। সেরাদের সেরা হয়ে সাদিয়া জিতে নিয়েছেন স্মারক ও ১৫ লক্ষ টাকা।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x