জাতিসংঘের স্বীকৃতি পাওয়া 'রিয়েল লাইফ হিরো'

তানভীর হাসান সৈকত আবারও দুঃস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন

আবারও দুঃস্থ মানুষের পাশে তানভীর হাসান সৈকত
দুঃস্থদেরকে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন তানভীর হাসান সৈকত ও তার বন্ধুরা

করোনার এ দুর্দিনে ঢাকা শহরের ভাসমান, দুঃস্থ, শ্রমজীবী, কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মুখে দুই বেলা দু'মুঠো ভাত তুলে দিতে পেরেই যেন খুশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক সদস্য তানভীর হাসান সৈকত। মহামারীর শুরু থেকে ১২১ দিন হাজারো মানুষের ক্ষুধা নিবারণ করেছেন তিনি। নিজের বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে সৈকত করে যাচ্ছেন এমন মানবিক কাজ। গেলবছর সৈকতের এমন কাজের স্বীকৃতি মিলেছে জাতিসংঘ থেকেও। জাতিসংঘ তাকে 'রিয়েল লাইফ হিরো' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

জাতিসংঘের স্বীকৃতির অনুভূতি কী—এ প্রসঙ্গে তানভীর হাসান সৈকত বলেন, 'আসলে আমরাতো কাজ করেছি শুরু করেছি নিজের ব্যক্তিগতভাবে, আমরা কখনো স্বীকৃতি পাব, এমন আশায় কাজ করিনি। তারপরও জাতিসংঘের মতো একটা জায়গা থেকে যখন স্বীকৃতি দেয়, তা অনেকবেশি অনুপ্রাণিত করে। এ স্বীকৃতি মানুষের জন্য আমার আরো দায়বদ্ধতা তৈরি করেছে।'

গত ১লা জুলাই দেশে জারি করা কঠোর লকডাউনে ক্ষুধায় কাতর মানুষের পাশে আবার দাঁড়ান সৈকত। কয়েক শ' মানুষ দুপুরের খাবার নিতে ভীড় করেন টিএসসি এলাকায়। গরম ভাতের সাথে গোশত, আলু, লাউ, কুমড়ো যেন অভুক্ত পেটে পৃথিবীর সব শান্তি এনে দেয়। সৈকতের এমন উদ্যোগে উপকারভোগী মানুষরাও ভীষণ খুশি।

কীভাবে শুরু এমন মানবিক কাজ, জানতে চাইলে সৈকত বলছিলেন, গত বছর প্রথম যখন সরকার লকডাউন ঘোষণা করলো, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবাই বাড়িতে চলে গেছে, ওই মুহূর্তে আমার মনে হলো, সব যখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শহরের কিছু প্রান্তিক মানুষ, খেটে খাওয়া শ্রমজীবী, দিন এনে দিন খায় কিংবা গৃহহীন মানুষ, ভবঘুরে, প্রতিবন্ধী, রাস্তায় বসবাস করে, এ মানুষগুলো কীভাবে বাঁচবে? এদেরতো আসলে ছোট কোন কাজ করে খাওয়া ছাড়া উপায় নেই। এ মানুষগুলোর জন্য চিন্তা থেকেই কাজটি শুরু করা। আর আরেকটি কথা হচ্ছে, আমি তো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, জনগণের করের টাকায় পড়াশোনা করি। সে হিসেবে সাধারণ মানুষের প্রতি আলাদা দায়বদ্ধতা তো আছেই।

'এই কাজটি প্রথমে আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুরু। আমার কাছে মাত্র ১৩ হাজার টাকা ছিল, সেটা নিয়ে আমি প্রথম মাঠে নেমেছি। আমি একটা জিনিস নিশ্চিত ছিলাম, ভালো কাজে কখনো আর্থিক সংকট বড় হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আমি আমার বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠী, শিক্ষক, পরিচিত মানুষদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাই। পরবর্তীতে সাংবাদিক, পুলিশ, রাজনীতিবিদ-সহ নানা পেশার মানুষ আমাকে সহযোগিতা করেছেন।'—বলছিলেন সৈকত।

এবারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'দ্বিতীয় লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় দুই বেলা প্রতিদিন মানুষকে খাবার দিচ্ছি। ঈদের পর ২৩ তারিখে আবার যখন লকডাউন আবার শুরু হবে, তখন আবার দুই বেলা করে খাওয়াবো। আপাতত পরিকল্পনা এতটুকু।'

শুধু এখানেই থেমে নেই সৈকতের মানবিক কাজ। উত্তরাঞ্চলে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় ভোলার চর ফ্যাশনের ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি পরিবারকে মাটির ঘর তুলে দিয়েছেন সৈকত। আর্ত মানুষের মাঝে দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী।

সমাজের বিত্তবানদের প্রতি দুঃস্থদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সৈকত বলেন, দরিদ্র মানুষের শ্রমে-ঘামেই চলছে আমাদের কলকারখানা, তাই কখনো এদেরকে বাদ দিয়ে কোন কিছু চিন্তা করা যায় না। বিত্তবানরা পাশে দাঁড়ালে এই কঠিন দুর্যোগের সময়ে তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x