বুয়েটের তৈরি দেশীয় ভেন্টিলেটর ডিভাইস

অক্সিজেট সিপ্যাপ শীগগিরই উৎপাদনে যাচ্ছে

মিলেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন
দেশীয় ভেন্টিলেটর ডিভাইস অক্সিজেট সিপ্যাপ
বুয়েটের গবেষক দল

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ করতে ও উচ্চগতির ভেন্টিলেশনের জন্য বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনয়ারিং বিভাগের তৈরি যন্ত্র 'অক্সিজেট সিপ্যাপ' উৎপাদন ও ব্যবহারের জন্য ‘সীমিত’ অনুমোদন দিয়েছে সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

প্রাথমিকভাবে যন্ত্রটির ২০০ ইউনিট উৎপাদন করে তা ব্যবহার করার অনুমতি মিলেছে। এ যন্ত্রের মাধ্যমে সাধারণ ওয়ার্ডেই উচ্চগতির অক্সিজেন সেবা পাবে করোনার রোগীরা। ফলে রোগীদের আইসিইউ তে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। মেডিকেল অক্সিজেন সাপ্লাই ও দৈত্ব-ফ্লো মিটারের সাহায্যে এটি প্রয়োজনে চাহিদার শতভাগ পর্যন্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবক দল। শীগগিরই এটি প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিমাণে উৎপাদন করা হবে।

এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘জরুরি ব্যবহারের জন্য স্বল্পসংখ্যক অক্সিজেটের (২০০ ইউনিট) সীমিত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহারের জন্য। এটি অনেকটা ট্রায়ালের অংশ। অক্সিজেটের পোস্ট–মার্কেটিং ভিজিল্যান্স (বিপণন-পরবর্তী সতর্কতা) করতে হবে। প্রত্যেক রোগীর তথ্য রাখতে হবে। দেখতে হবে যে এতে রোগীর উপকার হচ্ছে কি না, কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না কিংবা কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না। যন্ত্রটি আরও উন্নত করা যায় কি না, তাও দেখতে হবে। এই সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে বড় আকারে যন্ত্রটির অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

চিকিৎসা ও উদ্ভাবনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের হাসপাতালগুলোর সাধারণ বেডে রোগীকে প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ১৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দেয়া যায়। এ মাত্রায় রোগীর অবস্থার উন্নতি না হলে উচ্চগতির অক্সিজেন প্রবাহ (High-Flow) প্রয়োজন হয়। এরকম যন্ত্রের মধ্যে দেশে মূলত হাই-ফ্লো-নজেল ক্যানোলা রয়েছে যা আইসিইউ-এর বাইরে ব্যবহার করা বেশ ব্যয়বহুল। এছাড়া যন্ত্রটির ব্যবহার কৌশল জটিল হওয়ায় দক্ষ কর্মী ব্যতীত পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

তারা আরো জানান, রোগীদের উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন দেওয়ার জন্য বাজারে যেসব সিপ্যাপ ডিভাইস আছে, সেগুলোর দাম ১ লাখ বা তার চেয়ে বেশি। হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার দাম ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে অক্সিজেটের পুরো সেটআপ মিলিয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ পড়ে। এমনকি বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই ওয়ার্ডের ১৫/লিটার অক্সিজেন প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে বাতাসে মিশ্রিত উচ্চগতির অক্সিজেন পাওয়া যাবে। বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে এ খরচ আরও কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা। তাছাড়া অক্সিজেটের ব্যবহারকৌশল সহজ এবং এটি সহজেই যেকোনো জায়গায় বহনযোগ্য।

ঔষধ প্রশাসনের কাছ থেকে সীমিত অনুমোদন পাওয়ার বিষয়ে বুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষক দলটির প্রধান ড. তওফিক হাসান বলেন, ‘আমরা বুয়েটের পক্ষ থেকে অক্সিজেটের অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছিলাম। স্বল্প পরিসরে অনুমোদন পেয়েছি। কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অধীনে আবেদনটি করা হলে এ পরিমাণ আরও বাড়ত। অক্সিজেটের বড় আকারের অনুমোদনের জন্য আমাদের আরও কিছু পর্যায় অতিক্রম করতে হবে।’

২০২০ সালের জুলাই নাগাদ অক্সিজেট সিপ্যাপের প্রথম সংস্করণ তৈরি করা হয়। তবে সম্প্রতি বুয়েট উদ্ভাবিত এই যন্ত্রটি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন না পাওয়ায় বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অনীক আর হক আদালতের নজরে আনলে তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার পরামর্শ দেন হাইকোর্ট। পরে আবারও অনুমোদনের আবেদনের পর এটিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

প্রাথমিক অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শর্ত অনুযায়ী যেসব হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট আছে সেখানেই অক্সিজেট সিপ্যাপটি ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন ড. তওফিক হাসান। ২০০টি ডিভাইসের সফলতার হারের উপর এটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। ড. তওফিক আরও বলেন, অক্সিজেট সিপ্যাপ সফল হলে দেশের গবেষকরা উদ্বুদ্ধ হবেন।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x