করোনাকালে মানুষের পাশে 'টিম সাম্যতা আর্মি'

করোনাকালে মানুষের পাশে 'টিম সাম্যতা আর্মি'
করোনাকালে মানুষের পাশে 'টিম সাম্যতা আর্মি'

মহামারি করোনাভাইরাস যখন জীবন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি জীবিকাও কেড়ে নিতে শুরু করে, তখনি একদল শিক্ষার্থীর উদ্যোগে 'একত্রিত প্রয়াস, পরিবর্তনের আভাস' স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করে অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'সাম্যতা ফাউন্ডেশন'। যার প্রতিটি সদস্যকে ডাকা হয় 'টিম সাম্যতা আর্মি' বলে।

সংগঠনটির প্রথম উদ্যোগ ছিল ১০টি পরিবারকে তিনদিনের বাজার-সদাই করে দেওয়া। এরপরই চলে আসে রমজান মাস। এই এক মাসে ছয় শতাধিক মানুষকে সেহরি ও ইফতারের খাবার সরবরাহ করেছে তারা। রাজধানীর রামপুরায় একটি ধর্মীয় অনাথ শিক্ষাকেন্দ্রে ৩০ জন অনাথ শিশুর সঙ্গেও সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা একসঙ্গে ভাগাভাগি করেছে ইফতার।

মহামারিতে জনসমাগম না করে কার্যক্রম পরিচালনা একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি সদস্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করে যাচ্ছে তাদের মানবিক কার্যক্রম। 'সাম্যতা' ৫০ জন নিয়মিত সদস্যের একটি দল। এ ছাড়াও যুক্ত অনেকে। কেউ স্কুল, কেউ কলেজ, কেউবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি সেচ্ছাসেবী হয়ে মাঠ পর্যায়েও কাজ করে যাচ্ছে তারা। পেশাজীবীদেরও কেউ কেউ যুক্ত তাদের এই উদ্যোগের সাথে। নিজেরাই অনুদান দিয়ে, কখনো জমানো টাকায় পরিচালনা করছে তাদের স্বপ্নের কাজগুলো।

'সাম্যতা'র মূল লক্ষ্য ভিক্ষুক ও ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ার। তাই অসচ্ছল মানুষ বাছাই করে তাদের বাটখারা, বিক্রিযোগ্য তৈজসপত্র বা ব্যবসা সামগ্রী কিনে দেয়া তাদের মূল কাজ। অন্যান্য ইভেন্টকে সহ-কার্যক্রম হিসেবে পরিচালনা করছে তারা। মহামারির এই সময়ে ঢাকার নানা প্রান্তে জরুরি শিশু খাদ্য, কাচা বাজার, রান্না খাবার, চিকিৎসা চেকআপ ফি ও ওষুধ সামগ্রী সরবরাহ করেও অসহায় মানুষের পাশে থাকছে সাম্যতার স্বেচ্ছাসেবীরা।

সংগঠনটির দুজন প্রতিষ্ঠাতার একজন ইসমাত রহমান সায়েম। তিনি বলেন, "গত ঈদে আমরা 'কুরবানির খুশি ২০২১' নামে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট পরিচালনা করি। ঈদের এক বেলার খুশি হিসেবে প্রায় পনের শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত, ভাসমান এবং পথ শিশুকে খাবার সরবরাহ করেছি আমরা। বিনিময়ে আমরা পেয়েছি ক্ষুধার্ত বয়স্ক মানুষ আর শিশুদের অমলিন হাসি। সেদিন মনটা এত খুশি হয়েছে যে বিগত চারদিনের রাত জাগা সব ক্লান্তি নিমিষেই চলে গেছে।"

আরেকজন প্রতিষ্ঠাতা ইমতিয়াজ উদ্দিন সাকিব বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য অস্বচ্ছল মানুষকে সাবলম্বী করে তোলা। আমরা ইতোমধ্যে কয়েকজনকে ক্ষুদ্র ব্যবসার ব্যবস্থাও করে দিয়েছি। ইচ্ছা থাকলেও অনেক কাজ করতে পারি না শুধু ফান্ডের অভাবে। যেই প্রজেক্টগুলো আমরা ওকেশনালি করি ফান্ড থাকলে প্রতি সপ্তাহ এমনকি প্রতিদিন করতাম। আমাদের ইচ্ছাশক্তির কোনো ঘাটতি নেই। আমরা একটি ভেদাভেদহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই।"

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখন অনেকেই যুক্ত হচ্ছে সংগঠনটির সঙ্গে, এমনটাই জানালেন তারা।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x