তরুণ নির্মাতা সাকিব ফাহাদের 'লাফিং এলিফ্যান্ট'

তরুণ নির্মাতা সাকিব ফাহাদের 'লাফিং এলিফ্যান্ট'
সাকিব ফাহাদের 'লাফিং এলিফ্যান্ট'

ক্লোজআপ—কাছে আসার অসমাপ্ত গল্প, সিয়াম-সাফার Oppo F-19 Pro কিংবা এয়ারটেল রিচার্জ প্যাকের বিজ্ঞাপনগুলো দেখে আমরা কে না চমকিত হয়েছি! কারো মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছে এসবের চিত্রধারণের পেছনে কে বা কারা ছিলেন। 'Laughing Elephant' মিডিয়া প্রযোজনা কোম্পানি ইতোমধ্যেই তাদের কাজের মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। যে মানুষটার হাত ধরে কোম্পানিটা প্রতিষ্ঠার মুখ দেখে তিনি আর কেউ নন, সকলের চেনামুখ নাট্যকার, গল্পকার ও পরিচালক সাকিব ফাহাদ।

শৈশব থেকেই সিনেমা ভালোবাসতেন ফাহাদ। শুনতে অবাক লাগলেও, এই তরুণের ইচ্ছা ছিল কিছু না করেই জীবন কাটাবার। তা নিয়ে পরিকল্পনাও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু পর্দার পেছনের গল্পগুলো তাকে প্রতিনিয়তই অনেক বেশি আকৃষ্ট করত।

গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে কানাডা থেকে ফিরে আসেন ফাহাদ। এরপর বাংলাদেশের স্বনামধন্য পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার আদনান আল রাজীবের সাথে কাজ করেন তিনি। আদনান বেশিরভাগ টেলিভিশন বিজ্ঞাপন পরিচালনার জন্য পরিচিত হলেও, তাঁর হিট টেলিভিশন নাটকও রয়েছে। আদনানের সাথে কাজ করে ফাহাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন হয় কেননা তিনি সেই সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর সাথে কাজ করা ফাহাদকে টেলিভিশন বিজ্ঞাপন তৈরি ও ক্যামেরার পেছনে কাজ করার বিষয়গুলো শিখতে ও রপ্ত করতে অত্যন্ত সহায়ক হয়েছে।

২০১৪ সালের শেষ পর্যন্ত আদনান আল রাজীবকে সহযোগিতা করার পর ফাহাদ রানআউট ফিল্মসের (Runout Films) অধীনে পরিচালক হিসেবে ছোট ছোট প্রকল্পে কাজ শুরু করেন। পরবর্তী দুই বছর তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন এবং একইসাথে টেলিভিশন বিজ্ঞাপন পরিচালনার কাজও চালিয়ে গেছেন।

এরপর মা তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে বলায় এবং চিত্রনাট্য ও পরিচালনার প্রতি ঐকান্তিক ভালোবাসা থেকে প্রযোজক মৌমিতা হোসেনের সাথে ২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারি শুরু করেন নিজের ফিল্ম (বিজ্ঞাপন ধরনের) প্রোডাকশন হাউজ 'Laughing Elephant' (লাফিং এলিফ্যান্ট)। এরপর বন্ধুদের জন্য একটি পার্টি দিলেন এবং পরের মাসের ভাড়া পরিশোধ করার জন্য টাকা শেষ হয়ে যায়। তবে, যেকোনোভাবে তাঁরা বেঁচে যান এবং কাজ চলতে থাকে লাফিং এলিফ্যান্ট এর।

যেকোনো নতুন প্রকল্পের মতো, তাদেরও অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে তাঁরা থেমে যান নি। তাঁদের অদম্য প্রচেষ্টা আর অসাধারণ সব কাজের জন্য অল্প সময়েই বেশ পরিচিতি পেয়ে যায় কোম্পানিটি। ইতোমধ্যেই কোম্পানিটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের জন্য রবি, এয়ারটেল, জিএসকে, ইউনিলিভার, স্কয়ার, ম্যারিকোরের মতো বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর সাথে কাজ করেছে। সাথে ব্যাপক জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছে।

তাদের কিছু উল্লেখযোগ্য ক্যাম্পেইনের মধ্যে রয়েছে Senora Siblings যেখানে তাঁরা মাসিক সংক্রান্ত মুক্ত আলোচনা করেছেন এবং এই বিষয়ক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। আরও রয়েছে Apex Sprint ক্যাম্পেইন যেখানে ক্রীড়াবিদ জীবনধারা প্রদর্শন করার চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি তাঁরা সফলভাবে Airtel World Mental Health Day ক্যাম্পেইন‌ সম্পন্ন করেছেন।

ফাহাদ মনে করেন, বাংলাদেশে ফিল্ম তৈরির তাত্ত্বিক বিষয়গুলো জানতে আরও শিক্ষার সুযোগ তৈরি হওয়া উচিত। যেকোনো কাজ সফল ও মানসম্মতভাবে উপস্থাপন তাঁর কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। তবে এক্ষেত্রে তিনি তাঁর দলের সদস্যদের ডেডিকেশনের জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই মহামারি পরিস্থিতি তাদের কাজের ধারায় নতুন মাত্রা তৈরি করেছে। তাঁরা কিছু পরীক্ষামূলক কাজ করেছেন যেখানে বিভিন্ন পরিবারকে বলা হয়েছিল বাড়ি বসে ভিডিও করে জমা দিতে এবং সেগুলো জুড়ে দিয়ে তাঁরা খুব সুন্দরভাবে অনেকের মাঝে যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও, মহামারি তাঁদের ঘরে বসেও সফল নির্মাণ শিখিয়েছে ও কাজ আরও ডিজিটাল হয়েছে।

তাঁরা বিশ্বাস করেন, শুধু বেঁচে থাকাই নয়, একজন মানুষের বাঁচার জন্য হাসি আনন্দও আবশ্যক। মানুষকে বিনোদন দিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে মিডিয়ায় অসাধারণ সব কাজের মাধ্যমে সুনাম ও ভালোবাসা কুড়িয়ে এগিয়ে চলেছে 'লাফিং এলিফ্যান্ট'। ভবিষ্যতে ওয়েব সিরিজ তৈরি ও বড় পর্দার কাজের ইচ্ছা রয়েছে তাঁদের।

ইত্তেফাক/টিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x