দুরন্ত রাফিদের গল্প

দুরন্ত রাফিদের গল্প
রাফিদ এলাহি চৌধুরী

দুরন্ত মেধাবী রাফিদ এলাহি চৌধুরী পড়ছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। কাজ করছেন দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি সংবাদপত্রের কন্টেন্ট অ্যান্ড প্রোডাক্ট গ্রোথ লিড হিসেবে। তরুণদের প্লয়াটফর্ম 'তরুণ' এর সঙ্গেও কাজ করছেন হেড অব প্রোডাক্ট হিসেবে। পড়াশোনার পাশাপাশি কেমন করে সামলান এতকিছু, আলাপে জানালেন সেই কথা।

রাফিদ বলেন, আমি আমার পরিবারের বড় ছেলে। ছোটবেলায় অনেক দুষ্ট ছিলাম। প্লে-গ্রূপ থেকে এ-লেভেলস পর্যন্ত পড়ি মাস্টারমাইন্ড স্কুলে। ক্লাস ফাইভে থাকতেই আমি গল্প লিখতাম। আমার বন্ধুদের সাথে আমি এক ধরনেরর চুক্তি করতাম - আমি তাদের ইংলিশ অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে সাহায্য করবো এবং এর বিনিময় তারা আমাকে মজাদার টিফিন, পোকেমন কার্ড বা গেমের সিডি দিবে। ইংরেজিতে লেখা ভালো হওয়ার কারণে এমন অনেক হতো। চলচ্চিত্র এবং উপন্যাসের অনেক বড় ভক্ত হওয়ার কারণে যখন কিছু দেখতাম বা পড়তাম, আমার তখনি কিছু লেখার ইচ্ছা হতো।

মার্কেটিংয়ে আসা সম্পর্কে রাফি বলেন, ২০১৫ সালে যখন কলেজের ম্যাগাজিনে কোনোকিছু লিখতাম, তখন কীভাবে মানুষজনের কাছে সেই ম্যাগাজিন পৌঁছানো যায়, কিভাবে সেই ম্যাগাজিনের গ্রাফিক্স ভালো করা যায়, তা নিয়েও চিন্তা করতাম। আমি কমার্স এর স্টুডেন্ট ছিলাম। একসময় আমি কলেজে নিউজলেটার ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হই এবং আমি কমার্সের ছাত্রদের জন্য একটি বিজনেস ক্লাব প্রতিষ্ঠিত করি আমার বন্ধু বাইজিদ ও রাগিবকে নিয়ে। ২০১৭ সালে দ্য ডেইলি স্টারে কাজ করা শুরু করলাম, স্টার ইয়ুথ - এলিটা আপুর টিমে, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসাবে। ততদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। ডেইলি স্টারে থাকতে তাজদীন ভাই, শুভাশীষ ভাই, আরাফাত ভাই, ও সোনিয়া বশির কবির আপুর সাথে পরিচয় হয়। তাদের সাথে মিলেতরুণ নামক ইয়ুথ প্লাটফর্মটি প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করি। দ্রুতই প্রচুর জনপ্রিয়তা পাই আমরা।

রাফিদ স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ডকাপের ফাইনালে 'তরুণ' এর প্রতিনিধিত্ব করেন। আরো জানালেন, থিঙ্ক-কন্টেন্ট নামক একটি অনলাইন মার্কেটিং ম্যাগাজিন সহ-প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। একটি সামিট আয়োজন করেন, যেখানে বক্তারা অংশ নেন বিভিন্ন দেশ থেকে। এছাড়া ২০২০ সালে 'দ্য ট্রান্সিশন' নামক বই লিখেছেন তাজদীন হাসানের সাথে। ২০২১ সালে তাজদীন ও সোহানের সঙ্গে লিখেছেন 'পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং' বইটি।

পড়াশোনা চলাকালীন একটি প্রতিষ্ঠানের বড় একটা দায়িত্ব পালন করার ব্যাপারে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ছেলে রাফিদ বললেন, পরিবার থেকে আমি অনেক সাপোর্ট পেয়েছি। এক এক জনের ইচ্ছা এক এক ধরনের। কেউ কেউ চায় যে ইউনিভার্সিটি তে শুধু ভালো সিজিপিএ নিয়েই বের হবে, তাই অন্য কিছু করে না। কেউ কেউ চায় রিসার্চ পেপারে বেশি প্রাধান্য দিতে। আমি সব সময় আমার কাজকে বেশি প্রাধান্য দিতাম কারণ আমার বিশ্বাস, শুধু পড়াশুনা করলেই হবেনা, সেই শিক্ষা নিয়ে বাস্তবে কাজ করতে হবে। রাফিদ বলেন, আমি বিশ্বাস করি কোনো স্বপ্ন থাকলে মানুষ যতই হাসুক, নিজের আইডিয়াতে বিশ্বাস থাকলে স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হবেই।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x