সিমরিন লুবাবার হরেকরকম প্রতিভা

সিমরিন লুবাবার হরেকরকম প্রতিভা
ক্ষুদে তারকা সিমরিন লুবাবা

হাসিমাখা চেহারার মিষ্টি এক মেয়ের নাম সিমরিন লুবাবা। খুব অল্পবয়সেই বেশকিছু বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি নাটক ও সিনেমায় অভিনয় করেছে এই শিশুশিল্পী। দাদার অভিনয় দেখে এবং তাঁর অনুপ্রেরণায় প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো হয়। গান ও অভিনয়ের বাইরে সমাজের ছিন্নমূল মানুষের প্রতি রয়েছে লুবাবার অসীম ভালোবাসা। নিজের জন্মদিন বা অন্য সময় দাদীর রান্না করা খাবার বিলিয়ে দেয় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে। ভালোবাসে বই পড়তে।

হরেকরকম প্রতিভার অধিকারী ছোট্ট মেয়েটির নাম শুনেই হয়তো অনেকে বুঝে গেছেন কার কথা বলছি। প্রখ্যাত মঞ্চ ও টেলিভিশন অভিনেতা আব্দুল কাদেরের নাতনি এই সিমরিন লুবাবা। দাদার প্রতি ভালোবাসার জন্যও যে মেয়েটির রয়েছে আলাদা পরিচিতি।

বিএএফ শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে সিমরিন লুবাবা। ইতোমধ্যেই শিখে গেছে কয়েকটি ভাষা। লুবাবা জানায়, 'প্রতিমাসেই আমার অনেক কাজ আসে। করোনার মধ্যেও কাজ এসেছে। আমি চাই বেশি কাজ না করে, ভালো একটা নামকরা অ্যাডে কাজ করবো। বুঝেশুনে একটা ইন্টারেস্টিং গল্প, ভালো স্ক্রিপ্ট ও ভালো ডিরেক্টরের কাজ করবো। যেটা দেখে সবাই আমাকে মনে রাখবে।'

আপাতত এখন লুবাবার কাজ করা হচ্ছেনা। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ক্লাস, কোচিং, স্কুলের পড়া এবং পরীক্ষা এসব নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। এসব ব্যস্ততা শেষেই আবার অভিনয়ে ফিরবে সে। আর সবকিছু ঠিক থাকলে সামনের মাসে তুরস্ক ঘূরতে যাবে। বোঝা গেল, গান, অভিনয় কিংবা বই পড়া ছাড়াও ঘুরে বেড়ানোও লুবাবার পছন্দের কাজ।

সম্প্রতি লুবাবার প্রথম অডিও রেকর্ড 'মানিকে মাগে হিতে' বেশ সাড়া ফেলেছে। গানটি নেট দুনিয়ার অনেক মানুষ দেখেছেন। গানটি সবার ভালো লেগেছে ও সবাই পজিটিভ মন্তব্য করেছেন। এছাড়া ' আছেন আমার মোক্তার' নামে আরেকটি গান রিলিজ হয়েছে। লুবাবার প্রত্যাশা এটিও সবার ভালো লাগবে।

কয়েকটি ভাষায় গান গাওয়ার কৌশল রপ্তের ব্যপারে লুবাবা জানায়, 'আমি যে ভাষাতেই গান করি সেটা আমি অনেকবার শুনি। শুনে শুনে ভাষাটা রপ্ত করে নিই। একলাইন আগে ঠিক করে পরের লাইনে যাই। তামিল, কোরিয়ান, চাইনিজ যেকোন ভাষায় গান ভালো করে শুনলে গাইতে পারি। আসলে এভাবে গান শিখতে শিখতে ভাষার অনেক কিছুই জানা হয়ে গেছে। তাছাড়া কয়েকটা দেশের ভাষায় কথাও বলতে পারি।'

অভিনয় কোন মজার ঘটনা জানতে চাইলে এই ক্ষুদে শিল্পী বলে, অনেক আগে ওয়াটার পার্কে একটা টিভিসি করেছিলাম। অনেক হাই জাম্প দিতে হবে। তখন আমি ডিরেক্টরকে কনফিডেন্টলি বলেছিলাম 'আঙ্কেল আমার শটটা নিয়ে নেন, আমি ফ্লাইটে জাম্প করতে পারবো'। পরে যখন উঠলাম আমি তো ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে শেষ এতো উঁচু! শেষে ফ্লাইট দিয়েছিলাম। এটা আমার জন্য স্মরণীয় ছিল।

যখন দর্শক আমাকে বলেন, 'সিমরিন তোমার গানটা অনেক সুন্দর হয়েছে'। তখন আমার মনের মাঝে একটা ভালা লাগা কাজ করে। নিজের মধ্যে একটা সাহস কাজ করে। যারা আমাকে এত সুন্দর সুন্দর কমেন্ট করে তাদের জন্য আমার মন থেকে সবসময় ভালোবাসা থাকে। যারা আমাকে ও আমার কাজকে ভালোবাসে আমি তাদের জন্য আরো কাজ করতে চাই। দর্শক ও আমার দাদার দোয়ায় আমি এগিয়ে যাব, বলছিল লুবাবা।

লুবাবার প্রয়াত দাদা আব্দুল কাদেরের কথা জানতে চাইলে বিষণ্ণতার কন্ঠে বলে, দাদাই আমার সব ছিল। এখন তো আর দাদাকে পাচ্ছিনা। তবুও আমার স্বপ্নতে সবসময় দাদা থাকে। দাদার অভিনীত 'কোথাও কেউ নেই' আমার প্রিয় ছবি। কখনও মনে হয়না দাদা নেই। যখন হাঁটি তখন আমার ছায়াকেই মনে হয় আমার দাদা। দাদার সাথে সব মূহুর্ত আমার মনের মধ্যে গেঁথে আছে।

ভবিষ্যতে অনেক কাজ করার ইচ্ছা আছে লুবাবার। তবে মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখা একটি দুঃখের কথা জানা গেল লুবাবার কথায়, ‘দাদা বলেছিলেন, তার সঙ্গে আমিও কাজ করব, কিন্তু আমার প্রাণের দাদা তো এখন আর নেই। এই স্বপ্ন কখনো পূরণ হবেনা, কোনোদিন তাঁর সঙ্গে শুটিং করতে পারবো না। রোজ নামাজে বসে তাঁর জন্য দোয়া করি। এখন আমার ইচ্ছা দাদার মতো অভিনয়শিল্পী হবো’।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এই ক্ষুদে তারকা জানায়, 'আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি বড় হলে 'ল' তে পড়বো এবং বিচারক হবো। এছাড়া গান করার পাশাপাশি ভালো গল্প পেলে সমানতালে অভিনয় চালিয়ে যাবো।'


ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x