হামহাম জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার করল একদল শিক্ষার্থী

হামহাম জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার করল তারা
হামহাম জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার করেছেন বশেমুরবিপ্রবি'র পাঁচ শিক্ষার্থী

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীরে কুরমা বন বিট এলাকায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত হামহাম। জলপ্রপাতটি ২০১০ সালের শেষদিকে পর্যটন গাইড শ্যামল দেববর্মার সাথে দুর্গম জঙ্গলে ঘোরা একদল পর্যটক আবিষ্কার করেন। এরপর সারাদেশ থেকে ছুটে আসতে শুরু করেন পর্যটকরা। তবে অনেকেই পরিবেশ রক্ষায় সচেতন না হবার ফলে জলপ্রপাতের যত্রতত্র খাবারের প্যাকেট ও পানির বোতল ফেলে আসেন।

সম্প্রতি হামহাম জলপ্রপাত এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পাঁচ শিক্ষার্থী। তারা জলপ্রপাতের আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা দেখার পর সিদ্ধান্ত নিলেন নিজেরাই সেসব পরিষ্কার করবেন।

রাকিব মিয়া, রিফাত হোসেন, মিঠুন সাহা, তৌফিউল ইসলাম ও জুনেদ আহমেদ—পাঁচ বন্ধু মিলে শুরু করেন বর্জ্য সংগ্রহের কাজ। ঝর্ণার আশেপাশের পাহাড়ি উঁচুনিচু রাস্তা থেকে কুড়িয়ে সংগ্রহ করেন প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনের প্যাকেট, খাবারের বাক্স সহ বিভিন্নধরনের বর্জ্য। পরে সেসব একসঙ্গে জমিয়ে এলাকার স্থানীয় একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সহায়তায় অপসারণের ব্যবস্থা করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের স্বল্প পরিসরের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান সম্পর্কে রাকিব মিয়া জানান, ‘আমাদের এই কাজটির উদ্দেশ্য পর্যটন এলাকা পরিষ্কারের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি। আমাদের দেখাদেখি কেউ যদি তার ব্যবহার করা পানির বোতল যত্রতত্র না ফেলে সঙ্গে করে ফেরত নিয়ে যায়, তবেই আমরা সার্থক হবো।' দেশের বিভিন্নপ্রান্তে এখন পর্যটনের বিকাশ ঘটছে, তবে সেসব স্থানগুলোর পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারেও সকলকে সচেতন হতে হবে—এমনটাই মনে করেন ওই শিক্ষার্থীরা।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x