আন্তর্জাতিক মঞ্চে আইইউটি’র গৌরবোজ্জ্বল মঙ্গলযান ‘অভিযাত্রিক’

আন্তর্জাতিক মঞ্চে আইইউটি’র গৌরবোজ্জ্বল মঙ্গলযান ‘অভিযাত্রিক’
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মঙ্গলযান নকশা প্রতিযোগিতা ২০২১-এ ১১তম স্থান অধিকার করেছে আইইউটি মার্স রোভার ‘অভিযাত্রিক’ দল। বাংলাদেশি দল হিসেবে একমাত্র তারাই চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। নির্দিষ্ট কাজের জন্য মঙ্গলগ্রহে পাঠানো রোবটকেই মূলত রোভার বলা হয়ে থাকে। উক্ত প্রতিযোগিতায় দুইটি ধাপ থাকে। নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর নিয়মাবলী প্রকাশিত হয় এবং ৫২ দিন সময়সীমার মধ্যে রোভারের নকশা করে বিস্তারিত জমা দিতে হয়। পরবর্তী ধাপে পুরো কাজ সরাসরি উপস্থাপন করতে হয় এবং বিচারকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এটি প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় এবং বিশ্বের যে কোনো দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দলগতভাবে এতে অংশগ্রহণ করা যায়।

মার্স সোসাইটি সাউথ এশিয়া প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে এবং এবার বিশ্বের মোট ৩২টি দল এতে অংশগ্রহণ করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী দক্ষতা দিয়ে মঙ্গল গ্রহে ভ্রমণ উপযোগী রোবটযান নকশা করে থাকে।

গাজীপুরে অবস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, যা অধিক পরিচিত আইইউটি নামে। প্রতিষ্ঠানটির একঝাঁক স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর মিলনমেলা আইইউটি মার্স রোভার ‘অভিযাত্রিক’। পৃথিবীর গন্ডি পেরিয়ে মঙ্গল গ্রহে পা রাখার স্বপ্ন থেকে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে অভিযাত্রিক। সেই উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে তারা আন্তর্জাতিক নানা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এবং ক্রমেই ভারী হতে থাকে অর্জনের ঝুলি।

অভিযাত্রিক দলের কনিষ্ঠ সদস্য মোহাম্মদ সাদি মোবাশশির। এই অর্জন তাকে এতটাই আত্মবিশ্বাসী করেছে যে ইতোমধ্যে তিনি ‘ইউরোপিয়ান রোভার মেকানিক চ্যালেঞ্জ’-এ একটি একক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।

দৈনিক ইত্তেফাককে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে অভিযাত্রিকের বর্তমান দলনেতা আসিফ সাজ্জাদ বলেন, ‘রোবটিক্স আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র। দেশের শিক্ষার্থীরা এতে অনেক আগ্রহী এবং বিশ্বের নানা প্রতিযোগিতায় তারা প্রতিনিয়ত তাদের প্রতিভার প্রমাণ রেখে চলেছে। এক্ষেত্রে সকলের আরও নজর দেওয়া উচিত এবং আগ্রহী শিক্ষার্থীদের এ নিয়ে কাজ করা উচিত।’

দলের আরেক সদস্য মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন একজন স্পেস ইঞ্জিনিয়ার বা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করার। আর সেই লক্ষ্য সামনে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এই অর্জনে আমি খুবই আনন্দিত। নিজের দেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থাপন করতে পারাটা সবসময়ই গর্বের।’

রোবটিক্সের জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়। প্রায়ই একটি রোবট বা যে কোনো ইলেকট্রিক সিস্টেম অনেকবার ব্যর্থ হওয়ার পর কাজ করে। কিন্তু ব্যর্থতা সবসময়ই অভিজ্ঞতার অংশ। এটা মেনে নিয়েই এই ক্ষেত্রে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x