সব্যসাচী কন্যা ফাহিদা

সব্যসাচী কন্যা ফাহিদা
ফাহিদা সুলতানা রিপুঘ্ন

সুকান্ত ভট্টাচার্য কবিতায় বলেছিলেন, আঠারো বছর বয়স কোনো বাঁধা মানে না। বাঙালির মুখে মুখে নারীদের নিয়ে প্রবাদ রচে, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। ফাহিদার বেলায় দু'টোই প্রযোজ্য। বয়স সবে কুঁড়ি পেরুলো। পুরো নাম ফাহিদা সুলতানা রিপুঘ্ন। নামে যেমন ভিন্নতা, কাজেও। নোয়াখালী সরকারি কলেজে দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি।

অষ্টম শ্রেণীতে থাকতে হয়েছিলেন নিজ স্কুলের পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ও প্রথম মেয়ে স্কাউট লিডার। নেতৃত্ব দিয়েছেন নিজ জেলাকে। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার যেন বাঁধা থাকতো ফাহিদার জন্য। ব্যতয় ঘটেনি কলেজে উঠেও। নোয়াখালী মহিলা কলেজে থাকতে স্পোর্টসের সাথে সখ্যতা বাড়ে। হাই জাম্প, লং জ্যাম্প, জ্যাবলিন থ্রো, ডিসকাস থ্রো আর ব্যাডমিন্টনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ফাহিদা অভিন্ন পাঁচ ইভেন্টে জেলায় শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখেন অনার্সে উঠেও। করোনায় সব বন্ধ না হলে কথা ছিল বিভাগীয় পর্যায়ে লড়বার।

ফাহিদার নামের শেষাংশ 'রিপুঘ্ন'। রিপুঘ্ন শব্দের অর্থ বিনাসিনী। মানবসেবায় নিজেকে সঁপে দিতে চান মানুষের দুঃখ বিনাসের ব্রতে। সেবার ব্রতে মানবতার পথে স্লোগানকে সামনে রেখে বৃহত্তর নোয়াখালীতে পরিচালনা করছেন 'সার্ভিস ফর হিউম্যান বিয়িং অর্গানাইজেশন' নামক সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আছেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকায়।

স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেবার। পাঁচ ফিট চার ইঞ্চি উচ্চতায় উতরে গেলেও বাদ পড়েন ওজন স্বল্পতায়। তবে দেশের মানুষের জন্য কিছু করার তাড়না থেমে নেই। সংগঠনের মাধ্যমে এগিয়ে আসছেন। কাজ করেছেন ইউনিসেফের বিভিন্ন প্রজেক্টে। সংগঠন নিয়ে স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে বলেন, 'আমি হয়ত থাকব না সবসময়। কিন্তু এমন কিছু দেখে যেতে চাই, মানুষের সেবায় এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই যেন ভবিষ্যতে কোনো সংগঠনেরই প্রয়োজন না হয়। প্রতিটি মানুষ অন্তর থেকে এগিয়ে আসবে একে অপরের জন্য।'

দেশ ভ্রমণের শখ রয়েছে এই তরুণীর। চলতি বছরের জুন মাসে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছেন ভালোবাসার মানুষকে। স্বামীর সঙ্গে সাইকেলে চড়ে ৬৪ জেলা ঘুরবার পরিকল্পনা আছে। সংসার, সংগঠন, পড়াশোনা সব মিলিয়ে মেধাবী ফাহিদাকে সব্যসাচী বললে একরত্তিও বাড়িয়ে বলা হবে না।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x