বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

রমজানে পবিত্র কোরআন পাঠ 

রমজানে পবিত্র কোরআন পাঠ 
রমজানে পবিত্র কোরআন পাঠ।ছবি: সংগৃহীত

দ্রুতই রমজানের দিনগুলো চলে যাচ্ছে, তাই পুণ্যকর্মের কোন দিক বাদ দেয়া চলবে না। সবধরণের পুণ্যকর্মে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে হবে। সুনিয়ন্ত্রিত সুখাদ্য যেমন দেহকে সুস্থ, সবল ও আনন্দময় করে, তেমনি সুনিয়ন্ত্রিত ইসলামী রোজা আত্মাকে সুস্থ, সতেজ ও আল্লাহ প্রেমিকে পরিণত করে। এ মাসে মহান আল্লাহতায়ালা মহানবী বিশ্বনবী (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। তাই বলা হয় রমজান কোরআন নাজিলের মাস।

রমজানের সাথে পবিত্র কোরআন করিমের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেভাবে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে-‘রমজান সেই মাস যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন যা মানবজাতির জন্য হেদায়াতস্বরূপ এবং হেদায়েত ও ফুরকান (অর্থাৎ হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী) বিষয়ক সুস্পষ্ট প্রমাণাদি। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাসকে পায়, সে যেন এতে রোজা রাখে, কিন্তু যে কেউ রুগ্ন এবং সফরে থাকে তাহলে অন্য দিন গণনা পূর্ণ করতে হবে, আল্লাহ্ তোমারে জন্য স্বাচ্ছন্দ্য চান এবং তোমাদের জন্য কাঠিন্য চান না, এবং যেন তোমরা গণনা পূর্ণ কর এবং আল্লাহর মহিমা কীর্তন কর। এই জন্য যে, তিনি তোমাদেরকে হেদায়াতে দিয়েছেন এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৮৫)।

পবিত্র রমজান মাসেই মহানবী (সা.) আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে প্রথম বাণী লাভ করেছিলেন। এ রমজান মাসেই হজরত জিবরাইল (আ.) বছরের পূর্বে অবতীর্ণ হওয়া সমস্ত বাণী হজরত রসুল করিম (সা.)-এর কাছে পুনরাবৃত্তি করতেন। এ ব্যবস্থা মহানবী (সা.)-এর জীবনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

এছাড়া ‘মহানবী (সা.)-এর জীবনের শেষ বছরের রমজান মাসে হজরত জিবরাইল (আ.) পূর্ণ কোরআনকে মহানবী (সা.)-এর কাছে দু’বার পাঠ করে শুনান’ (বোখারি)। এ থেকে বুঝা যায়, রমজানের সাথে কোরআনের সম্পর্ক সুগভীর। এ পবিত্র মাসে রোজার কল্যাণ, আজ্ঞানুবর্তিতা এবং কোরআন পাঠ এইসব ইবাদত একত্রে মানবচিত্তে এক আশ্চর্য আধ্যাত্মিক অবস্থা সৃষ্টি করে।

এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) বলেন, ‘রমজান ও কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, খোদা! আমি তাকে পানাহার এবং কুপ্রবৃত্তি হতে নিবৃত্ত রেখেছি, তাই তুমি তার জন্য আমার সুপারিশ কবুল কর। আর কোরআন বলবে, আমি তাকে রাত্রে নিদ্রা হতে বিরত রেখেছি এবং তাকে ঘুমাতে দেয়নি, এ কারণে তার জন্য আমার সুপারিশ কবুল কর। তাদের সুপারিশ কবুল করা হবে।’(বায়হাকি)

আরো পড়ুন: হৃদয়ের পবিত্রতা আবশ্যক

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও রমজান মাসে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করতেন, কোরআন শরিফ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা ও গবেষণা করতেন। এমনকি প্রতিবছর মাহে রমজানে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) বারবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আল-কোরআন পুনরাবৃত্তি করতেন। এ সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে, তিনি বলেছেন, ‘রমজান মাসের প্রতি রাতে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) নবী করিম (সা.)-এর খেদমতে হাজির হতেন এবং তারা উভয়ই কোরআন তিলাওয়াত করে একে অপরকে শোনাতেন।’ (বোখারি)

আমরা যেহেতু রমজানের রোজাগুলো ঠিকভাবেই রাখছি, তেমনিভাবে যদি কোরআন পাঠের প্রতি এবং এর মর্মার্থ উপলব্ধি করার দিকে মনোযোগী হই তাহলে এ কোরআনই আমাদের সুপারিশের কারণ হবে। এছাড়া রোজা রেখে কোরআন করিম পাঠ করা, এর অর্থ বুঝতে চেষ্টা করা এবং এর অনুশাসনাদি পালন করার মাধ্যমে মানুষের আধ্যাত্মিক দর্শনশক্তি সতেজ হয়। আমরা যদি কোরআন পাঠ করি, চর্চা করি এবং এর শিক্ষার ওপর আমল করি, তাহলে শয়তানি চিন্তাভাবনা এবং মন্দ কাজ থেকে নিরাপদ থাকব।

আমাদের উচিত হবে, রমজানের দিনগুলোর নিজেদের ইবাদতে আমুল পরিবর্তন আনা এবং অধিক সময় ধরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা এবং এর শিক্ষার ওপর আমল করা।

লেখক: ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত