গুনাহ মাফের মাস রমজান

গুনাহ মাফের মাস রমজান
গুনাহ মাফের মাস রমজান।ছবি: সংগৃহীত

মহান আল্লাহপাকের অপার কৃপায় পবিত্র মাহে রমজানের ১৬তম দিনের রোজা আমরা অতিবাহিত করেছি। আমরা জানি, নিজেকে পরিবর্তন করার এবং পাপ ক্ষমার সর্বোত্তম মাস হল রমজান। রমজানের দিনগুলোতে আমরা যদি একান্তই আল্লাহর জন্য রোজা রাখি এবং নিজের দোষ-ক্রটির ক্ষমা চাই, তাহলে তিনি ক্ষমা করবেন, শুধু ক্ষমাই করবেন না বরং আমাদের পূর্বেকার সকল পাপও ক্ষমা করবেন বলে আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন।

যেমন হজরত আবু সাঈদ খুদার (রা.) বর্ণনা করেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘যখন কেউ রমজানের প্রথম দিন রোজা রাখে তখন তার পূর্বেকার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। এমনিভাবে রমজান মাসের সমস্ত দিন চলতে থাকে এবং প্রতি দিন তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা সকালের নামাজ থেকে শুরু করে তাদের পর্দার অন্তরালে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তার ক্ষমার জন্য দোয়া করতে থাকে’ (কানযুল উম্মাল, কিতাবুস সওম)। একবার মহানবী (সা.) বলেন, ‘ফেরেশতা রোজাদারের জন্য দিন-রাত এস্তেগফার করতে থাকে’ (মাজমাউজ যাওয়ায়েদ)।

এছাড়া হাদিসে এ বিষয়ে আরো বর্ণিত হয়েছে যে, হজরত আব্দুর রহমান বিন আওফ (রা.) বর্ণনা করেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ইমানের সাথে সোয়াব এবং এখলাসের সাথে ইবাদত করে সে নিজ গুনাহ থেকে এভাবে পবিত্র হয়ে যায় যেভাবে সেদিন সে তার মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম লাভ করেছিল’ (সুনানে নিসাঈ, কিতাবুস সওম)।

অপর একটি হাদিসে হজরত আবু আমামা বর্ণনা করেন, আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আরয করলাম যে, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন কোন কাজ বলে দিন যার মাধ্যমে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো। তখন হুজুর (সা.) বললেন, আবশ্যকীয় কর্ম হিসেবে রোজা রাখো। কেননা এটি সেই আমল যার কোন উপমা বা পরিবর্তন নেই’ (নিসাঈ, কিতাবুস সওম)।

অপর এক হাদিসে হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘যে বান্দা আল্লাহর পথে এক দিন রোজা রাখে আল্লাহতায়ালা তার চেহারা থেকে আগুনকে দূরে সরিয়ে দেন’ (সহি মুসলিম)।

মোটকথা যে ব্যক্তি রোজার হেফাজত করে এবং পরিপূর্ণ শর্তসাপেক্ষে রোজা রাখে আর এ দিনগুলো ইবাদতে রঙ্গিন করে তার জন্যই কেবল এই রোজা শয়তানী শক্তির মোকাবেলায় ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

আরো পড়ুন: রোজার কল্যাণে তাকওয়া লাভ

রমজান মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও যদি আমরা রমজানের দিনগুলোর ন্যায় আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকি তাহলে রমজানে অর্জিত ঢাল সব সময়ই আমাদেরকে শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করবে। কেননা এই ঢাল রোজাদারের নিকট বিদ্যমান থাকে।

আসুন না, আমাদের রোজাগুলোকে একান্ত নিষ্ঠার সাথে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই রাখি। আমরা যদি এমনটি করি, তাহলে একদিকে যেমন আমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন তেমনি আমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসেবেও পরিচয় লাভ করবো।

এছাড়া রমজানের ইবাদত আমাদের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি এবং বান্দার প্রতি এমন এক ভালবাসা সৃষ্টি করবে যার মাধ্যমে আমরা খুঁজে পাব জান্নাতের প্রশান্তি। শেষে এই দোয়াই করি, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন পবিত্র এই রমজানের মাধ্যমে আমাদের সকলের পাপ ক্ষমা করে দেন এবং আমরা যেন বছরের অন্যান্য দিনও আল্লাহপাকের ইবাদত আর তারই স্মরণে অতিবাহিত করতে পারি, আমিন।

লেখক: ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত