ওয়াজ মাহফিল ও দাওয়াতে তাবলিগের মেহনত

ওয়াজ মাহফিল ও দাওয়াতে তাবলিগের মেহনত
[ছবি: সংগৃহীত]

পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন, মানবজাতিকে হিদায়তের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য, অগণিত নবি এবং রসুল প্রেরণ করেছেন। বিশ্ব নবি হজরত মোহাম্মদ (স) বিনা হাদিয়াতে তায়েফের মাঠে ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে জুলুমের শিকার হয়েছিলেন। এমনকি রসুল (স)-এর পবিত্র শরীর মোবারক থেকে রক্তও ঝরে ছিল। রসুল (স)-এর দাওয়াত ছিল এই যে, সারা বিশ্ব মানব লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মদুর রসুলুল্লাহ-এর ছায়ার নিচে চলে আসুক। যাতে করে মানবজাতি ইহকাল এবং পরকালে শান্তি এবং কল্যাণকামী হয়ে যায়।

রসুল হজরত মোহাম্মদ (স) পায়ে হেঁটে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কলিমা তথা ইসলাম-ঈমানের দাওয়াত দিয়েছেন। নবি মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (স) নিজেই কাপড়ের ব্যবসা করতেন। মুসলিম জাতির আদি পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ) মিস্ত্রির কাজ করতেন অর্থাৎ গৃহ নির্মাণের কাজ করতেন। নবি হজরত ইদরিছ (আ) টেইলারিং অর্থাৎ কাপড় সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অর্থাৎ ধর্ম প্রচার তারা নিঃস্বার্থভাবে করেছেন। একে জীবিকা লাভের অবলম্বন বানাননি।

ধর্ম বিকশিত হয়, ধর্মের আলোর গুণে, তার হিদায়তের আলোর গুণে। হজরত শাহজালাল যখন ইয়েমেন থেকে বাংলাদেশে যান, তখন হজরত শাহজালালের ভাষা ছিল আরবি এবং বাংলাদেশের মানুষের ভাষা ছিল বাংলা। তিনি বক্তৃতায় কোনো চিল্লা-চিল্লি করেন নাই। হজরত শাহজালাল (রহ)-এর আধ্যাত্মিক আলোর পরশ দেখে দলে দলে লোকজন ইসলাম ধর্ম কবুল করে মুসলমান হয়ে যান। রসুলে পাক (স) বলেন, মাই ইউরিদুল্লাবিহি খাইরাই ইয়ুফাক্কিহহু ফিদ দ্বীন, অর্থাৎ আল্লাহ পাক যাকে ইচ্ছা করেন, তাকে ফিকাহ ফিদ দ্বীন দান করেন।

দাওয়াতে তাবলিগ বিশ্ব ইজতিমায় লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। সেখানে বয়ান হয় তাওহিদ, রিসালত এবং আখিরাত সম্পর্কে। বয়ান শুনে মুসল্লিদের অন্তর বিগলিত হয়ে যায়। তারা আল্লাহর দেওয়া জান ও মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বেরিয়ে পড়েন। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে মুবাল্লিগগণ মসজিদে মসজিদে দাওয়াতে তাবলিগের মেহনত করেন। তারা মসজিদ আবাদের মেহনত করেন। ওয়াজ মাহফিল হোক সেটার পক্ষে আছি আমরা। কিন্তু নিয়ম মেনে হোক। আল্লামা শব্দের পারিভাষিক অর্থ না জেনে অনেকে হয়ে যান আল্লামা। আল্লামা শব্দের পারিভাষিক অর্থ হলো আল-আল্লামাতু হুয়া মাহির ফি কুল্লিল ফুনুনাত। অর্থাৎ প্রতিটা ফন, বিষয় বা সাবজেক্টের ওপর গভীর নলেজ-জ্ঞান যিনি রাখেন তিনি হলেন আল্লামা।

ওয়াজ মাহফিলে বিনিময় গ্রহণ জায়িজ কি না? আল কোরআনের বাণী: এক. আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না, আমার যা পাওয়ার তা একমাত্র মহান আল্লাহর নিকট থেকেই পাবো (সুরায়ে শুআরা, আয়াত ১০৯)। দুই. নবিদেরকে অনুসরণ করো। অনুসরণ করো তাদের কে, যারা তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় বা প্রতিদান চান নাই (সুরায়ে ইয়াছিন, আয়াত ২০, ২১)। তিন. বলে দিন আমি তোমাদের নিকট এ জন্য কোন পারিশ্রমিক বা হাদিয়া চাই না। এটা (আল কোরআন) সারা দুনিয়ার মানবজাতির জন্য উপদেশ মাত্র (সুরায়ে আনয়াম, আয়াত ৯০)। চার. বলুন আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। যার ইচ্ছা সে তার রবের পথ অবলম্বন করবে (সুরায়ে ফুরকান, আয়াত ৫৭)। পাঁচ. হে কাওম, হে গোত্র, আমি বিনিময় চাই নাই। আমার হাদিয়া বা বিনিময় আমাকে আমার আল্লাহই দিবেন (সুরায়ে হুদ, আয়াত ৫১)।

মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে নবিওয়ালা কাজ দাওয়াতে ইসলামকে সহিহ শুদ্ধভাবে বিনা হাদিয়ায় শরীরের ঘাম ফেলে গোটা উম্মাহের নিকট পৌঁছে দেওয়ার তাওফিক দান করুন। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলের সহায় হোন।

লেখক: অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ, ঢাকা

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x