মাতৃভাষায় বিশুদ্ধ কথা বলা সুন্নাত

মাতৃভাষায় বিশুদ্ধ কথা বলা সুন্নাত
প্রতীকী ছবি

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে—‘তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে হলো আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের ভিন্নতা।’ (সুরা আর রূম; ২২)। অন্যত্র বলা হয়েছে—‘তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে শিখিয়েছেন ভাব প্রকাশের ভঙ্গি।’ (সুরা আর রাহমান; ৩-৪)। মাতৃভাষা চর্চার প্রতি গুরুত্বারোপ করে ইরশাদ হয়েছে—‘আমি রসুলগণকে স্বজাতির ভাষা দিয়েই প্রেরণ করেছি, যেন তারা আপন জাতিকে সুষ্ঠুভাবে বোঝাতে পারেন।’ (সুরা ইবরাহিম; ৪)

ইসলামের দাওয়াতের ক্ষেত্রে মাতৃভাষার সঙ্গে বিশুদ্ধভাষী হওয়াও জরুরি। হজরত মুসা (আ)-এর মুখে জড়তা ছিল। হজরত হারুন (আ) তার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধভাষী ছিলেন। তাই হজরত মুসা (আ) আল্লাহর কাছে দরখাস্ত করেছিলেন—‘আর আমার ভাই হারুন আমার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধভাষী, সুতরাং তাকে আমার সহায়ক হিসেবে আমার সঙ্গে নবুওয়াত দান করুন। সে আমাকে সত্য প্রতিপন্ন করবে। আমি আশঙ্কা করি তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে সাব্যস্ত করবে।’ প্রিয় নবী হজরত মুহম্মদ (স)-এর ওপর নাজিল হয়েছে আমাদের হেদায়াতের জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল কোরআনুল কারিম; আর তা হচ্ছে আরবি ভাষার সর্বাধিক বিশুদ্ধ রূপ। স্বয়ং নবিজিও (স) ছিলেন সবচেয়ে বিশুদ্ধ আরবিভাষী।

তিনি নিজেই বলেছেন—‘আনা আফসাহুল আরব।’ (আমি আরবের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক)। দৈনন্দিন জীবনে নবি (স) বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলতেন। ভাষার ব্যবহারে তিনি অশুদ্ধতা ও আঞ্চলিকতা এড়িয়ে চলতেন। এসব দিক বিবেচনায় উলামারা বলেন, নিজ ভাষায় বিশুদ্ধ কথা বলা সুন্নাত।

লেখক: ইসলামি গবেষক

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x