খোশ আমদেদ মাহে রমজান

খোশ আমদেদ মাহে রমজান
ফাইল ছবি।

১৪৪২ হিজরির আজ চতুর্থ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। একদিকে মহান আল্লাহর ফরজ বিধান রমজানের রোজা আমরা পালন করছি, অন্যদিকে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস থেকে আত্মরক্ষায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছি।

মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন যে, সেদিন কোনো মানুষ অন্য মানুষের জন্য কোনো কিছু করার ক্ষমতা রাখবে না (সুরায়ে ইনফিতার ৮২ :১৯)। যেমন দুনিয়া জগতের আজাব করোনা ভাইরাসের কারণে সবাই বলছে নাফছি নাফছি রোজে দুনিয়া। পাপাচার মানুষকে দোজখের উপযুক্ত করে তোলে। কিন্তু রমজান আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই পুরো দৃশ্যপট পালটে যায়।

রমজানের প্রথম দশকে মহান আল্লাহর অবারিত রহমত বর্ষিত হতে থাকে। রহমতের প্রথম ১০ দিন চলাকালীন রোজা পালনকারীর মধ্যে নবতর উপলব্ধি জাগ্রত হয়, রোজাদার তার কৃত পাপাচারের কথা চিন্তা করে মহান আল্লাহর নিকট অনুতপ্ত হয়ে মাগফিরাত কামনা করতে থাকেন, তখন মহান আল্লাহর রহমতের জোয়ারধারা প্রবাহিত হয়। মহাভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে এই মাসের তিনটি মুহূর্তের সদ্ব্যবহার করতে পেরেছে। আর দুর্ভাগা সে ব্যক্তি যে এই মাসটিকে হেলায় হারিয়েছে। আক্ষেপ তার জন্য।

রমজান মাসেই রয়েছে পরকালের সম্বল সংগ্রহের সুবর্ণ সুযোগ। তাদের জন্য যারা পরকালের জীবনের সফলতা কামনা করে। মাহে রমজান তাদের জন্য অত্যন্ত দামি, যে যতটুকু শ্রম দেবে সে ততটুকু কামিয়াব হবে। তাই তো বুদ্ধিমান মানুষ মাত্রই এ মাসটিকে মহাগনিমত মনে করে ইহকাল এবং পরকালের কল্যাণ লাভে সচেষ্ট হয়।

মাহে রমজানকে মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন এক বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল করেছেন। মাটির মানুষের ইহলৌকিক এবং পারলৌকিক উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে যখন তোহফা হিসেবে আসমানি বাণী এসেছে, তখনই এই রমজান মাসকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যেমন হজরত ইব্রাহিমের (আ.) ওপরে অবতীর্ণ ছহিফা প্রথম রমজানে নাজিল হয়েছে। হজরত মুসা (আ.)-এর ওপর তাওরাত কিতাব নাজিল হয় ছয় রমজানে। হজরত ইছার (আ.) ওপর ইঞ্জিল নাজিল হয় ১৩ রমজানে। আর সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকিতাব পবিত্র আল কোরআন নাজিলের সূচনা হয়েছিল রমজানুল মোবারকে।

লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ, ঢাকা

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x