রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের তাৎপর্য

রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের তাৎপর্য
[ছবি: সংগৃহীত]

রমজান মাস কোরআনের মাস। এ মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে। রমজানকে কোরআনের বসন্তকাল বলা হয়। বিশ্বমানবতার মুক্তির পথনির্দেশ হিসেবে রমজান মাসে কোরআন নাজিল করে আল্লাহ কোরআন ও রমজানের মধ্যে একটা সুগভীর সম্পর্ক তৈরি করেছেন।

রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াত, কোরআন চর্চা, কোরআনের গবেষণার একটি আলাদা স্বাদ রয়েছে। ব্যক্তিগত তেলাওয়াত ও তারাবির নামাজের তেলাওয়াতের মাধ্যমে প্রতিটি মুমিন হৃদয় এ মাসে জাগরিত হয়ে ওঠে। এই রমজান মাসেই অতীতের উম্মতগুলোর কাছে আল্লাহর হেদায়তের বাণী এসেছিল। তাওরাত, জবুর, ইঞ্জিল কিতাব আল্লাহ এ মাসে দান করেছিলেন।

এ দিক থেকে রমজান হচ্ছে মানবজাতির জন্য মহাকল্যাণ, পুরস্কার ও হেদায়তে ভরা মৌসুম। তাই রমজানে কোরআন পড়া ও শেখা এবং কোরআনের মর্মবাণী অনুধাবন করার মাঝে বড় এক নেয়ামত লুকিয়ে রয়েছে। অন্য মাসে কোরআন তেলাওয়াত করলে এক হরফে দশ নেকি, আর রমজানে তা বেড়ে হয় ৭০ নেকি। অতএব, আমরা এ সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করব না।

মুসনাদে আহমাদের এক বর্ণনায় এসেছে নবি করিম (স) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি আয়াত মনোযোগ সহকারে শুনল, তার জন্য বর্ধনশীল সাওয়াব রয়েছে; আর যে তা তেলাওয়াত করল, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য আলোকবর্তিকা হবে।’ পবিত্র মাহে রমজানে কোরআনুল করিমের বড় একটি হক রয়েছে। আর সে হকটি হচ্ছে—তাড়াহুড়ো না করে ধীরস্থিরভাবে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করা ও কোরআনের মর্মার্থ অনুধাবনের চেষ্টা করা। মুসনাদে আহমাদের এক বর্ণনায় এসেছে, নবি করিম (স) বলেন, ‘রোজা এবং কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশকারী হবে।

রোজা বলবে, হে আমার রব! আমি আপনার বান্দাকে দিনের বেলা পানাহার-কামাচার থেকে বিরত রেখেছিলাম। তার সম্পর্কে আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কোরআন বলবে, ‘হে আমার রব! আমি আপনার বান্দাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছিলাম। তার সম্পর্কে আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। আল্লাহ উভয়ের সুপারিশ কবুল করবেন।’

লেখক: বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের ধর্মীয় উপস্থাপক ও আলোচক

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x