অসুস্থ অবস্থায় রোজা: যা জানা জরুরি

অসুস্থ অবস্থায় রোজা: যা জানা জরুরি
প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত

কোন কোন অবস্থায় রোজা না রাখা বৈধ বা কোন কোন শারীরিক জটিলতায় রোজা ভাঙা যায়, সেটি জানা জরুরি। সাধারণত ইসলাম অনুমোদিত অপারগতা ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক কোনো মুসলমানের এই বিধান পরিত্যাগ করার অনুমতি নেই। তবে ইসলামে মানুষের শক্তি, সামর্থ্য ও সাধ্যের বাইরে কোনো বিধান দেওয়া হয়নি।

অতিবার্ধক্য অথবা যার চিরস্থায়ী রোগ আছে, যা অতীব কষ্টকর, তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। পরে কাজা আদায় করলেই চলবে। গর্ভবতী নারীর যদি গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে অথবা স্তন্যদায়ী মায়ের যদি রোজা দ্বারা তার নিজের বা তার শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে তিনিও রোজা না রেখে পরে সুবিধামতো সময়ে কাজা আদায় করতে পারবেন।

আবার অতিশয় বৃদ্ধের জন্য রোজা পালন জরুরি নয়। ইসলামে দুর্বল, বৃদ্ধ, নিরাময়হীন অসুস্থ, বার্ধক্যের কারণে দুর্বল নর-নারীর রোজা না রাখা বৈধ। কেউ সফরে থাকলে সেই ব্যক্তি রোজা থেকে বিরত থাকতে পারেন। তবে রোজা পালন করতে অপারগ হলে ঐ ব্যক্তি অন্য কাউকে দিয়ে কাজা আদায় করাবেন বা ফিদিয়া দেবেন।

রোগের কারণে ডাক্তার যদি বলে, এই রোজার কারণে রোগের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে বা সুস্থতা বিলম্বিত হতে পারে, তাহলে রাজা ভাঙা যায়। কিন্তু সামান্য অসুখ, যেমন- মাথাব্যথা, সর্দি-কাশি, অনুরূপ কোনো সাধারণ রোগ-বালাইয়ের কারণে রোজা ভাঙা জায়েজ নয়। রোজা পালনে রোগ বৃদ্ধি পেলে রোজা পালন করা অনুচিত।

কোন কোন চিকিত্সায় রোজা ভাঙে না: অনেক সময় রোগীরা একদিকে যেমন রোজা রাখতে চান, তেমনি অন্যদিকে রোগের কারণে বিভিন্ন ওষুধপত্র সেবন করাটাও বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়, যেটা না করলে তার জীবন বিপন্নও হতে পারে। রোজা রাখা অবস্থায় অনেক রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা অপারেশনও জরুরি হয়ে পড়তে পারে। যেমন ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ দেওয়া, ইনহেলার, রক্ত পরীক্ষা, এন্ডোস্কপি, কোলনোস্কপি, বায়োপসি ইত্যাদি করা- এগুলো রোজাদার রোগীর জন্য জরুরি হয়ে পড়তে পারে। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের দিনের বেলায় রক্ত পরীক্ষা করাসহ কোনো ধরনের ইনজেকশন, ইনসুলিন বা টিকা নিতে হতে পারে। এসব কারণে রোজা ভাঙে না। (ফাতাওয়ায়ে ওসমানি:২/১৮৬)। রোগীর চামড়া, মাংস, অস্থিসন্ধি ও শিরায় ইনজেকশন দেওয়া যাবে। শরীরে স্যালাইন নেওয়া যাবে। এতে রোজা ভাঙবে না। (আল ইসলাম ওয়াতিব্বুল হাদিস, পৃ. ২৮৫)। রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে বা নিলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। (ফাতহুল কাদির :৪/৩২৭)। পরীক্ষার জন্য রোগীর শরীর থেকে রক্ত নেওয়া যাবে।

নাকে স্প্রে বা হাঁপানি রোগীরা ইনহেলার ব্যবহার করতে পারবেন। অক্সিজেন অথবা অজ্ঞানকারী গ্যাস (এনেসথেসিয়া) নিলে রোজা ভাঙবে না (জাদিদ ফেকহি মাসায়েল :১/৮৮)। রোজা অবস্থায় চোখ, কান ও নাকে ড্রপ ব্যবহার করা যাবে। যদি ওষুধের স্বাদ মুখে অনুভূত হয়, সেক্ষেত্রে তা ফেলে দিয়ে কুলি করে ফেলা উচিত। (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি :১/২০৩)। চর্মের মলম, ক্রিম, অয়েন্টমেন্ট ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে।

হৃদরাগীরা বুকে ব্যথা হলে নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে বা ট্যাবলেট জিহ্বার নিচে নিতে পারবেন। এনজিওগ্রাম ও কার্ডিয়াক ক্যাথেটার করা যাবে। জরুরি কোনো অপারেশন প্রয়োজন হলে রোজা রাখা অবস্থায় করা যাবে। কিডনি অকেজো হলে রোগীর ডায়ালাইসিস করলে রোজা ভাঙবে না। লিভার বায়োপসি অথবা অন্য কোনো অঙ্গের বায়োপসি করলেও রোজা নষ্ট হবে না।

দাঁত তোলা, ড্রিলিং করা, মেসওয়াক বা ব্রাশ টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা যাবে, তাতে রোজা ভাঙবে না। মুখ পরিষ্কারের জন্য মাউথওয়াশ বা গড়গড়া বা মুখে স্প্রে-জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যাবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন পাকস্থলীতে কোনো কিছু না যায়।

ইত্তেফাক/এসজেড

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x