সুস্থ থাকতে পবিত্র সুন্নতি সামগ্রী ব্যবহারের বিকল্প নেই: রাজারবাগ দরবার শরীফ

সুস্থ থাকতে পবিত্র সুন্নতি সামগ্রী ব্যবহারের বিকল্প নেই: রাজারবাগ দরবার শরীফ
ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ থাকতে পবিত্র সুন্নতি সামগ্রী ব্যবহারের বিকল্প নেই- এ আহ্বান জানিয়ে সারাবিশ্বে এক বিশেষ প্রদর্শনী ক‌রে‌ছে রাজারবাগ দরবার শরীফের আন্তর্জা‌তিক সুন্নত প্রচার কেন্দ্র।

শ‌নিবার (৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সুন্নতি খাবার, তৈজসপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদসহ বিভিন্ন সুন্নতি সামগ্রীর প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা ক‌রেন তারা। প্রদর্শনীতে শতাধিক পবিত্র সুন্নতি সামগ্রী প্রদর্শিত হয়।

আলোচনা সভায় পবিত্র সুন্নত মুবারক জারীকরণে ঢাকা রাজারবাগ শরীফের শায়খ মুজাদ্দিদে আযম, সুলতানুন নাছীর, আওলা‌দে রসুল (সা:) এর অবদান তুলে ধরেন কলাম লেখক মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম এবং মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্রের অন্যতম গবেষক ও মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসার মুহাদ্দিছ মুহাম্মদ ফজলুল হক্ব।

এছাড়া ব্যবহারিক জীবনে পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার উপকারিতা এবং অপরিহার্যতা নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট গবেষক ও ফার্মাসিষ্ট এবিএম রুহুল হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দীক হাসান।

আলোচনা সভায় মুফতী সাইয়্যিদ মুহাম্মদ আব্দুল হালীম ব‌লেন, হযরত মোহাম্মদ (সা:) ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আমার পবিত্র সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করলো সে আমাকে মুহব্বত করলো। আর আমাকে যে মুহব্বত করলো সে আমার সাথেই পবিত্র জান্নাতে থাকবে।”

পবিত্র সুন্নতের উপকারিতা এবং অপরিহার্যতা নিয়ে বিশিষ্ট গবেষক, ফার্মাসিষ্ট এবিএম রুহুল হাসান বলেন, সুস্থ থাকতে পবিত্র সুন্নতি সামগ্রী ব্যবহারের বিকল্প নেই।

এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র হাদীস শরীফের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মৃত্যু ছাড়া এমন কোন রোগ নেই কালোজিরায় যার আরোগ্যতা নেই। (মুসলিম শরীফ: কিতাবুস সালাম: হাদীছ শরীফ নং ৫৬৬১)

রুহুল হাসান আরও বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী ক‌রিম (সা:) ইরশাদ করেন, তোমরা অবশ্যই চোখে ইসমিদ সুরমা ব্যবহার করবে। কেননা তা চোখের ময়লা দূর করে, দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় এবং চোখের পাতায় লোম গজায়। (ইবনে মাজাহ শরীফ: হাদীছ শরীফ নং ৩৪৯৫)

মুফতি মুহম্মদ ফজলুল হক্ব বলেন, একজন বান্দা-বান্দীর কামিয়াবী নির্ভর করে রসুল (সা.) এর অনুসরনের উপর। উনাকে যে যত বেশি অনুসরণ করবে সে ততবেশি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল (সা:) এর সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, রাজারবাগ দরবার শরীফের আন্তর্জাতিক মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্রে সর্ব প্রকার সুন্নতি সামগ্রী পাওয়া যায়। এছাড়া সারা দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ ও জেলাভিত্তিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্রের গাড়ি এবং অনলাইনে এসব সুন্নতি সামগ্রীর চাহিদা পেশ করা যায়।

প্রদর্শনীতে সুন্নতি দ্রব্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল পুরুষদের পোষাক: সুন্নতী কুম্মাহ বা টুপি, সুন্নতী কিনায়া, সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা, সুন্নতী ইযার বা লুঙ্গী, সুন্নতী সেলোয়ার, সুন্নতী ইমামাহ বা পাগড়ী, সুন্নতী মাথার রুমাল, সুন্নতী আবা বা জুব্বা, লিবাসুশ শীতা বা শীতকালীন পোষাক, সুন্নতী হুবরাহ বা চাদর, সুন্নতী খুফ্ফুন বা মোজা, সুন্নতী নালাইন বা সেণ্ডেল। মহিলাদের পোষাক: সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা, সুন্নতী সেলোয়ার, সুন্নতী ওড়না, সুন্নতী হিজাব বা বোরকা, সুন্নতী খুফ্ফুন লিলইয়াদ বা হাত মোজা, সুন্নতী খুফ্ফুন লিররিজলি বা পা মোজা, সুন্নতী না’লাইন বা সেণ্ডেল।

প্রসাধনী- সুন্নতী আতর বা সুগন্ধি, ইসমিদ সুরমা, তাসবীহ, মেসওয়াক, মেহেদী।

তৈজসপত্র: সুন্নতী প্লেট, সুন্নতী ক্বদহুন বা পেয়ালা, সুন্নতী লবনদানী, সুন্নতী সুফর বা দস্তরখানা, চামড়ার সুন্নতী মশক, খিলাইল, ধুন্দলের ছোবড়া, ঝামা পাথর। আসবাবপত্র: সুন্নতী সারীর বা চকি, সুন্নতী উইসাদাহ বা বালিশ, সুন্নতী চাটাই, সুন্নতী মিম্বর, সুন্নতী আসা বা লাঠি, হাতির দাতের সুন্নতী চিরুনী, পিতলের বদনা, মাটির পাত্র, সিককীন বা ছুরি।

পানীয়: মাউন বা পানি, হালীব বা দুধ, খল বা সিরকা, মধু বা আসাল, নাবীয বা খেজুরের শরবত। ফল-ফলাদী: তামর বা খেজুর, খুরমা বা শুকনা খেজুর, আনাব বা আঙ্গুর, যাবীব বা কিশমিশ, রুম্মান বা আনার/ বেদানা, তীন বা ডুমুর, যাইতুন, মাওযুন বা কলা, আপেল, সফরজল, বিত্তীখ বা তরমুজ, বরই।

শস্য ও ফসল: হাব্বাতুস সাওদা বা কালোজিরা, মেথি, কিছ্ছা বা শসা, কদু, কচু, ডাল, বীটরুট, ঘৃতকুমারী, বেগুন, লেবু, সরিষা, মিষ্টিকুমড়া, মাসরুম, হেলেঞ্চা শাক, মূলা, গাজর।

তৈল: জয়তুনের তেল, কালিজিরার তৈল, সরিষার তেল।

মসলা: পিঁয়াজ, মরিচ, রসুন, আদা, গোল মরিচ, মৌরী, ধনিয়া, জিরা, বাদাম, আখরোট।

খাবার: শায়ীর বা যব, বুর বা গম, রুযযুন বা চাল, মিলহুন বা লবন, যুবনাহ বা পনির, যুব্দাহ বা মাখন, সাওয়ীক্ব বা ছাতু, বাইদ্বা বা ডিম, চর্বি, মাছ, ভাত, লাহমুন বা গোশত, ছারীদ, তালবীনাহ, হাইসাহ্, হারীসাহ্, খ্বুবযুশ শায়ীর বা যবের রুটি, খুবযুল বুর্রি বা গমের রুটি, হালুয়া ইত্যাদি।

ইত্তেফাক/এসএ/টিএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x