বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭
৩২ °সে

আমিনুল ইসলামের একগুচ্ছ কবিতা

আমিনুল ইসলামের একগুচ্ছ কবিতা
অলঙ্করণ: আল নোমান

জোছনার আমন্ত্রণ

দো-দিল বিলবোর্ডের হাসি আছে জেনেও এভাবে লাইন কেটে দেয়ার

কোনো অর্থ থাকতে পারে কি না তার সম্ভাব্য জবাব নিয়ে আঙুল গোনে

পরিসংখ্যান; সে-জ্ঞানও কিন্তু আপেক্ষিকতায় আক্রান্ত। ভোরের দিগন্ত

আর গোধুলির আকাশ নিয়ে কি এমন সাফল্য আছে অর্থনীতি বিভাগের-

যাতে করে তুমি দুপুরের চোখ হয়ে সানগ্লাসে ঢেকে থাকো সারাদিন!

দ্যাখো- মোড়ে মোড়ে হোটেলের আধিক্য সত্ত্বেও ভিড়ের মধ্যে হেসে

ওঠে পথের পরাবাস্তব ঠিকানা! গোধুলিসত্য এই যে আমি এসে

দাঁড়িয়েছি চৌরাস্তায়, কিন্তু এও তো রোদসত্য যে

আমার অন্যপ্রান্তে- যতিচিহ্নহীন ভূগোলে- অবারিত জোছনার টি-স্টল।

সম্পাদনা

পান্তা বেশি না নুন কম- একথার উত্তর পেতে গেলে

খলনায়কের মন নিয়ে হেসে ওঠে দুর্ভাগ্য- তার চোখে

উপহাস-খচিত অন্ধকার; তো যেভাবেই হোক- কম বেশি

হয় বলে প্রতিদিন পান্তা ও নুনের অনুপাত দেখে দিতে হয়;

নুনের সঙ্গে নিমকহারামী নয়,- অথচ অ-দিন ঘন হলে

রাজনীতির মন নিয়ে ঝুঁকে যায় অনুপাত; অর্থমন্ত্রী

মানুক আর নাই না মানুক- নুনও তো অর্থনীতির মাল-

যার গায়ে চিকচিক করে যোগানের এনামেল অনিশ্চয়তা!

আর পান্তা যার তরল নিয়তি তাকে সমুদ্রইবা গ্রাহ্য

করবে কোন্ ফর্মুলায়! আমি সেই কারবারী- যার মাথায়

এল রবিনসন আর মানিবাগে উপচানো অসচ্ছলতা;

অতএব ঘাম ঝরে- ঘাম ঝরে- ঘাম ঝরে; ঝরা ঘামে পা

দিয়ে ভাঙা জমিদারবাড়ির মরিচা এসে জড়ায় পুরাতন

জ্ঞানের গায়ে; দ্যাখো- সম্পাদক সুদক্ষ, সম্পাদনাতেও

ঘাটতি নেই; কিন্তু প্রোডাকশন সুসম্পাদিত- একথা বলে না

কেউই; বলে না যে- সেটাও কণ্ঠভোটে ভেটোযোগ্য নয়।

কুড়ালের হাসি

চারপাশে কেউ নেই-

কেউ নেই চারপাশে

-এ প্রত্যয়ন

দশজন প্রত্যক্ষদর্শীর।

অতএব কুড়ালই হিরো।

আঁটি কাঁধে নিয়ে

ঘরে ফেরা- হুর রে...!

আর দ্যাখো-

কুড়ালের হাসি থেকে

ঝরে পড়ছে

বিবর্তনবাদের আলো!

সাপের সংখ্যা কমে আর বেড়ে যায় বিষ

আর লক্ষ্মীপেঁচার খোরাক জোটে না,

গোখরোরও প্রজনন বিপন্ন

এমনকী প্রাণীবিদের অনাদৃত চোখের নাগালে

দিনে দিনে শূন্য ভাষাহীন চিড়িয়াখানার কোলও।

অথচ আমরা আজ সর্বাঙ্গে দংশিত

নীল, কালো, বাদামি, মিশ্র, বহুবর্ণ বিষে

ভরে গেছে আমাদের সবুজ প্রাণের মূল।

আমাদের প্রাচীন বসত ঘিরে বিষ-বিষ গর্ত

এবং আজ হুমকিগ্রস্ত- সুদুর্লভ পাণ্ডুলিপি

অযুত হরফে লিখা ছয়রঙা প্রান্তরের সহস্র পাতায় ।

সাপ নয় তবু সাপ- রেকি করে প্রতিদিন

আমাদের সুস্বপ্নের প্রতিটি একাদশী- প্রতিটি পূর্ণিমা।

আর আমরা ভুলে গেছি- ওঝার মন্ত্রের স্বরলিপি।

সভ্যতার আপন অরণ্যে

নিরীহ হাঁটু ভেঙে গদগদ সুবোধ মিনতি-

‘কৃপা করবেন প্রভু,

আমরা আপনার নিতান্তই ভক্তকুল

এমনকি চান্স পেলেও কারও পাকাধানে

মই দিই না কখনো;

প্রভুর দায়ায় বাঁচি

প্রভুর দয়াতে মরি!’

না-দেখার ভানে রহস্য-নিশ্চুপ সময়।

ওদিকে দুষ্ট ও দুর্ধর্ষরা পথে পথে রচে

আরব-বুড়ির নিশীথ-প্রকল্প

এবং এখন আর বিস্ময়েরও কিছু নেই যে

প্রভাত হলে ফুল দিয়ে আসে সময়-

দুষ্টদের পদচিহ্ন আঁকা বিজয়স্তম্ভের গোড়ায়।

আর কে না জানে বিজয়স্তম্ভ মানেই

যাবতীয় ন্যায্যতার সোনালি স্মারক!

লেখা পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত