সৈয়দ আল ফারুকের একগুচ্ছ কবিতা

সৈয়দ আল ফারুকের একগুচ্ছ কবিতা
একগুচ্ছ কবিতা

ভালোবাসার বাঁচা-মরা

ভালোবাসা বেঁচে থাকে পরিচর্যা, মনোযোগ যত্নেই...

গন্তব্যে পোঁছুতে হলে বিকল্প আর কোনো পথ নেই!

পৃথিবী আমাকে চায়

কোনো কারণ ছাড়া, আমি একটা বোকার মতো কিংবা বিনা প্রয়োজনে একটা গাধার মতো পৃথিবীতে এক দিনও বেঁচে থাকতে চাই না। বরং আমি চাই চির-বুদ্ধিমান এই পৃথিবী তার নিজের প্রয়োজনে আমাকে বাঁচিয়ে রাখুক অনন্তকাল।

আমি চাইআমি তোমাকেই চাইএই কথাটা তোমাকে শত শত বার বলার চেয়ে তুমি যে আমাকে চাও মনেপ্রাণে সেই কথাটা তুমিই হাজার হাজার বার লক্ষ লক্ষ বার ঘোষণা দাও গণমাধ্যমে, জাতির উদ্দেশ্যে।

একটা বিরাট মাঠে একটা বড় ৎসবে সমবেত দর্শক-মণ্ডলীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ৎসবের গুণকীর্তন করে আমি কোনো গণসঙ্গীত পরিবেশন করতে ইচ্ছুক নই, আমি চাই মহান ৎসব তার সব আয়োজন নিয়ে আমাকে উদযাপন করুক আর আমার চারপাশে এঁকে দিক রঙধনুর সব রঙ, উড়িয়ে দিক বর্ণিল বেলুন-পতাকা।

কোনো নদীতে সাঁতার কাটতে চাই না আমি বরং আমি চাই পৃথিবীর সমস্ত নদীর সব উত্তাল ঢেউ আমার শরীরে এসে আছড়ে পড়ুক আর নদীগুলো সাঁতার কাটুক আমার আপাদমস্তক।

আমি পাড়ি দিতে চাই না কোনো তীরহীন মহাসমুদ্র, বরং আমি চাই ওই বিশাল সমুদ্রের মনে তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগুক অনন্ত-অসীম দৈর্ঘ্য-প্রস্থের জলাধার এই আমাকে পাড়ি দেয়ার জন্যে।

আমি চাই না হিমালয় পর্বতের সর্বোচ্চ চূড়ায় দাঁড়িয়ে গর্ব অনুভব করতেবরং আমি চাই আমার পদতলে দাঁড়িয়ে থাকুক হিমালয় আর আমাকে মাথায় তুলে সে উচ্চারণ করুক অহংকারী শব্দগুচ্ছ।

আমি পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে সুউচ্চ তীরের চূড়ার দিকে তাকিয়ে অনুগত ভৃত্যের মতো করজোড়ে প্রার্থনা করতে চাই না, আমাকে দাও চূডাতে ওঠার এক নিষ্কন্টক পথ। কিন্তু আমি চাই পাহাড় তার হাঁটু মুড়ে নীল ডাউনের ভঙ্গিতে পরাজিত সৈনিকের মতো আমার সামনে এসে আত্মসমর্পন করুক।

আমি চাই না ওই বিশাল আকাশে উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়াতে বরং আমি চাই ওই বিস্তীর্ণ আকাশ একটা পাখির মতো উড়তে থাকুক আর ঘুরতে থাকুক তারও চেয়ে বড় হৃদয়ের অধিকারী আমার অসীম বুকে।

আমি চাই না এই প্রবহমান বাতাসে গা এলিয়ে দিয়ে তার স্রোতে ভাসতে ভাসতে, ভেসে যেতে দূরে কোথাও। বরং আমি চাই, আমি হ্যামিলনের বংশীবাদকের মতো হেঁটে যাবো দূরদূরান্তে আর পৃথিবীর সব বায়ু্ তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে আমাকে অনুসরণ করবে অনন্তকাল, একাল থেকে সেকাল আর পরকালের পথ ধরে মহাকালের পথে অথবা মহাকালের পথ ধরে পরকালের পথে।

আমি মৃত্যুর এক মুহূর্ত আগে মরবো না

মৃত্যুকে আমি খুব ভয় পাই, কী ভীষণ ভয়!

মৃত্যুর ভয়ে আমি বিচলিত ভয়ে খুব ভীত।

তার কাছ থেকে যত দূরে থাকা যায় ততো

ভালো।

মৃত্যু এতোই নির্দয়, তার মায়া দয়া নাই!

প্রতিনিয়তই জীবন হত্যা করে যাচ্ছে সে!

মৃত্যু আমার দুচোখের বিষ দেখতে পারি না।

অমর হবার বাসনা নিয়েই এই সব লিখি।

জীবন গেলেও মরবো না আমি বেঁচে থাকবোই।

আমি মৃত্যুর এক মুহূর্ত আগে মরবো না।

যত দিন আমি বেঁচে আছি ততো দিন মরবো না।

আমি মরবো না আমি মরবো না মৃত্যু অবধি।

ভালোবাসা ভালোবাসে ভালোবাসাকে

আমি তোমাকে, তুমি তাকে কিংবা সে ওকে ভালোবাসে

এটা ঠিক নয়।

আসলে ভালোবাসা

ভালোবাসে ভালোবাসাকে।

আকাঙ্ক্ষা ইচ্ছাকে,

পিপাসা তৃষ্ণাকে, অপেক্ষা প্রতীক্ষাকে।

আর তাই তো আমি তোমাকে আর তাকে,

তুমিও তাকে আর ওকে

আর সে তোমাকে আর আমাকে ভালোবাসে।

আসলে আমরা কেউ কারুকে ভালোবাসি না!

ভালোবাসা ভালোবাসে ভালোবাসাকে।

আমি তুমি বা সে কেউ- গুরুত্বপূর্ণ নয় এখানে।

নো বডি ইজ ইম্পর্টেন্ট হিয়ার অ্যাট অল।

জায়গা-জমি ঘর-সংসার

যে বাড়িটা আমি খুঁজছি, খুঁজতে খুঁজতে আমি সে-বাড়িটা খুঁজে পেয়েছি, কিন্তু যে জায়গায় আমি যে-বাড়িটা খুঁজছি, এই বাড়িটা সেই জায়গায় নয়!

আবার যে জায়গাটা আমি খুঁজছি, সেই জায়গার চারপাশে যতগুলো যে যে গাছ থাকার কথা, সেই গাছ-পালাসমেত সেই জায়গাটা আমি খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু সেই জায়গায় আমি যে বাড়িটা চাই, সেখানে সেই বাড়িটাই নেই!

যে বাড়িটা আমি খুঁজছি, যত বড় সাইজের বাড়ি, ঠিক ততো বড় সাইজের বাড়ি আমি খুঁজে পাচ্ছি, কিন্তু বাড়ির ভেতরে যতগুলো রুম আমি চাই, খুঁজে পাওয়া বাড়িটাতে ততোগুলো রুম পাওয়া যাচ্ছে না।

আবার যে জায়গায় যত বড় সাইজের আর যত রুমের বাড়ি আমি চাইছি, ঠিক সেই জায়গায় ততো বড় সাইজের আর ততোগুলো রুমের বাড়িও আমি পেয়ে গেছি, কিন্তু প্রতিটি রুমের ভেতরে আমি যে রকম সাজসজ্জা চাইছি, খুঁজে পাওয়া রুমগুলোর ভেতরের সাজসজ্জা একেবারেই আমার মনের মতো নয়।

অবশেষে যে স্থানে যে আকারের যত কক্ষের যে সাজসজ্জার বাড়ি আমি খুঁজছিলাম, হুবহু তাও খুঁজে পেয়েছি, কিন্তু সে বাড়ির ভেতর কল্পনাতে যে-নারীকে আমি চেয়েছি, দেখি, সে-নারী নয়, বাস্তবে সেখানে বসে আছে অন্য এক নারী, সেখানে দাঁড়িয়ে আছে ভিন্ন এক নারী। সেখানে শুয়ে আছে আমার নিজস্ব নারী নয়, কোনো এক পরনারী!

সোনা

সোনা

এখানে একটুখানি

বসো না!

সোনা...

এদিকে আমার কাছে

আরো কাছে

আসো না

আমাকে একটু ভালো

বাসো না!

আসো না...

সোনা

আমাকে পাখির মতো

তোমার খাঁচায় কেন

পোষো না!

সোনা...

আমার কুটুকুটু!

এখন একটুখানি

মন খুলে হাসো না

আসো না!

কানে-কানে

কবিতা গানে গানে

তোমাকে শোনাবো আজ

কত কথা, কত সুর

কোনো দিন না-শোনা

আসো না!

সোনা

এখানে আমার কোলে

বসো না

তোমাকে অনেক ভালো

বাসি আমি

প্রকাশ্যে দেবো আজ

ঘোষণা

সোনা...

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত