বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭
৩৪ °সে

তিনটি কবিতা

তিনটি কবিতা
মৌলীনাথ গোস্বামী

জলচিঠিরা

কবে কোথায় কে যেন কে পত্র লেখে

অক্ষরেরা খামের ভেতর জল পাঠায়

সেই জলে জল আমার চোখেও ভরে ওঠে

চিঠির পাতা ইতির শেষে কাঁদিয়ে যায়

তাই বলে কি পত্র পড়া বন্ধ দেব

হৃদয় ছিঁড়ে আমিও কি আর লিখব না?

সমুদ্দুরের বিবেক লবণাক্ত হলে

সৈকত কি ঢেউপিওনের পথ দেখে না?

আমি তাকে চাঁদের নামে জ্যোৎস্না লিখি

সে- আমায় শিশির লিখে ডাক পাঠায়

আঁধার দিয়ে বন্ধ খামের হৃদয়পুর

শরীর মেলে পড়তে বসার অপেক্ষায়

আখর ছুঁয়ে পৃষ্ঠা তখন সামুদ্রিক

আমরা সবাই চিঠির নামে জল খেলি

কবে কোথায় কারা যেন পত্র লেখে

সব চিঠিরই শেষ ঠিকানা হৃদতলি...

মশারি

শৈশবে ধাঁধা বলেছিল কেউ, মেলেনি উত্তর

'ঘরের ভেতর ঘর!'

কুয়াশার মত

আজ রোজ রাতে নেমে আসে বিছানার 'পর

আঁধারের দেহ ছুঁয়ে হাওয়া ভেসে এলে মৃদু

টের পায় ক্লান্ত দিনের অস্থি

জানলার ওইপারে

বাগানের পাঁচিলের ধারে

নক্ষত্রের কলোনির মত বেলিফুল ফুটে আছে

জ্যোৎস্নার অভিলাষী তারাহীন বিছানাতে

স্বপ্নের শববাহি মশারির দলা হাতে

মধ্যবয়স আজও হাতড়ায় নিরুত্তর ভাবনা...

এতদিন মশারি টাঙাল তবু

কোনদিন খুঁট মিলল না!

ভাইরাস

ছিঁড়ে যাওয়া চটি, হয়ত বা খালি পায়ে

অনেক অনেক ক্রোশ কপর্দকহীন

অনিশ্চিত হয়ে গেলে দুই থালা ভাত

আর

ছেড়ে গেলে ঈশ্বরের হাত

হাঁটা দেয় মহাপ্রস্থান-

কাঁধে তার সংকটের জননী, জায়া, অবোধ সন্তান...

ধর্মহীন জাতীয় সড়ক

দিবারাত্রি নিরপেক্ষ বুক পেতে রাখে

অনিশ্চিত ভবিতব্যের হাতে, বাজি রেখে শেষ নিঃশ্বাস

নিজের ভিটির দিকে

হেঁটে যায় অসম্ভব প্রত্যাবর্তন

যে ফেরা মৃত্যুর চেয়ে ঢের বেশি বড়

যে ফেরা জীবনের চেয়ে ঢে- বেশি মূল্যবান!

রাস্তার ধারে

দিবা দ্বিপ্রহরে অথবা রাতের আঁধারে

রুটি বিতরণ করে যীশু খ্রিস্টের মত লোক

জল দেয়...

সে রুটির গায়ে শাস্ত্রের শ্লোক লেখা নেই

সেই জলের ফোঁটায়,

জাতীয় সড়কে

পৃথিবীর এই কুটিল মড়কে

তাবিজ কবচ রক্ষার আজ দায় নেই কারও!

সার্বজনীন হাওয়ায় উড়িয়েছে একটাই অভিলাষ-

বেঁচে থাকো

বেঁচে থাকো....

শৃন্বন্তু বিশ্বে আমরা ছড়িয়ে যাব

বাঁচবার আর বেঁচে থাকবার অবিনশ্বর ভাইরাস...

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত