একগুচ্ছ কবিতা

একগুচ্ছ কবিতা
ইন্দ্রনীল ঘোষের কবিতা

পর্ণমোচী

ধূ ধূ করছে নিঃশ্বাস

প’ড়ে থাকা জনপথ, মহল্লা, আলোমাখা রুটি…

মানুষের কথা বলার গন্ধ ভেঙে ভেঙে

বেতারতরঙ্গের এবড়োখেবড়ো পেরেক প’ড়ে আছে—

যেন কেউ খুলে ফেলেছে পৃথিবী

তার গিয়ার স্ক্রু বোল্টে গ্রিজ দিতে দিতে

ছেলে মেকানিককে ডাকছে বাবা মেকানিক…

শূন্যকে শূন্য দিয়ে গুণ করি

কবেকার এক পাতা ঝরার ঈষৎ লেগে সমস্তে…

কাজ

মানুষের কত কাজ

পাখি আঁকে রঙ দেয়

সাজিয়ে রাখে ঘরের অনায়াসে

চারিদিকে এত যে কবিতা

তার উচ্ছন্ন শব্দের থেকে, খুঁটে খুঁটে

ধান বার করে

গম বার করে…

মানুষের কত কাজ

অফিসে বাড়িতে

আমি শুধু সমস্তের মাঝে

গভীর শ্যাওলা শুনতে পাই

সমুদ্রের নোনা মন থেকে সাফিনার গুঁড়ো ঝরে

তার ঝ’রে পড়ার বিদেশি গুণ

কারা যেন কুটনো কোটে এ’ সময়ে

প্রতিদিন কারা যেন রান্না করে মেহেরুন্নিসা আগুনে

আমার কোনো কাজ নেই

আলোয় অন্ধকারে

শুধু এই কম্পন টের পাই— এলোমেলো

ভাতের গন্ধের মতো উদ্বায়ী আমি

নক্ষত্র

ওই নক্ষত্র…

অন্ধ শিকারি ব’সে আছে

সামনে ঝুলছে শিকার করা মাংস

অন্ধ তাকে গান শোনাচ্ছে —

বিয়ের গান, বিপ্লব, দেশপ্রেমের গান

হঠাৎই গুলির শব্দে

সমস্ত ফুল ফেটে ঝ’রে পড়ছে বসন্ত…

অন্ধ শিকারি ব’সে

এবং তার নক্ষত্র—

পৃথিবীর দিকে আচ্ছন্ন ঘুম জুড়ে নখের আঁচড়

রক্তের আলো ফুটছে একটু-একটু ক’রে

ফাঁস

প্রশ্বাসের ভিতর

একটা গন্ধ ফেঁসে আছে…

সারাক্ষণ টের পাই—

কত তারিখ যেন আজ…

এ’ বাড়িতে এখন আর কেউ থাকে না তবে?...

সারাক্ষণ টের পাই…

তেষ্টার প্রভা ক’মে এলে

নিভিয়ে দিই। ঘুমোই।

সেরে ওঠার আগে বড় নিরিবিলি হয়ে ওঠে জল

নবনীতার সব কাজের মধ্যে সেই পুকুরপাড় আমি সারাক্ষণ দেখতাম। সমস্ত পাখির ডাক জুড়িয়ে আছে যেখানে… অন্ধকারে পৃথিবী গুলিয়ে, সেখানেই হোঁচট খেতাম।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত