করোনায় পুলিশের অবদান নিয়ে বই ‘মানবিক পুলিশ এর প্রতিচ্ছবি’

করোনায় পুলিশের অবদান নিয়ে বই ‘মানবিক পুলিশ এর প্রতিচ্ছবি’
মানবিক পুলিশ এর প্রতিচ্ছবি। ছবি: সংগৃহীত

দেশে করোনাকালে ‘সম্মুখসারীর যোদ্ধা’ হিসেবে পুলিশের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অদৃশ্য এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে বাংলাদেশ পুলিশের সব বীরত্বগাঁথা কর্মকাণ্ড বই আকারে সম্পাদিত করলেন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার ডিবি (লালবাগ) মো. রাজীব আল মাসুদ (২৫ তম বিসিএস, পুলিশ ক্যাডার)। তিনি বইটির নাম দিয়েছেন ‘মানবিক পুলিশ এর প্রতিচ্ছবি’। পরিকল্পনায় রয়েছেন পুলিশের আইজিপি বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার) এবং তত্বাবধানে আছেন মো. মনিরুল ইসলাম, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)।

বইটি প্রকাশ করছে পেনসিল প্রকাশনী। প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, বিভিন্ন ধরণের বই প্রকাশ করলেও এবারই প্রথম করোনায় পুলিশের সব কর্মকাণ্ড নিয়ে এমন সংকলিত প্রকাশ হচ্ছে। এর বিষয়বস্তু এতটাই প্রাসঙ্গিক যে, আমরা আন্তরিকতা দিয়ে প্রকাশ করছি। আশা করছি, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বইটি প্রকাশ করতে পারবো।

‘মানবিক পুলিশ এর প্রতিচ্ছবি’-কে মহামারীর সময়ে পুলিশের ভূমিকায় ‘করোনাকালীন ইতিহাস বই’ এবং পুলিশের ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি’ হিসেবে মনে করেন রাজীব আল মাসুদ। তিনি বলেন, আবার যদি এ ধরণের মহামারী আসে জনগণ তখন বুঝতে পারবে করোনা সংকটে পুলিশ কিভাবে কাজ করেছে। তার সূত্র হিসেবে মানুষ বইটি থেকে পুলিশের সব কর্মকাণ্ড জানতে পারবে। তাই একে পুলিশের সাফল্যগাঁথা বইও বলতে পারি। আমি চাইবো শুধু শহর নয়, বইটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাঠাগার পর্যন্ত পৌঁছে যাক।

এ বইয়ে মোট ১৬টি অধ্যায় রাখা হয়েছে। আরও থাকছে পুলিশ হাসপাতালের প্লাজমা দান, করোনায় মৃত্যুবরণ করা মানুষদের দাফনে এগিয়ে আসাসহ পুলিশের সব মানবিক কাজ। থাকছে গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশংসা বাণী। এছাড়া পত্রিকায় প্রকাশিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার।

ডিবি কর্মকর্তা রাজীব আল মাসুদ বলেন, বইয়ে কোনো লেখাই আমার নয়। পুরোটাই সাংবাদিক, দেশবরেণ্য কলামিস্টদের তথ্যবহুল লেখা। সবগুলো নিউজই দেশের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বস্ত অনলাইন, প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিকস মিডিয়া থেকে নেয়া। বইয়ে তুলে আনা সবগুলো লেখায় শুরু থেকে কবে কোন গণমাধ্যমে এসেছে তার সূত্রও দেয়া রয়েছে। শেষ অংশে কিছু ছবি থাকবে। প্রতিটি ছবিতে থাকবে পুলিশের একেকটা গল্প ও অমানুষিক পরিশ্রমের ছাপ।

করোনায় পুলিশের ইতিবাচক ও প্রশংসিত কর্মকাণ্ডগুলো একত্রিত করে বই আকারে প্রকাশের পরিকল্পনা গত দেড় মাস আগে করেন ডিবি কর্মকর্তা রাজীব আল মাসুদ। সবকিছু সংগ্রহ করতে সময় মেধা শ্রম সবগুলোই দিতে হয়েছে। তার মতে, পুলিশ ভালো ভালো কাজের মূল্যায়ন হয় অনেক দেরিতে কিংবা অবমূল্যায়িত থেকে যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ হন পুলিশ। কিন্তু স্বাধীনতার ৪০ বছর পর এসে স্বাধীনতা পদকের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেয়া হয়। দেশমাতার জন্য এমন বড় বড় ক্রাইসিস পুলিশ জীবন বাজি রেখে সামাল দিয়েছে। দেশে যে কোনো ঘটনা ঘটার পর মানুষ সাধুবাদ জানালেও পরে আর বিস্মৃত হয়।

রাজীব আল মাসুদ বলেন, 'মানবিক পুলিশ এর প্রতিচ্ছবি' বইটি আর্কাইভ আকারে সাজিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছি, পুলিশ অনেক ভালো কাজ করে। দেশের যে কোনো বিপদে তারাই প্রথম ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশদের এসব কাজের প্রমাণগুলো দিয়েছে দেশের গণমাধ্যম। আমি শুধু শ্রম এবং সময় দিয়ে এগুলো একত্রিত করেছি। এটাই আমার প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য। যোগ করে তিনি বলেন, এ বইয়ের লভ্যাংশের বড় অংশ যাবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে শহীদ হওয়া পুলিশ সদস্যের পরিবারের সহযোগিতায়।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত