বিশ্বায়নের কবিতা লিখলেও দুলালের শেকড় জন্মভূমির নাড়িতেও প্রোথিত

বিশ্বায়নের কবিতা লিখলেও দুলালের শেকড় জন্মভূমির নাড়িতেও প্রোথিত
সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল (জন্ম: ৩০ মে ১৯৫৮)

কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আছেন প্রবাসে অথচ প্রবাসজীবন তাঁকে বৈদেশি বানাতে পারেনি আপাদমস্তক তিনি রয়ে গিয়েছেন খাঁটি বাঙালি, বাংলাদেশি

বসবাসের জন্য প্রবাসে শাখা-প্রশাখা ছড়ানো হলেও শেকড় থেকে কখনোই তিনি বিচ্ছিন্ন হননি এখন বিশ্বায়নের কবিতা লিখলেও তাঁর শেকড় জন্মভূমির নাড়ির সাথেই প্রোথিত

কবি দুলাল বরং প্রবাসজীবনের নানা অনুষঙ্গ ব্যবহার করে তাঁর কবিতাকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন মাত্রা পেয়েছে আন্তর্জাতিকতায় কখনো কখনো স্বদেশ বিদেশের নানা বিষয়আশয় দ্রবীভূত হয়েছে তাঁর কবিতায় মানুষ যা চিন্তা করে অথচ প্রকাশ করতে পারে না, তাকে তিনি নিজের মধ্যে নিপুণতার সাথে ধারণ করেন আর প্রকাশ করেন এমনভাবে যেন হিব্রু বা মেন্ডারিন ভাষার বাংলা অনুবাদ আমরা পেলাম

কবিতা নিয়ে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন তাঁর নিকট সময়ে লেখা কবিতাগুলো এর সাক্ষী খোয়াবনামা, নারীর মাংস, ভূমিকম্প, মাছমন্ত্রী, তুলসি, কুমির, বিবাহসমগ্র, নভেরা, হিজড়া সাহিত্য, ইউনিয়ন, আলিফ, আওয়াজ এসব কবিতা পাঠ করতে করতে সমকালীন চিন্তার বাইরে চলে যাওয়া যায় মনে হয় যেন তিনি শতবর্শ আগে থেকে শতবর্ষ পরের কবিতা লিখছেন একবিংশ শতাব্দীতে

কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদের কবিতার চমৎকারিত্বের একটি উদাহরণ হলো এই যে, সবাই যখন মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কবিতা লিখেন; তখন তিনি উল্টোভাবে মাকে বলেন, আমি তোমার সন্তান বলেই তুমিমা হতে পেরেছো

সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জননী এবং সন্তানের পারস্পরিক ঋণটা কবিতায় সমান্তরাল করে তোলেন তিনি এভাবেই তাঁর কোনো কোনো কবিতার ধারা কিছুটা- এন্টি পয়েট, এন্টি সেক্স, এন্টি লাভ এবং গ্রন্থের নামকরণেও তার বৈপরীত্য প্রতিফলিত হয় এবং কাব্যগ্রন্থ থেকে আরেকটি কাব্যগ্রন্থ আলাদা যেমন, তাঁর সর্বশেষ তিনটি কাব্যগ্রন্থসঙ্গমের ভঙ্গীগুলো, ‘তিন মিনিটের কবিতা এবংআমার সাথে শেখ মুজিবের দেখা হবে আজ একটি থেকে আরেকটির দৈর্ঘ্য, দূরত্ব, পার্থক্য খুব সহজেই অনুমেয়

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল একদিকে যেমন সহজ-সরল-সাবলীল ভাষায় লিখেন তেমনি তিনি জন্ম দেন প্রতীকী, রূপক রহস্যময় এবং জটিল কবিতা; এক কবিতার ভেতর যেন একাধিক কবিতা! আবার একটি কবিতা থেকে আরেকটি কবিতার বিষয়বস্তু, ব্যঞ্জনা, উপস্থাপনার দূরত্বও পাঠকদের সুদৃষ্টি কাড়ে

অন্তর্মুখী এই কবি অন্তরালে থেকেই প্রতিদিন বাংলা সাহিত্যকে, বিশেষত আধুনিক বাংলা কবিতাকে যেমন সমৃদ্ধ করছেন তেমনি সাহিত্য নিয়ে তাঁর গবেষণার কাজটিও চলে অহর্নিশি কবিতার পাশাপাশি তাঁর গবেষণামূলক কাজও কম নেই তিনি যেমন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা করছেন তেমনি তিনি ৭১-এর যুদ্ধশিশু নিয়ে কাজ করছেন

কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি এবং মূল্যায়ন হয়নি বলে আমার বিশ্বাস সঠিক মূল্যায়ন হলে তিনি যতটা না সম্মানিত হবেন, তার চেয়ে অধিক সম্মানিত হবে বাংলা সাহিত্য

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x