আলীম হায়দারের ‘স্বপ্নলোকে সন্ত্রাস’ (৩)

আলীম হায়দারের ‘স্বপ্নলোকে সন্ত্রাস’ (৩)
অলঙ্করণ: রওশন রাহাদ

স্বপ্নলোকে সন্ত্রাস ১১

পাহাড়ের ওজনে কাঁপে না ধরণী

পোড়ায় না লাভা—অগ্নিগিরি

ঝর্ণায় ভিজে ভিজে কাঁদে না পৃথিবী

সমুদ্রের রোদ সবাক ঝিকিমিকি

তুমি মনুষ্য এলেই বিমর্ষ হয় রুদ্রাণী অনিল

আত্মাহুতির পথে ধীমান ধরণী ব্যথায় নীল

*********************************************************

স্বপ্নলোকে সন্ত্রাস ১২

রাতের আকাশ ঘুমায় নিরালা অন্ধকারে—

আমাদের জেগে থাকা চোখ তারায় জ্বলে

স্বপ্নলোকে সন্ত্রাস ১৩

নিঃসঙ্গ হৃদয়ের চেয়ে নিভৃত পাদপীঠ আর নাই

একাকীত্বকে আশীর্বাদ জেনে প্রার্থনা করো তাই

শব্দহীনতার মিছিল শোনো

প্রতিধ্বনি খোঁজো খান খান শূন্যতার-

সুখী হও দুঃখের সলতে জ্বলা সোনালি আগুন

বিস্মৃতের ঘোর কাটানোর পর ফিরুক দমদমে ফাগুন

নীরবতার হর্ষধ্বনি কিছুটা বোঝো

কর্ণকুহরে ভজো নিভৃতের চাপানউতোড়-

বুকের বর্ম থেকে বের করে দাও নোংরা পচা শাঁমুক

রঙের সরোবরে একাকী ডুবে যাও— যে যাই বলুক।

*********************************************************

স্বপ্নলোকে সন্ত্রাস ১৪

স্বর্গের রাস্তা এই বুকের ভেতর, হৃদয়থলিতে—

কোলাহলমুখর সময়জুড়ে নিঃসঙ্গ যাত্রাপথ

কেউ নেই সাথে, আগেও ছিল না, থাকে না কখনো

জীবনের দৌরাত্ম্য জীবনকে খেয়ে ফেলে

এরপর মৃত

মরা মন আমাদের

অথচ মুখোশে সাজি প্রতিনিয়ত

অলৌকিক ট্রেনের শব্দ নেই কোনো—

স্টেশনের কোলাহল পেরোনোর পর নিথর আঁধার

সোজা রাস্তায় তিন ঘণ্টার পথ বাকি আছে মাত্র

কিন্তু আরও সাত ঘণ্টার পাথার ঘুরে গাইবান্ধা পৌঁছাব

স্বর্গের রাস্তা আর রেললাইন অনেকটা একইরকম

ঘুর পথে যেতে হয়—

প্রান্তর প্রান্তরে হৃদয়ের কষ্টি মেপে তারপর গন্তব্য

বুকের মধ্যে রেল চলে অবিরত রেলের মধ্যে আনন্দ!

রেল লাইনের অন্ধকারে থামে না দীর্ঘশ্বাসের শব্দ।।

স্বপ্নলোকে সন্ত্রাস ১৫

স্বপ্নের ভেতরে দেখি ঘুমন্ত নিজেকে—

সেই ঘুমে দেখেছি স্বপ্নে

নিজেকে জেগে থাকতে

এরপর বুঝেছি স্বপ্ন এবং ঘুম দুটোই ফিকে

সিগন্যাল আসে অন্যআলোক থেকে

আমরা শুধুই মিডিয়াম, জাস্ট একটা এন্টেনা

স্বয়ং পৃথিবী খেলে জেগে থাকার খেলা।

ইত্তেফাক/জেএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x