ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৯ °সে


ভারতের আধার প্রকল্পে যুক্ত হলো টাইগার আইটি

ভারতের আধার প্রকল্পে যুক্ত হলো টাইগার আইটি
ছবি: ইত্তেফাক

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সফটওয়্যার সরবরাহকারী টাইগার আইটির বায়োমেট্রিক সফটওয়্যার (এসডিকে) ব্যবহার করা হচ্ছে এবার ভারতের আধার প্রকল্পে। এই সফটওয়্যারটি ব্যক্তির তথ্যকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিতে সক্ষম বলে ভারতের উচ্চ আদালত স্বীকৃতি দিয়েছেন। টাইগার আইটির এই সফটওয়্যার সম্পর্কিত হার্ডওয়্যারটি তৈরি করেছে রেনেঁসাস সেমিকন্ডাক্টর। প্রতিষ্ঠানটির বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার এ এইচ এম রাশেদ সরওয়ার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তারা বলেছে, প্রযুক্তি একজন মানুষকে সুফল দেওয়ার পাশাপাশি সেই ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ অবস্থায় ব্যক্তির তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ছে। তারা ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে শুধু সামাজিকভাবেই হেয় করছে না, একই সঙ্গে সেই ব্যক্তির ব্যাংক এবং ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত তথ্যও চুরি করে নিচ্ছে।

বিশ্বের সব চেয়ে বেশি সংখ্যক বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহে রাখা আছে ভারতের জাতীয় আইডি প্রকল্প আধার এর কাছে। ভারত সরকার আধারের বায়োমেট্রিক তথ্য অন্যান্য সেবাসমূহের সঙ্গে দাখিল করা বাধ্যতামূলক করে যে নির্দেশ দিয়েছিল, নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে অ্যাপেক্স আদালত তা খারিজ করে দেন।

আদালত বলেছেন, তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ব্যক্তির আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ নেওয়া হচ্ছে-হ্যাকারদের পক্ষে এর সবগুলিই চুরি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে ব্যক্তির ব্যাংক ও বীমা সংক্রান্ত তথ্য চুরি হতে পারে। এই সমস্যা মোকাবিলায় টাইগার আইটি একটি সফটওয়্যার এবং রেনেঁসাস সেমিকন্ডাক্টর একটি হার্ডওয়্যার ডিভাইস তৈরি করেছে, যা আধার প্রকল্পের তথ্যের নিরাপত্তার ঘাটতিপূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

টাইগার আইটির বিজ্ঞানী মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডিভাইসটি এনআইএসটি সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত বায়োমেট্রিক এসডিকে এবং অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশন দ্বারা সুরক্ষিত। এর নিরাপত্তা ভেদ করা হ্যাকারদের পক্ষে অসম্ভব। এটির ব্যবহারে অথেনটিকেশন প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রতারকরা কোনো বায়োমেট্রিক ডাটা অ্যাক্সেস করতে পারবে না।

ভারত এবং বাংলাদেশ ছাড়াও ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইইউ দেশগুলোও নানাবিদ কারণে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করছে। টাইগার আইটি আশা করছে, দেশগুলোতে ব্যক্তির তথ্যের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই সফটওয়্যার ও ডিভাইস রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটি ইতিপূর্বে বাংলাদেশের ভোটার তথ্য সংরক্ষণে ই-সেবা ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আনুমানিক দেড় হাজার প্রকল্পে টাইগার আইটির সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যের ড্রাগ লাইসেন্স প্রজেক্টেও টাইগার আইটির সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান রেনাসাস সেমিকন্ডাক্টর। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে জাপানের এনইসি কর্পোরেশনের সঙ্গে একীভূত হয়ে কাজ করছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন