ডুডলে জয়নুল আবেদিনকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে গুগল

ডুডলে জয়নুল আবেদিনকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে গুগল
ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মদিন উপলক্ষে সার্চ ইঞ্জিন গুগলের হোমপেজে ডুডল প্রদর্শন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে গুগলে (www.google.com) গেলে বা সরাসরি (www.google.com.bd) ঠিকানায় ঢুকলে চোখে পড়বে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে নিয়ে করা ডুডলটি। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০৬তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতেই গুগল এ ডুডল প্রদর্শন করছে।

এতে দেখা যাচ্ছে একটি গাছের নিচে বসে তুলি হাতে ছবি (গুগল লেখা) আঁকছেন জয়নুল আবেদিন এবং পাশ দিয়ে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছে কাঁধে কলস বহনকারী এক ব্যক্তি। যার পোশাকে ধরা পড়ে দুর্ভিক্ষের ছাপ।

ডুডলের ওপর ক্লিক করলে জয়নুল আবেদিনকে নিয়ে গুগলের নানা অনুসন্ধানের ফলও দেখা যাবে।

বরেণ্য এই শিল্পীর ১৯১৪ সালে ব্রহ্মপুত্রের তীরে অবস্থিত ময়মনসিংহ জেলায় জন্ম হয় এবং ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, মানুষের দুর্দশা, কষ্ট ও সংগ্রামই ছিল জয়নুল আবেদিনের চিত্রকর্মের প্রধান উপজীব্য বিষয়। তিনি এঁকেছেন ১৯৪৩ সালের ‘দুর্ভিক্ষের রেখাচিত্র’, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ‘নবান্ন’, ১৯৭০ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে লাখো উপকূলবাসীর মৃত্যুতে ‘মনপুরা’র মতো হৃদয়স্পর্শী চিত্র।

শিল্পীর কালজয়ী শিল্পকর্ম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিপুল প্রশংসা ও স্বীকৃতি লাভ করেছে। অসাধারণ শিল্প-মানসিকতা ও কল্পনাশক্তির জন্য তিনি ‘শিল্পাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত হন।

তারই উদ্যোগে ১৯৪৮ সালে ঢাকা আর্ট কলেজ (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং শিল্পাচার্য জয়নুলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৭৫ সালে সোনারগাঁয়ে লোকশিল্প জাদুঘর প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ময়মনসিংহে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা গ্যালারি। মাত্র ষোল বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে তিনি বন্ধুদের সাথে কলকাতায় গিয়েছিলেন শুধুমাত্র কলকাতা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখার জন্য।

কলকাতা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখে আসার পর সাধারণ পড়াশোনায় জয়নুল আবেদিনের মন বসছিল না। তাই ১৯৩৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই স্কুলের পড়ালেখা বাদ দিয়ে কলকাতায় চলে যান এবং মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস-এ ভর্তি হন। তার মা জয়নুল আবেদিনের আগ্রহ দেখে নিজের গলার হার বিক্রি করে ছেলেকে কলকাতার তখন আর্ট স্কুলে ভর্তি করান। পরবর্তী সময়ে ছেলে জয়নুল আবেদিনও মায়ের সেই ভালবাসার ঋণ শোধ করেছেন দেশের স্বনামধন্য শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে।

জয়নুল আবেদিন ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত কলকাতার সরকারি আর্ট স্কুলে পড়েন। ১৯৩৮ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

ইত্তেফাক/এসআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত