টেলিটক ছাড়া সাড়া মেলেনি অন্য অপারেটরদের

শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যের ইন্টারনেট
টেলিটক ছাড়া সাড়া মেলেনি অন্য অপারেটরদের
ছবি: সংগৃহীত

পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য স্বল্পমূল্যের ইন্টারনেট দেওয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়েছে শুধু সরকারি মোবাইল অপারেটর ‘টেলিটক’। অন্যান্য মোবাইল অপারেটরদের সাড়া মেলেনি এখনো। কয়েকমাস ধরে আলোচনা শেষে গত জুলাইয়ে সব অপারেটর কোম্পানিকে চিঠি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক পরিচালিত সংস্থা বিডিরেন (বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক)।

বিডিরেন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাওরীত বলেন, আমরা মোবাইল অপারেটদের স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। শুধু টেলিটকের পক্ষ থেকে সাড়া পেয়েছি। অন্যদের কারো সাড়া পাইনি।

করোনা দুর্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া কার্যত বন্ধ। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিলেও ইন্টারনেটের মূল্য বেশি থাকায় শিক্ষার্থীরা এই পাঠদানে আগ্রহী নয়। এ কারণে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।

গতকাল ইউজিসি থেকে জানানো হয়, নামমাত্র মূল্যে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ দিবে সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটক। বিডিরেন প্লাটফরম ব্যবহারকারী দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে। বর্তমানে ৪২টি পাবলিক ও ৬৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিডিরেন প্লাটফরম ব্যবহার করছে। ছাত্রছাত্রীরা জুম অ্যাপলিকশন-এর মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এজন্য শিক্ষার্থীদেরকে টেলিটকের নেটওয়ার্কের আওতায় থাকতে হবে। প্রতি মাসে ১০০ টাকা রিচার্জের বিনিময়ে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। রিচার্জকৃত টাকা তার মূল অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এই টাকা ভয়েস কল ও ডাটার জন্য ব্যয় করা যাবে। অব্যবহূত টাকা পরবর্তী রিচার্জে যোগ হবে। তবে ১০০ টাকার নিচে রিচার্জ করলে এবং সিমে ন্যূনতম ডাটা না থাকলে এই সুবিধা ভোগ করা যাবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, করোনা মহামারির সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। অন্যদিকে দেশের সব স্তরের শিক্ষার্থীদের স্বল্পমূল্যের ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তারা বলেছেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এই সুবিধা দিতে হবে স্কুল শিক্ষার্থীদেরও।

অভিভাবক ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। তাই অনলাইন ক্লাস ছাড়া বিকল্প নেই। তাই দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য স্বল্প মূল্য বা বিনা মূল্যের ইন্টারনেট সুযোগ দিতে হবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত