বিমানে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে হাইড্রোজেন জ্বালানি!

বিমানে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে হাইড্রোজেন জ্বালানি!
[ছবি: সংগৃহীত]

গত বছরই ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে বিশ্বখ্যাত বিমান প্রস্তুতকারী কোম্পানি এয়ারবাসের। বোয়িংয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য প্রতিনিয়ত নিজেদের সঙ্গে নিজেদের লড়াই করতে হচ্ছে এয়ারবাসকে। এরই ধারাবাহিকতায় এয়ারবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব বিমান নিয়ে আসবে তারা। জেট ইঞ্জিন প্রযুক্তির বাইরে গিয়ে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসতে চায় তারা। আর জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেনের ওপর জোর দিতে চায় এয়ারবাস। ২০৩৫ সালের মধ্যে নতুন প্রযুক্তির এই বিমান আকাশে মুক্ত করতে চায় এয়ারবাস। এটি করতে পারলে বিমানব্যবস্থায় যুগান্তকারী এক অধ্যায়ের সূচনা করবে বিমান নির্মাতা এই প্রতিষ্ঠান।

বিমান নির্মাণ শিল্পে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে ১৯৭০ সালের ১৮ ডিসেম্বর ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে ‘এয়ারবাস’ নামে যাত্রা শুরু করে। বিমানের বিশাল বাজারে নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে শুরু থেকেই নিজেদের এয়ারক্রাফটে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে এয়ারবাস। এ কারণে তারা এবার এমন এক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বিমান তৈরির চিন্তা করছে, যেখানে কার্বন নিঃসরণ ঘটবে না। পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারলে তা কার্বন ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইডের মতো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ করবে। এর আগে ২০১৫ সাল থেকে স্লোভেনিয়ার স্টার্টআপ বিমান পরিবহন সংস্থা ‘পিপিস্ট্রেল’ তাদের আলফা ইলেকট্রো মডেলের বিমান দিয়ে তা প্রমাণ করছে। এয়ারবাসও চাইছে বিমানশিল্পকে কার্বনমুক্ত করতে।

২০৩৫ সালের মধ্যে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বিমান বাজারে আনতে হলে ২০২৫ সালের মধ্যে এয়ারবাসকে তাদের পুরো প্রযুক্তি শেষ করতে হবে। এরপর সেটিকে ব্যবহারযোগ্য করতে লেগে যেতে পারে আরো কয়েক বছর। হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবহারের যুক্তি হিসেবে তারা বলছেন, এটি ব্যবহারে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। হাইড্রোজেন জ্বালানির সঙ্গে ব্যাটারি প্রযুক্তির তুলনা করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্লেন লোয়েলিন বলেন, ‘আমরা যে গতিতে চলতে চাইছি, ব্যাটারি প্রযুক্তি অনেকটাই তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না। ব্যাটারি প্রযুক্তির চেয়ে হাইড্রোজেন জ্বালানি কয়েক হাজার গুণ বেশি শক্তিসম্পন্ন। হাইড্রোজেন জ্বালানি এখনো অনেকটাই তাত্ত্বিক পর্যায়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত এর প্রায়োগিক দিকটি সেই অর্থে দেখা যায়নি। এ কারণে হাইড্রোজেন জ্বালানি প্রযুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে তার জন্য অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। ইতিমধ্যে এয়ারলাইনস কোম্পানি, জ্বালানি কোম্পানি ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। কারণ নতুন প্রযুক্তির এই পরিবর্তনকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং ব্যবহারযোগ্য করতে অ্যাভিয়েশন কোম্পানির সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে ভালো বোঝাপড়া থাকতে হবে।’ —সিএনএন

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত