রিমোট ওয়ার্ক সুবিধা স্থায়ী করেছে মাইক্রোসফট

রিমোট ওয়ার্ক সুবিধা স্থায়ী করেছে মাইক্রোসফট
মাইক্রোসফট। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি মাইক্রোসফট জানিয়েছে, কর্মীরা তাদের ব্যবস্থাপকের অনুমোদন নিয়ে বাসায় বসে স্থায়ীভাবে কাজ করতে পারবেন। মাইক্রোসফটের প্রতিদ্বন্দ্বী ফেসবুক ও টুইটারও এই একই পথ অনুসরণ করছে। তারাও বলেছে, বাড়িতে বসে কাজের সুবিধা স্থায়ী হবে। করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে এ প্রক্রিয়ায় অফিস করার পদ্ধতি সম্পূর্ণ পাল্টে যাচ্ছে।

বাড়িতে বসে যারা কাজ করছেন এমন কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা দেওয়ার পর কোম্পানিগুলো তাদের অফিস স্পেস কতটুকু রাখবে তা পুনর্বিবেচনা করবে। মাইক্রোসফট বলছে কিছু কাজের জন্য অফিস উপস্থিতি প্রয়োজন। যেমন- হার্ডওয়্যার এক্সেসের জন্য কর্মীকে অবশ্যই উপস্থিত থাকার প্রয়োজন রয়েছে। তবে অনেক কর্মী তাদের ব্যবস্থাপকের অনুমতি নিয়ে অল্প সময়ের জন্য বাড়িতে বসে কাজের সুযোগ পাবেন।

মাইক্রোসফটের একজন মুখপাত্র নতুন এ নির্দেশনা সম্পর্কে বলেন, সময়ের সঙ্গে আমরা যেভাবে কাজ করি তা বিকাশিত করাই আমাদের লক্ষ্য এ সুবিধাটি যুক্ত রাজ্যের কর্মীদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

মার্কিন জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের তথ্য মতে, এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৪৬ শতাংশের বেশি কর্মী বাড়িতে বসে অল্প অল্প কাজ করছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবে সেখানের স্ট্যামফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক নিকোলাস রুমেলের মতে, করোনাকালে ৪২ শতাংশ কর্মী দুর্বল ছিল। ২০-৬৪ বয়সীরা গত বছর গড়ে ১০ হাজার ডলার আয় করেছেন। যদিও এ সংখ্যা আগস্টে এসে দাড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। এটিকে একটি বড় পরিবর্তন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন যা করছি তা অত্যান্ত অস্বাভাবিক।’

অনেক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রাথমিকভাবে এ কর্যক্রমের প্রশংসা করছে। তাদের মতে, এটি একটি উৎপাদনশীল কার্যক্রম। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই তাদের সামনে কিছু সমস্যা দৃশ্যমান হয়েছে।

উদাহারণস্বরূপ, এই মাসেই একটি সম্মেলনে মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা বলেছিলেন, বাস্তব জীবন ও কর্মজীবনের মধ্যে তফাৎ রয়েছে। মাঝে মধ্যে মনে হয়, আপনি কাজ করে ঘুমাচ্ছেন।

অন্যদিকে এক সাক্ষাত্কারে সুন্দর পিচাই বলেন, আরও বেশিসংখ্যক কর্মীকে বাসায় থেকে কাজের স্থায়ী সুবিধা দেওয়ার অংশ হিসেবে কার্যালয় ঢেলে সাজানো শুরু করেছে গুগল। একই সঙ্গে প্রথাগত অফিস ব্যবস্থা একেবারে থাকবে না এমনটাও বিশ্বাস না করার কথা জানিয়েছেন পিচাই।

তিনি বলেন, প্রথাগত কর্মপরিবেশও বিদ্যমান থাকবে। এটা থেকে সব প্রতিষ্ঠানের বেরিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মীবাহিনীর একটি বড় অংশ স্থায়ীভাবে বাসায় থেকে কাজ করতে পারবেন। কভিড-১৯ মহামারী পরবর্তী কর্মক্ষেত্র একটি হাইব্রিড মডেলভিত্তিক হবে। এখন যেসব গুগল কর্মী বাসায় থেকে অফিসের কাজ করছেন, তারা যখন অফিসে ফিরবেন, তখন গুগল কার্যালয় তাদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন মনে হবে।

এক বিবৃতিতে সুন্দর পিচাই বলেন, তারা নিজেদের ফিজিক্যাল স্পেসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। ভবিষ্যতে গুগল কর্মীদের আরও ভালো কর্মপরিবেশ দেওয়ার লক্ষ্য থেকে এ পরিবর্তন। যেখানে একটি হাইব্রিড ওয়ার্ক মডেল থাকবে। ভবিষ্যত্ কর্মক্ষেত্র এখনকার চেয়ে আরো ফ্লেক্সিবল হবে। আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একত্রিত হয়ে কাজ করায় বিশ্বাস করি। কারণ কোনো কঠিন সমস্যা সমাধানে কিংবা নতুন কিছু উদ্ভাবনের জন্য কমিউনিটির মধ্যে থেকে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। যে কারণে আমরা ভবিষ্যতের জন্য শতভাগ রিমোট ওয়ার্ক বিশ্বাস করছি না।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত