গ্রামীণফোন আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী ওয়েবিনার সিরিজ 'তারুণ্যের সাথে, সম্ভাবনার পথে'

'ফ্রিল্যান্সিং সম্ভাবনা বিশ্বজুড়ে'

'ফ্রিল্যান্সিং সম্ভাবনা বিশ্বজুড়ে'
গ্রামীণফোন আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী ওয়েবিনার সিরিজ 'তারুণ্যের সাথে, সম্ভাবনার পথে'। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া।

জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে 'তারুণ্যের সাথে, সম্ভাবনার পথে' শিরোনামে সপ্তাহব্যাপী ওয়েবিনার সিরিজের আয়োজন করেছে গ্রামীণফোন। 'ফ্রিল্যান্সিং- সম্ভাবনা বিশ্বজুড়ে' এই বিষয়বস্তুকে সামনে রেখে এই সপ্তাহব্যাপী আলোচনার এই পর্বে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজের পরিধি নিয়ে গ্রামীণফোন ডিজিটাল ইনোভেশন বিভাগের কনটেন্ট এন্ড এনগেজমেন্ট লিড ফারহানা হোসেন শাম্মুর সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে ছিলেন এসইআইপি-এর নির্বাহী প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল হক, বেসিস-এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর এবং দি স্পিক ইজি সোসাইটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ফ্রিল্যান্সার তাসফিয়া আজিম ও ওয়াহিদ শরীফ।

ওয়েবিনারের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর। তিনি বলেন, আমাদের চারপাশে জ্যাম, সবখানে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব সহ বেশ কিছু সমস্যা বিদ্যমান। এই সমস্যাগুলো নিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তা ধারার মাধ্যমে আমাদের তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরো বলেন,আমাদের দেশটি একটি তারুণ্য নির্ভর দেশ। যেখানে সব কিছু সম্ভাবনাময়য়ের মধ্য দিয়েই হাঁটে। করোনার কারণে যখন নিত্য প্রয়োজীয় দ্রব্য বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার একটি চাহিদা তৈরি ছিল তখন তরুণরা ই কমার্স কে ব্যবহার করে নিজেরাও উপর্জান করছে, কাজের সুযোগও তৈরি করেছে। আমাদের তরুণদের নতুন নতুন চিন্তাধারা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আর।তরুণদের এখন দক্ষ করে গড়ে তুলতে না পারলে এই বিশাল জনসংখ্যা এক সময়ে দায়বদ্ধতায় পরিণত হবে।

আরও পড়ুন: ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে দেশের মানুষের

ওয়েবিনারে দ্বিতীয় বক্তা হিসেবে ছিলেন স্কিল ফর ইম্পাওয়ারমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইআইপি) এর নির্বাহী প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল হক। তরুণদের প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে বৈশ্বিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে এসআইপির যাত্রা শুরু হয়। আইটি, গার্মেন্টস সেক্টর, কনস্ট্রাকশন সেক্টরসহ দেশের জনপ্রিয় ১০ টি খাতে প্রশিক্ষণের জন্য তারা অর্থ সহায়তা করে থাকেন তারা।

তিনি আরো বলেন,আমাদের দেশে শ্রমিকের সংখ্যা প্রচুর থাকলেও দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা খুব কম। সব বিষয়ে অল্প অল্প না জেনে বরং একটি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে হবে। অনেকক্ষেত্রে হয় শ্রমিকদের কোনো দক্ষতা থাকে না অথবা তার দক্ষতা খুবই স্বল্প পরিসরে। এর ফলে দেশে কিংবা বিদেশে শ্রমিকদের যে পরিমাণ শ্রম দেন সে তুলনায় তাদের প্রাপ্তি অনেক কম। শীঘ্রই উচ্চ দক্ষতার প্রশিক্ষণ নিয়েও কাজ শুরু করবে এসইআইপি।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য)’র সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান শরীফ বক্তব্য রাখেন চতুর্থ বক্তা হিসেবে তিনি বলেন, সম্প্রতি বাক্য’র তত্ত্বাবধানে অনলাইন প্রফেশনাল ফোরাম নামের একটি নতুন ফোরাম নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন তারা। অনেকদিন ধরেই তারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। সেক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব কিছু বিষয় আছে যেগুলো তারা যথাযথ ভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে পারছিলো না। কাজ করে তারা যে টাকা আয় করছে সেটি দেশে নিয়ে আসা এবং দেশ থেকে বাইরে কিছু খরচ করতে চাইলে আরো বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। একটি প্লাটফর্মে এই বিষয়গুলো নিয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন ‘ফ্রিল্যান্সার শব্দটিকে যেন অনলাইন প্রফেশনাল হিসেবে দেখা হয়। এখন যারা নিজেদের চেষ্টায় ফ্রিল্যান্সিং করছে তাদেরকে প্রশিক্ষণের মধ্যে নিয়ে আসলেই তারা কয়েকগুণ বেশি ইনকাম করতে পারবে।

দি স্পিক ইজি সোসাইটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ফ্রিল্যান্সার তাসফিয়া আজিম তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ‘২০১৩ সালে আমি যখন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করি তখন মেয়ে তো দূরের কথা ছেলেদের জন্যও ফ্রিল্যান্সিং অনেক কঠিন ছিল। আমি মূলত ফটোশপ ও লিখতে পছন্দ করতাম। এ জন্য আমার এই বিশেষত্বকে কীভাবে ব্যবসায়িকভাবে কাজে লাগাতে পারি সেজন্য খোঁজ করতে গিয়েই ফ্রিল্যান্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ি আমি। সে সময়ে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আমরা প্রশিক্ষণ বা অবকাঠামোগত সুবিধা পাইনি। তবে সেই সুযোগটি এখন তৈরি হচ্ছে। আমাদের তরুণদের সেই সুযোগটি গ্রহণ করতে হবে। শুধু টাকার কথা না ভেবে সবাইকে নিজের দক্ষতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত