করোনার বছরে নির্ভরতায় টেলিকম-তথ্যপ্রযুক্তি খাত

করোনার বছরে নির্ভরতায় টেলিকম-তথ্যপ্রযুক্তি খাত
প্রতিকী ছবি

বৈশ্বিক মহামারী করোনায় পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও উলটপালট হয়েছে স্বাভাবিক নাগরিক জীবন, দেশের ব্যবসায় খাত-অর্থনীতি। নতুন নিউ নরমাল বিশ্বে মানুষের বসবাস এখন। অন্যান্য ব্যবসায়িক খাত করোনার চ্যালেঞ্জ সামলে টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকলেও টেলিকম খাতকে এই লড়াইয়ের পাশাপাশি থাকতে হয়েছে মানুষের পাশে। বলতে গেলে এই সময়ে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব- টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ঠিক রাখার কাজটি ছিলো এ খাতের।

করোনার সময়ে দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা হয়ে পড়ে অনলাইননির্ভর। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটসহ মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়ে যায় ব্যাপকভাবে। অনলাইনে ক্লাস চালু হওয়াসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ অনলাইনে হওয়ার কারণে বেড়ে যায় স্মার্টফোন বিক্রি।

লকডাউনের মধ্যে ই-কমার্স মাধ্যমে কেনাকাটা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, ই-কমার্সগুলো জরুরি সেবা দিতে নেটওয়ার্কের উপর পুরো নির্ভর হয়ে পরে। সভা, সেমিনারসহ সংবাদ সম্মেলন সব অনুষ্ঠিত হতে থাকে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে। প্রথমবারের মতো সরকারের মন্ত্রীসভার বৈঠকও হয় অনলাইনে।

ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম, টেলি মেডিসিন সেবাসহ বিভিন্ন অনলাইন সেবায় অভ্যস্ত হয়ে যায় মানুষ। এই সময়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ, ই-কমার্সে কেনাকাটা বেড়েছে ৫০ শতাংশ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে ৫০ লাখ। আর এ সব কিছুর ব্যাকবোন ছিলো ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক। যার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে মোবাইল ফোন অপারেটর, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসহ এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।

এছাড়া গ্রামীণফোন ১০ কোটি মিনিট ফ্রি টকটাইম ও ১ টাকায় ৩০ জিবি ডেটা অফার দেয় এই সময়ে। রবিও দেয় ১৩ কোটি মিনিট ফ্রি টকটাইম। রবি ১ কোটি ৩০ লাখ গ্রাহককে ১০ মিনিট করে ফ্রি টকটাইম এবং ৫০ এমবি করে ফ্রি ডেটা দেয়ার ঘোষণা দেয়।

অবৈধ, নকল ও চুরি যাওয়া হ্যান্ডসেট বন্ধে বিটিআরসির চেষ্টা বেশ কয়েক বছরের। ২০১২ সালে প্রথম এই উদ্যোগ নেয়ার পর অবশেষে ২০২০ সালে তা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। বছরের ২৫ নভেম্বর বিটিআরসির সঙ্গে চুক্তি করে এই কার্যক্রমে প্রযুক্তি সরবরাহ ও পরিচালনাকারী কোম্পানি সিনেসিস আইটি। কোম্পানিটির সঙ্গে এই কাজে জয়েন ভেঞ্চারে এর সঙ্গে রয়েছে রেডিসন টেকনোলজি ও কম্পিউটার ওয়ার্ল্ড।

চুক্তি স্বাক্ষরের দিন হতে ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালুর কথা। বিটিআরসি চাইছে, এই ১২০ দিন মানে ২০২০ সালের এপ্রিলের মধ্যেই যেন কার্যক্রম চালু হয়ে যায়।

এনইআইআর চালুর পর হতেই অবৈধ পথে দেশে আসা, ক্লোন বা চুরি করা হ্যান্ডসেটে মোবাইল নেটওয়ার্কে যোগাযোগ করা যাবে না। মানে এসব ফোনে এনইআইআর চালুর কিছুদিনের মধ্যে একদমই কোনো মোবাইল ফোন অপারেটরের সিম চলবে না।

বছরের অক্টোবরের মাঝাঝাঝি সময়ে সারাদেশে ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগ বন্ধের হুমকি দিয়ে আন্দোলনে নামে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা। যা বেশ আলোচিত হয়েছিলো। গ্রাহক পর্যন্ত সংযোগ স্থাপনে ঝুলন্ত তারের বিকল্প ব্যবস্থা না করে তার কাটায় ১২ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগ বন্ধ করার এই কর্মসূচি দিয়েছিলেন তারা। সেখানে ১৮ অক্টোবর হতে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সারাদেশে বাসা-বাড়ি, অফিস ও ব্যাংকসহ সকল পর্যায়ে ইন্টারনেট ডেটা কানেক্টিভিটি এবং ক্যাবল টিভি বা ডিস বন্ধ রাখার কর্মসূচি ছিলো।

পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, টেলিযোগাযোগ সচিব মো. আফজাল হোসেনসহ দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা। এরপর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করে মাটির নীচ দিয়ে তার নেয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয় এবং কর্মসূচি তুলে নেয় আইএসপিএবি।

ইত্তেফাক/এমএএম

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত