করোনাকালে ৩০ শতাংশ শিশু ইন্টারনেটে নিপীড়ন বা নির্যাতনের শিকার

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জরিপ
করোনাকালে ৩০ শতাংশ শিশু ইন্টারনেটে নিপীড়ন বা নির্যাতনের শিকার
ছবি: সংগৃহীত।

৩০ শতাংশ শিশু করোনাকালে কোনও না কোনোভাবে ইন্টারনেটে নিপীড়ন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ১২ শতাংশ শিশু এ বিষয়ে কোনও তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নিপীড়িত শিশুদের ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হচ্ছে মেয়ে শিশু, ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ ছেলে শিশু।

শিশুদের বিরুদ্ধে অনলাইনে যৌন শোষণের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি ও পরিস্থিতি যাচাই এবং প্রবণতা বিশ্লেষণ বিষয়ক আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক গবেষণা জরিপে এ চিত্র প্রকাশ পায়।

গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ গবেষণা জরিপ প্রকাশ করা হয়। এতে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। আসক-এর সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর নীনা গোস্বামী এবং শিশু অধিকার ইউনিটের প্রোগ্রাম সমন্বয়ক অম্বিকা রায় সাংবাদিক সম্মেলনে গবেষণা জরিপের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ মেয়ে শিশু অনলাইনে যৌন শোষণ, হয়রানি এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কোভিড পরবর্তী গবেষণায় দেখা যায়, ৩০ শতাংশ শিশু করোনাকালে কোনো না কোনোভাবে ইন্টারনেটে নিপীড়ন বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যা আগের জরিপের চেয়ে শতকরা প্রায় চারগুণ বেশি। দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ পাশ হয়েছে ঠিকই কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এ আইনে অনলাইনে শিশুদের দ্বারা শিশু নির্যাতন বিষয়টিকে চিহ্নিত করে আলাদা কোনো বিধান রাখা হয়নি, যার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে।

এ মুহূর্তে আমাদের সব থেকে বেশি যেটা প্রয়োজন তা হলো ১০০ শতাংশ শিশুকে সতর্ক করা, অনলাইনের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জেনে শিশুদের জ্ঞানের পরিধি বিস্তারে সচেষ্ট হওয়া। গবেষণামতে করোনাকালে শিশুরা যে সব ধরনের নির্যাতিত হয়েছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিশুদের ব্যক্তিগত ও অসংবেদনশীল তথ্য ইন্টারনেটে প্রকাশ করা, অনলাইনে যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া, অশালীন প্রস্তাব দেওয়া, সাইবার বুলিং, ব্ল্যাকমেইলিং, পর্নোগ্রাফি এবং কোনো না কোনোভাবে অনলাইনে যৌনতা বিষয়ক ছবি বা তথ্য দেখতে পাওয়া ইত্যাদি।

জরিপ কার্যক্রমটি ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সাতক্ষীরা জেলায় পরিচালিত হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ১৭ শতাংশ কর্মজীবী শিশু।

ইত্তেফাক/এএইচপি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x