ঢাকা সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


উল্কার আঘাতে চাঁদের বুকে পানির ফোয়ারা!

উল্কার আঘাতে চাঁদের বুকে পানির ফোয়ারা!
ফাইল ছবি

চাঁদ নিয়ে মানুষের আগ্রহের কোনো কমতি নেই। চাঁদে পানির অস্তিত্ব নিয়ে এতোদিন অনেক অনুসন্ধান চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এতোদিন পর্যন্ত চাঁদের বুকে পানির অস্তিত্বের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পারেননি। তবে এবার মহাজাগতিক এক ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে যে, চাঁদের মাটিতে লুকিয়ে রয়েছে পানি! চাঁদের বুকে আচমকা একটি উল্কা আছড়ে পড়ার পর চাঁদের বুক চিরে ফোয়ারার মতো বেরিয়ে এসেছে পানির কণা। এরপর মহাকাশে বাষ্প হয়ে উধাও হয়ে গেছে সেই পানি। হারিয়ে গেছে মহাকাশের অতল রহস্যের আঁধারে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার-জিওসায়েন্সে’ এ আবিষ্কারের গবেষণাপত্রটি বের হয়েছে। গবেষক দলের প্রধান হিসেবে রয়েছেন মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী মেহেদী বেন্না।

চমকে দেওয়ার মতো এ ঘটনার সাক্ষী নাসার পাঠানো উপগ্রহ ‘ল্যাডি’। উপগ্রহটির পুরো নাম ‘লুনার অ্যাটমস্ফিয়ার অ্যান্ড ডাস্ট এনভায়রনমেন্ট এক্সপ্লোরার’। চাঁদের বুকে যদি সত্যিই যথেষ্ট পরিমাণ পানির সন্ধান মেলে তাহলে আগামী দিনে চাঁদের বুকেই হয়ত গড়ে উঠবে সভ্যতার দ্বিতীয় উপনিবেশ।

বিজ্ঞানীরা তাত্ত্বিকভাবে জানতেন যে চাঁদের মাটিতে থাকতে পারে পানি। কিন্তু এতোদিন চোখে দেখা যায়নি বলে বিজ্ঞানীরা তা বিশ্বাস করতে চাইতেন না। কিন্তু নাসার পাঠানো উপগ্রহ ল্যাডির চোখে ধরা পড়া ঘটনার পর চাঁদের বুকে পানি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরির (জেপিএল) বিশিষ্ট বিজ্ঞানী গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের মতে, এটা সত্যিই একটি মাইলস্টোন আবিষ্কার। অনেক দিন ধরেই বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, চাঁদের মাটির নিচে এখনো পানি থাকতে পারে। সে জন্যই সম্প্রতি চাঁদ নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে নাসার। চাঁদ নিয়ে গবেষণার জন্য নাসার প্ল্যানেটারি ডিভিশন একটি নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ কর্মসূচির নাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব লুনার ইনস্ট্রুমেন্টেশন (ডালি)।

নাসার পাঠানো উপগ্রহ ল্যাডি চাঁদের বুকে পানির খোঁজ দিতে পারলেও তার মূল কাজ ছিল অন্য। চাঁদের বায়ুমণ্ডল কেমন, কতটা পুরু বা পাতলা সেটা বুঝতেই ৬ বছর আগে ল্যাডিকে পাঠিয়েছিল নাসা। চাঁদের বায়ুমণ্ডলকে জরিপ করতে ল্যাডি উপগ্রহের বিভিন্ন কক্ষপথে ছিল ২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৪-র এগ্রিল পর্যন্ত। চাঁদের বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব আর সেখানকার বাতাসে কোন কোন মৌল বা যৌগ মিশে রয়েছে, তা বুঝতে ল্যাডির সঙ্গে ছিল বিশেষ একটি যন্ত্র নিউট্রাল মাস স্পেকট্রোমিটার (এনএমএস)। এটির কাজ ছিল চাঁদের বাতাসে কতটা ধুলো কী পরিমাণে মিশে রয়েছে সেটা খুঁজে দেখা। —নেচারএশিয়া ডট কম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন