বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭
২৯ °সে

মনোবিদের দ্বারস্থ ব্রড

মনোবিদের দ্বারস্থ ব্রড
স্টুয়ার্ট ব্রড। ফাইল ছবি

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে গেল মার্চ থেকে ক্রিকেট বন্ধ। তবে তিন মাসের বেশি সময় পর আগামীকাল থেকে আবারও মাঠে গড়াচ্ছে ক্রিকেট। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে ক্রিকেটকে মাঠে ফেরাচ্ছে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু অনেক কড়া বিধি-নিষেধের মধ্যে সিরিজ শুরু করতে হচ্ছে দু’দলকে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- রুদ্ধদার স্টেডিয়ামে টেস্ট ম্যাচ। অর্থাৎ, দর্শকদের ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে খেলা। তবে এটিকে বড় মানসিক চাপ বলে মনে করেন ইংল্যান্ডের পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। তাই মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে মনোবিদের দ্বারস্থ হয়েছেন ব্রড।

করোনাভাইরাসের কারণে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে সিরিজ আয়োজনের সিদ্বান্ত নেয় ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। দর্শকদের ছাড়া ক্রিকেট ভাবতে চান না ব্রড। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, রুদ্ধদার স্টেডিয়ামেই খেলতে হবে। কিন্তু ক্রিকেট ক্যারিয়ারে কখনও খালি গ্যালারিতে খেলেননি, তাই একধরনের ভয় বা অস্বস্তি কাজ করছে ব্রডের।

এ জন্য বাধ্য হয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের মনোবিদের দ্বারস্থ হয়েছেন ব্রড। এ কথা নিজেই জানিয়েছেন ব্রড। এজ বোলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দলের মনোবিদ ডেভিড ইয়ংয়ের সাথে এ বিষয়ে কাজ করছেন তিনি। এর পেছনে অবদান রয়েছে ব্রডের মা’র। তার মা’ই নাকি, তাকে এই পরামর্শ দিয়েছেন।

ব্রড বলেন, ‘দর্শক ছাড়া ক্রিকেট খেলাটাকে অবশ্যই ভিন্ন এক পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হবে মানসিক এক পরীক্ষা মঞ্চ। প্রতিটি ক্রিকেটারকে এই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সেটি নিয়ে আমিও চিন্তিত। তাই ইতোমধ্যে আমাদের ক্রীড়া মনোবিদের সাথে কথা বলেছি এবং যাতে মাঠে দর্শক ছাড়া নিজের সেরাটা দেওয়ার মতো মানসিক অবস্থায় থাকতে পারি আমি।’

এমন মানসিক সমস্যার কথা মা’র সাথেও শেয়ার করেন ব্রড। তারও মা’ও তাকে পরামর্শ দিয়েছেন। ব্রড বলেন, ‘আমার মা আমাকে বলেছেন, ১২ বছর বয়সে ফিরে যাও, যখন যে কোনো জায়গায় ক্রিকেট খেলতে চাইতে। সেই মানসিকতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছি। আসলে ১২ বছর বয়সে যে ব্যাপারটি ছিল, যে কোনো মূল্যে শুধু খেলতে চাইতাম। ক্রিকেট খেলার জন্য অস্থির থাকতাম। আমার মা বলেছে, এবারও ক্রিকেট খেলার জন্য অস্থির হয়ে উঠতে।’

যে অবস্থাতেই ক্রিকেট খেলা হোক না কেন, মানসিকভাবে শক্ত থাকতে চান ব্রড। তিনি বলেন, ‘আমাকে অ্যাশেজের কোন ম্যাচ বা কোন প্রীতি ম্যাচ খেলতে বলুন, আমি জানি কোন ম্যাচে ভালো পারফর্ম করব। তাই টেস্ট ম্যাচের জন্য যে মানসিকতা থাকা দরকার, তা নিশ্চিত করতে হবে আমাকে এবং এটি নিয়ে আমি কাজ করছি।’

এদিকে ৮ জুলাই সাউদাম্পটনে প্রথম টেস্ট খেলতে নামার আগে তিন দিনের একটা অনুশীলন ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড। ঐ প্রস্তুতি ম্যাচটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি, ‘এই ম্যাচটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। কারণ দীর্ঘদিন মাঠে কোন ম্যাচ খেলবো। যা টেস্টের আগে আত্মবিশ্বাস দিবে। এছাড়া দর্শক ছাড়া খেলার অভিজ্ঞতাও সঞ্চয় করা যাবে। আশা করছি, ঐ প্রস্তুতি ম্যাচের পর টেস্টে কোন সমস্যা হবে না।’

ইত্তেফাক/এএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত