বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭
২৮ °সে

ওদের ঈদ কাটবে শেরেবাংলায়

ওদের ঈদ কাটবে শেরেবাংলায়
ঈদের বন্ধেও এরকম তৎপর থাকবেন শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মাঠকর্মীরা —মোশারফ হোসেন

ক্রিকেটের স্বার্থে ঈদেও মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে থাকতে হবে তাদের। ঈদের পর আগস্টের মাঝামাঝি শুরু হতে পারে জাতীয় দল ও এইচপির ক্যাম্প। স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরের পরিবেশ ঠিক রাখতে তাই এই গ্রাউন্ডসম্যান ও নিরাপত্তা কর্মীদের বিসর্জন দিতে হবে ঈদ আনন্দ। কেননা মুশফিক-মুমিনুলদের অনুশীলনের জন্য তাদের যে স্টেডিয়ামটা প্রস্তুত রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততা, ক্রিকেটারদের পদচারণা, বিসিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিত্য অবস্থান, সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি মিলিয়ে বছর জুড়েই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে থাকে প্রাণের জোয়ার। করোনাকালে যদিও বেশির ভাগ সময় নিস্তব্ধ ও স্থবির ছিল দেশের ‘হোম অব ক্রিকেট’।

বিসিবি ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনুশীলনের অনুমতি দেওয়ায় গত ১০-১২ দিন কিছুটা সরব হয়ে উঠেছিল মিরপুরের এই স্টেডিয়াম। গত মঙ্গলবার থেকে অবশ্য মুশফিক-ইমরুলদের অনুশীলনেও পড়ে গেছে ঈদের ছুটি। আবারও নীরব হয়ে পড়ল স্টেডিয়ামটি। তবে এবার শেরেবাংলার অন্দরমহল কিছুটা সচল থাকবে। কারণ ঈদুল আজহায় স্টেডিয়ামেই থেকে যাবেন গ্রাউন্ডসম্যান, নিরাপত্তা কর্মীদের অনেকে। তাদের ঈদ কাটবে কর্মস্থল শেরেবাংলায়। বাড়ি যেতে পারবেন না তারা।

জানা গেছে, অন্তত ৪০ জন গ্রাউন্ডসম্যান ঈদ কাটাবেন স্টেডিয়ামে। সঙ্গে ১০ জনের মতো নিরাপত্তাকর্মীও এখানে ঈদ উদ্যাপন করবেন। দেশের প্রধান ক্রিকেট ভেন্যুর রক্ষণাবেক্ষণ করবেন তারাই। বিসিবির নিম্নআয়ের এসব কর্মচারীর পরিবার ছেড়ে স্টেডিয়ামে ঈদ কাটানোর পেছনেও আছে করোনার হাত। এসব কর্মী গত এক মাস ধরেই আছেন স্টেডিয়ামে। ক্রিকেটারদের অনুশীলনের জন্য সবকিছু জীবাণুমুক্ত করা, প্রস্তুত করার কাজ করেছেন তারা। মাঠ পরিচর্যা করেছেন নিয়মিতভাবে। ঈদ উপলক্ষ্যে বাইরের জনপদে মিশে তাদের করোনার ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে মূল কাজটা তারাই করেন বলে, তাদেরকে নিরাপদ-সুস্থ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসব কর্মী ঈদ আনন্দ এখানেই ভাগাভাগি করবেন।

করোনার শুরু থেকেই স্টেডিয়ামে ছিলেন ১৫ জন গ্রাউন্ডসম্যান। পরে সার্বিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা গতি ফিরলে আরো ২৫ জন এক মাস আগে যোগ দেন কাজে। এখন পরিবেশ ঠিক রাখতে ৪০ জনই ঈদে থেকে যাচ্ছেন কর্মস্থলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাউন্ডসম্যান গতকাল বলেছেন, ‘আমরা ঈদে বাড়ি যাব না। আমরা এখানেই থাকব। আমরা ৪০ জন গ্রাউন্ডসম্যান আছি। আর সিকিউরিটিও অনেকে আছে। সবাই এখানেই ঈদ করব।’

ইত্তেফাক/এএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত