সাকিবের অম্ল-মধুর ১৪ বছর

সাকিবের অম্ল-মধুর ১৪ বছর
সাকিব আল হাসান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান

ম্যাচ রান ৫০/১০০ উইকেট ৫/১০

টেস্ট ৫৬ ৩৮৬২ ২৪/৫ ২১০ ১৮/২

ওয়ানডে ২০৬ ৬৩২৩ ৪৭/৯ ২৬০ ২/০

টি-২০ ৭৬ ১৫৬৭ ৯/০ ৯২ ১/০

সন্দেহাতীতভাবে বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম নেওয়া সবচেয়ে সফল ক্রিকেটারের নাম সাকিব আল হাসান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা অন্যতম সেরা প্রতিভাবান ক্রিকেটার তিনি। ২২ গজে ব্যাটে-বলে দেশের হয়ে অসামান্য সব অর্জনের ধারক হয়েছেন সাকিব। নিজেকে ও দেশকে ক্রমাগত ঈর্ষণীয় উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ হয়েছে বিশ্বসেরা।

দেখতে দেখতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের জার্সিতে ১৪ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন সাকিব। ১৫ বছরে পা দিল এই অলরাউন্ডারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। যার যাত্রাটা শুরু হয়েছিল ১৪ বছর আগে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে। ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ওয়ানডেতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় সাকিবের। একই ম্যাচে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল মুশফিকুর রহিমের।

অভিষেকে বল হাতে এল্টন চিগুম্বুরার উইকেট, ব্যাট হাতে ৪৯ বলে ৩০ রানের ইনিংস। আহামরি পারফরম্যান্স হয়তো নয়। তবে অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সের ছায়াটা প্রথম ম্যাচ থেকেই দেখিয়েছেন সাকিব। তারপর গত ১৪ বছরে এই বাঁহাতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। অভিষেকের তিন বছরের মধ্যেই ওয়ানডেতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের আসনে আসীন হন সাকিব। পরের দুই বছরের মধ্যে তিন ফরম্যাটেই র্যাংকিংয়ের শীর্ষ অলরাউন্ডারের মর্যাদা যুক্ত হয় তার নামের পাশে। ২০০৯ সালেই নেতৃত্বের ভার সামলাতে হয়েছে। ২০১১ সালে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করেছেন সাকিব। বিশ্বকাপের পর এক সিরিজ যেতেই নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়েন তিনি। ক্যারিয়ার জুড়েই নানামুখী বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সাকিব। এসব বিতর্কের কারণে অনেক সমালোচিত হয়েছেন। কিন্তু তার মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো ছেদ পড়েনি। ২২ গজে ঠিকই অদম্য হয়ে ধরা দিয়েছেন। নিজের বিশ্বমানের পারফরম্যান্সে অনুপ্রাণিত করেছেন সতীর্থদের।

ক্রিকেটের সাফল্য, পারফরম্যান্স সাকিবকে এনে দিয়েছে দিগন্তজোড়া খ্যাতি। অর্থ-যশ এসেছে স্রোতের বেগে। দেশে-বিদেশে বিরামহীনভাবে খেলে গেছেন। বিশ্ব জুড়ে টি-২০ লিগগুলো দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাটে ৩৩৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

ফর্মহীনতায় একবারও জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েননি। তবে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বিসিবিও তাকে নিষিদ্ধ করেছিল। সর্বশেষ গত বছর তার ক্যারিয়ারে পড়ে এক কালো কালির আঁচড়। ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন করায় এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞাসহ দুই বছরের জন্য আইসিসি নিষিদ্ধ করে সাকিবকে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে মাঠে ফিরতে পারবেন তিনি। ভক্তদের আশা—গত বিশ্বকাপে করা অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা নিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন হবে সাকিবের।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত