জিদান-গার্দিওলাদের সাফল্যের নেপথ্যে

জিদান-গার্দিওলাদের সাফল্যের নেপথ্যে
ফাইল ছবি

ইয়োহান ক্রুইফ, পেপ গার্দিওলা, জিনেদিন জিদান থেকে শুরু করে হালে মিকেল আর্তেতা, হ্যান্সি ফ্লিক, রোনাল্ড কোম্যান কিংবা আন্দ্রে পিরলো; এদের সবার মাঝেই একটা বৈশিষ্ট্য সাধারণ। খেলোয়াড়ি জীবনে দলের প্রতি নিবেদন, অবদান প্রভৃতির কারণে বনে গিয়েছিলেন ক্লাব কিংবদন্তি, পরে আবার কোচ হয়েও ফিরেছেন সেই ক্লাবেই। সাম্প্রতিক সময়ে এমন ফেরার নজির বাড়ছেই কেবল।

এরা সবাই ক্লাবের দায়িত্ব নিয়েছিলেন খুবই বৈরী পরিস্থিতিতে। ক্রুইফ বার্সার কোচ হয়ে আসার আগে একদফা বিদ্রোহই দেখেছে বার্সেলোনা, গার্দিওলার আগে দারুণ এক দল নিয়েও টানা দুই মৌসুম শিরোপাহীন ছিল দলটি। জিদান যখন স্পানিশ রাজধানীর ক্লাবটিতে আসেন, এক শিরোপাহীন মৌসুম কাটানো রিয়াল তখন প্রস্তুতি নিচ্ছে আরেকটির। লুইস এনরিকে বার্সা কোচ হওয়ার আগের মৌসুমেও শিরোপাহীন ছিল কাতালানরা।

এরপর ক্রুইফ, গার্দিওলা, জিদান, এনরিকেরা যেন রূপকথা লিখেছেন নতুন করে। কিন্তু কীভাবে সম্ভব হয় এমন কিছু? এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে তার খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জানালেন, এসব কিংবদন্তিদের নিজের ক্লাবের ব্যাপারে জ্ঞানই বড় নিয়ামক।

সমপ্রতি ইত্তেফাকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ক্লাবের সাবেক খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগটা সৃষ্টি হয়, কারণ তারা জানেন কীভাবে ক্লাবটা চলে, এর দর্শনটা কেমন। ক্লাবের পরিচালকদের সঙ্গেও সম্পর্কটা ভালো থাকে, এভাবেই সুযোগটা আসে।

তবে ক্রুইফ-জিদানদের বিপরীত নজিরও আছে বেশুমার। থিয়েরি অঁরি, অ্যালান শিয়েরার, জেনারো গাত্তুসোরা যথাক্রমে মোনাকো, নিউক্যাসল, আর এসি মিলানে নিদারুণ ব্যর্থতাই দেখেছেন। এদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার অভাবকেই বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়।

কোচ জেমি ডে একে দেখছেন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। জানাচ্ছেন, খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে একে ঢেকে দেওয়া সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে গার্দিওলার প্রসঙ্গ টেনে সাবেক আর্সেনাল মিডফিল্ডার বলেন, ‘গার্দিওলা যখন বার্সার কোচ হয়ে আসেন সেসময় তার কোচিং অভিজ্ঞতা ছিল মোটে এক বছরের। এর পরও তার অভিজ্ঞতা কম ছিল না। খেলোয়াড়ি জীবনে দারুণ ছিলেন, কাজ করেছেন কিছু অসাধারণ কোচের সঙ্গে যার ফলে কৌশলগত জ্ঞানের ঝুলিটাও সমৃদ্ধ হয়েছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।

তবুও কিংবদন্তিদেরকে অনভিজ্ঞ হলেও ক্লাবে আনাটা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণই। যে ঝুঁকিটা অতি সম্প্রতি নিয়েছে জুভেন্তাস, আন্দ্রে পিরলোকে কোচ হিসেবে এনে। জেমি ডে অবশ্য ঝুঁকিটা দেখছেন যে কোনো কোচের ক্ষেত্রেই। তার মতে, ‘সময়ই বলে দেবে পিরলো সফল হবে কি না, কিন্তু আমি মনে করি যে কোনো কোচকে দায়িত্ব দেওয়ার সময়েই ঝুঁকি থাকে। কারণ খেলোয়াড়ি জীবনে যেমন অর্জনই থাকুক না কেন, সব কোচেরই ভালো খারাপ সময় কাটে।

সব ধরনের ঝুঁকি নিয়েই ইউরোপীয় ক্লাবগুলো প্রায় অনভিজ্ঞদেরকে কোচ করে নিচ্ছে সাম্প্র্রতিক সময়ে। শেষ কিছুদিনের চল বলছে, ব্যাপারটার আবেদন ফুরোচ্ছে না শিগগিরিই।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত