বাফুফে নির্বাচনে আসলাম-মাহি পরিষদের ২৪ দফা ইশতেহার

বাফুফে নির্বাচনে আসলাম-মাহি পরিষদের ২৪ দফা ইশতেহার
ইশতেহার ঘোষণা করছেন আসলাম-মাহি পরিষদ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর একটি হোটেলে আজ বৃহস্পতিবার আসলাম-মাহির সমন্বয় পরিষদ প্যানেল ঘোষণা করে ২৪ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেছে। মূলত দেশের ভঙ্গুর ফুটবল অঙ্গনের জীবন ফিরিয়ে আনাটাই সমন্বয় কমিটির প্রধান উদ্দেশ্য। আসলাম-মাহির সমন্বয় পরিষদের প্রত্যাশা বিপুল ভোটে জয়লাভ করে দেশের ফুটবলের স্বার্থে কাজ করবেন।

আসলাম-মাহি পরিষদ নির্বাচনের জন্য ২৪টি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। তাদের ইশতেহারগুলো নিন্মোক্ত:

১. বাংলাদেশের ফুটবলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ক্রীড়া প্রেমী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনা মতে ফুটবল সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত যুগোপযোগী দীর্ঘমেয়াদী নূন্যতম ১২ বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

২. প্রতিটি জেলায় ডিএফএ’র মাধ্যমে যার যার থানা, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে নিয়মিত ভিত্তিতে ফুটবল লীগ আয়োজন করা হবে।

৩. বাফুফের অর্থায়নে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বয়স ভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১৩, ১৫ ও ১৭ ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। পরবর্তীতে স্ব-স্ব বিভাগের অধীনস্থ জেলার চ্যাম্পিয়ন দলগুলোকে নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৩, ১৫, ১৭ ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতা সমূহ হতে জাতীয় বয়স ভিত্তিক সিলেকশন প্যানেলের মাধ্যমে খেলোয়াড় হান্টিং করে জাতীয় পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৩, ১৫, ১৭ ফুটবল দল গঠন পূর্বক দেশী/বিদেশী প্রশিক্ষকের অধীনে তাদেরকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের আওতায় এনে খেলোয়াড় তৈরির যথাযথ পাইপ লাইন তৈরি করা হবে।

৪. জেলা ও জাতীয় শিক্ষা বোর্ডসমূহের অংশগ্রহণে সোহরাওয়ার্দী কাপ জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ এবং জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহকে নিয়ে শেরে বাংলা কাপ জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন।

৫. বাংলাদেশ পেশাদার লীগ ও প্রিমিয়ার লীগ আয়োজনকে ঢেলে সাজানো হবে। খেলার মাঠ, আবাসন, লজিস্টিকসহ সকল কর্মকাণ্ডে সত্যিকার অর্থে পেশাদারিত্ব আনায়ন করা হবে। এছাড়া দর্শকদেরকে মাঠে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লিগ, দ্বিতীয় বিভাগ, তৃতীয় বিভাগ ও পাইওনিয়ার লিগ সমূহকে বাফুফের আর্থিক সহায়তায় অধিক আকর্ষণীয় ও জমজমাট ভাবে আয়োজন করা হবে।

৬. প্রত্যেকটি জেলায় স্থানীয় লিগে চ্যাম্পিয়ন ক্লাবদের নিয়ে শহীদ রাসেলের নামে জাতীয় ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন।

৭. সরকার কর্তৃক আয়োজিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা প্রাইমারী স্কুল নারী ও পুরুষ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

৮. অনূর্ধ্ব-১২ বছর থেকে থানা, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রত্যেক ফুটবল খেলোয়াড়দেরকে একটি একক রেজিস্ট্রেশন প্রথার আওতায় নিয়ে আসা হবে। যাতে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বয়সভিত্তিক ঝামেলা রোধ করা সম্ভবপর হয়।

৯. নিয়মিতভাবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃ-স্কুল/ কলেজ এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে কর্মরত ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত দক্ষ জনবলকে বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে যথাযথ ব্যবহার করা হবে। তাছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে খেলোয়াড় কোটা প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

১০ . বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক প্রত্যেক বিভাগের অধীনস্থ জেলাগুলোর পুরুষ ও মহিলা কোচ ও রেফারিদের প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজন এবং তাদেরকে নিয়ে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দল পরিচালনা (কোচিং) ও খেলা পরিচালনা (রেফারিং) করা এবং তাদের পারফরম্যান্স ইভালুয়েশন এর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে কোচিং এবং রেফারিং করার সুযোগ করে দেয়া।

১১. ৮টি (আটটি) বিভাগীয় ফুটবল দল নিয়ে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ চালু করা হবে।

১২. প্রত্যেকটি জেলা-বিভাগ এবং ঢাকার ক্লাবসমূহে প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে এবং একই সঙ্গে প্রত্যেকটি সংস্থাকে উপার্জনক্ষম করে তোলা হবে। প্রতিটি জেলায় বাফুফের অর্থায়নে জেলা ও ফুটবল কোচ নিয়োগ প্রদান করা হবে।

১৩. ঢাকা মহানগরী লিগ কমিটির তত্ত্বাবধানে অফিস ও কর্পোরেট ফুটবল লিগ আয়োজন করা হবে।

১৪. বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জন্য চার বছর, আট বছর এবং বারো বছর মেয়াদী বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। যার মাধ্যমে আগামী চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের ফিফা র‌্যাংকিং উন্নয়ন ঘটে। এই লক্ষ্য অর্জন করার জন্য জাতীয় ফুটবল দলসমূহে দীর্ঘমেয়াদী হাই-প্রোফাইল কোচিং স্টাফ নিয়োগ করে উন্নতমানের প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। জাতীয় ফুটবল খেলোয়াড়দের জন্য হেলথ ইনস্যুরেন্স অথবা লাইফ ইনস্যুরেন্স পলিসি পুনরায় চালু করা হবে।

১৫. বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, সাউথ এশিয়ান গেমস, এশিয়ান গেমস ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ও মহিলা ফুটবল দলের পারফরম্যান্স আগামী চার বছরের মধ্যে সক্ষমতা অনুযায়ী শিরোপা প্রত্যাশী দল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সর্বোপরি মূল লক্ষ্য থাকবে সাফ গেমসে চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন।

১৬. আগামী চার বছরের মধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে অন্তত ৮টি বিভাগীয় শহরে ৮টি স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়াম গড়ে তোলার পাশাপাশি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অধিক সংখ্যক ফুটবল খেলার উপযোগী উন্মুক্ত মাঠ তৈরি করা হবে।

১৭. ফিফা এবং এএফসির বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় যথাসম্ভব প্রত্যেকটি বিভাগে মিনি টার্ফ, স্টেডিয়াম টার্ফ, জিমনেশিয়াম, ফুটবল সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা হবে।

১৮ . প্রকৃত মানসম্মত দলের অংশগ্রহণে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ও শেখ কামাল গোল্ডকাপ প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে।

১৯. আন্তঃজেলা মহিলা ফুটবল লিগ আয়োজন করা হবে এবং ঢাকায় মহিলা ফুটবল লিগ আয়োজনকে নিয়মিত করা হবে। এছাড়া বয়সভিত্তিক ফুটবল দল ও জাতীয় মহিলা ফুটবল দলকে আলাদা আলাদাভাবে গড়ে তোলা হবে।

২০. বাংলাদেশের কোচিং এডুকেশন, রেফারিং এডুকেশন এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ এডুকেশন উন্নতির ক্ষেত্রে সর্বাধিক পর্যায়ের সহায়তা ফিফা ও এএফসি থেকে নেয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের ফুটবলের কোচিং ও রেফারিংয়ের মান সঠিকভাবে প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া হবে। প্রয়োজনে আপডেটেড অভিজ্ঞতা অর্জনের কোচিং ও রেফারিংয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম গ্রহণ করা হবে।

২১. ফুটবল মার্কেটিংয়ের ওপর যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করা হবে। প্রয়োজনে জেলা পর্যায়ে হতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত প্রত্যেকটি ফুটবল ম্যাচ টিভিতে দেখানো অথবা রেকর্ড করে অনলাইনে দেখানোর মাধ্যমে সবার কাছে ফুটবলকে পৌঁছে দেয়া হবে এবং সঠিক মার্কেটিং পলিসির মাধ্যমে প্রত্যেকটি টুর্নামেন্টকে সঠিকভাবে বিপণন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টিভি রাইটস থেকে অর্জিত অর্থ ফুটবলের ডেভেলপমেন্টের জন্য ব্যয় করা হবে।

২২. বাফুফের সকল প্রকার দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ফিফা প্রদত্ত সকল অনুদানসহ প্রাপ্ত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। বাফুফের প্রচলিত মাথাভারী প্রশাসনের ব্যয় কমিয়ে এনে ফুটবলের উন্নয়নে সে সব অর্থ ব্যয় করা হবে।

২৩. দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি আধুনিক জিমনেশিয়াম ও আর্কাইভ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

২৪ . আয় ও ব্যয়ের হিসাব সঠিকভাবে সবাইকে জানানো এবং বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তের জন্য প্রতি বছর বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করা হবে এবং সকল আর্থিক রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত