পেসারদের পুনরুত্থানের সুর

দুশ্চিন্তা ব্যাটসম্যানদের নিয়ে
পেসারদের পুনরুত্থানের সুর
রুবেল, সাইফুদ্দিন ও সুমন খান। ছবি: সংগৃহীত

অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন একটু মন খারাপ করতে পারেন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অনেকটা এগিয়ে সেরা বোলার ছিলেন তিনি। কিন্তু ফাইনাল খেলতে পারলেন না। আর এই সুযোগে তাকে স্পর্শ করে ‘সেরা বোলার’ পুরষ্কারটা জিতে নিলেন রুবেল হোসেন। তবে সাইফউদ্দিন নিশ্চয়ই মন খারাপ করবেন না। কারণ, তিনি পেস বোলারদের লড়াইটা দেখতে পছন্দ করেন। আর সদ্য শেষ হওয়া বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ ছিল একটা নিখাদ পেস বোলারদের লড়াইয়ের মঞ্চ।

সর্বশেষ বাংলাদেশের কোনো ঘরোয়া টুর্নামেন্টে কবে এমন দৃশ্য দেখা গেছে, সেটা মনে করা কঠিন। এই টুর্নামেন্টের সেরা সাত বোলারই ফাস্ট বোলার! আদৌ এমন ঘটনা কী বাংলাদেশে এর আগে হয়েছে?

হওয়া কঠিন। বাংলাদেশের উইকেট মানেই হলো পেস বোলারদের বধ্যভূমি। এখানে ঘরোয়া ক্রিকেটে ছড়ি ঘোরান স্পিনাররা; গত কয়েক বছর ধরে মূলত মাঝারি মানের বাহাতি স্পিনাররা। ফলে টেস্ট খেলা বা দেশের বাইরে যে কোনো ধরনের খেলা হলে হিমশিম খায় বাংলাদেশ; খুঁজে পাওয়া যায় না দুই-তিন জন ফাস্ট বোলার। নতুন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও বোলিং কোচ ওটিস গিবসন শুরুতেই ভরসার কথা শুনিয়েছিলেন, এই দেশ থেকেই তারা নির্ভর করার মতো ফাস্ট বোলার তুলে আনবেন।

তারা খুশি হতে পারেন। চোখের সামনে সেই উত্থানটা ঘটছে।

২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ছোট একটা পর্বে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিয়মিত ফাস্ট বোলারদের সামনে এগিয়ে দেওয়ার কাজ করেছিল। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, সেই পর্বে বাংলাদেশ অনেক সাফল্যও পেয়েছে। ফলে ফাস্ট বোলারদের উত্থান দেশের জন্যই সুখবর।

এই সুখবরটা দিয়েছেন রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, আল আমিন, সাইফউদ্দিনের মতো অভিজ্ঞরা। সেই সঙ্গে এবাদত, রাহি বা একেবারে তরুণ সুমন খান, শরীফুলরাও দারুণ বল করেছেন। ১২টি করে উইকেট নিয়েছেন রুবেল ও সাইফউদ্দিন। ৯টি উইকেট নিয়েছেন সুমন খান। আটটি করে শিকার মুস্তাফিজ, আল আমিন, এবাদতের। ৭ উইকেট নিলেও সবাইকে চমকে দেওয়া বোলিং করেছেন তাসকিন।

এর বিপরীতে ব্যাটসম্যানরা অবশ্য দুশ্চিন্তা তৈরি করেছেন এই টুর্নামেন্টে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মুশফিকুর রহিম ছিলেন ব্যতিক্রম। ২১৯ রান নিয়ে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহ। আর ১৬২ রান নিয়ে তৃতীয় সেরা মাহমুদউল্লাহ। এ ছাড়া জাতীয় দলের প্রায় সবাই ব্যর্থ। ফাইনালে জ্বলে ওঠা লিটন দাস, একটা ফিফটি করা সৌম্য সরকার থেকে শুরু করে তামিম ইকবাল; সবাই ব্যর্থ হয়েছেন এই সামান্য কঠিন উইকেটে। এটা নিশ্চয়ই কোচকে একটু চিন্তায় ফেলবে।

তবে ভবিষ্যতের জন্য সুখবর এই যে, আফিফ হোসেন ধ্রুত, তৌহিদ হূদয় এবং সফল ইরফান শুক্কুররা নতুনের গান শোনাতে শুরু করেছেন।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত