এ টি এম শামসুজ্জামানের মৃত্যুতে ক্রীড়াঙ্গনের শোক

এ টি এম শামসুজ্জামানের মৃত্যুতে ক্রীড়াঙ্গনের শোক
এ টি এম শামসুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের কিংবদন্তি অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের (আবু তাহের মো. শামসুজ্জামান) মৃত্যুতে ক্রীড়াঙ্গনও গভীর শোক জানিয়েছে। ক্রীড়া সংগঠক সালেহ জামান সেলিমের বড় ভাই এ টি এম শামসুজ্জামান এক সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে জড়িত ছিলেন। নিজে খেলোয়াড় ছিলেন। খেলাধুলা ভালোবাসতেন এবং বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব, ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবসহ নানা সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বাফুফে, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

এক সময়ের প্রখ্যাত আইনজীবী হাজি নূরুজ্জামানের পুত্র এ টি এম শামসুজ্জামান সম্ভ্রান্ত এবং শিক্ষিত পরিবারের সন্তান। এলাকায় খোকন নামে পরিচিত এটিএম শামসুজ্জামান কখনো অসত্যের সঙ্গে আপস করেননি। শততার উদহারণ দিয়ে গেছেন তিনি। নিজ পরিবারের দুই সন্তানের কোন্দলে এক সন্তান আরেক সন্তানের হাতে নিহত হন। এ টি এম শামসুজ্জামান নিজে বাদী হয়ে সন্তানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ভাই সালেহ জামান সেলিম জানালেন আদালতে দাঁড়িয়ে আমার বড় ভাই আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিয়েছেন তার এক পুত্র আরেক পুত্রকে হত্যা করেছেন। সেই পুত্র এখন কারাগারে অন্তরীণ। অথচ পরিবারের দুই-একজন বড় ভাইকে (এ টি এম শামসুজ্জামান) অনুরোধ করে বলেছিল আপনি শুধু বলুন কে খুন করেছে আমি দেখিনি। তাহলে আপনার এক পুত্র বেঁচে যাবে।

তিনি খেপে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি মিথ্যা বলতে পারব না।’ এমন শততার উদাহরণ পৃথিবীর কয়টি ঘরে রয়েছে, তা খুঁজে বের করা কঠিন। নোয়াখালীর রামগঞ্জ থানার, ভোলাকট বড়বাড়ি হচ্ছে এ টি এমের বাড়ি, সবার চেনা, এই মানুষটিকে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ হতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, এফডিসির এমডি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, পূর্বাচলে ১০ কাঠা জমি দেওয়ার কথা বলা হলেও নির্লোভ এই মানুষটি সবই ফিরিয়ে দিয়েছেন হাসি মুখে। গতকাল পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে ৪৬ দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনের নিজ বাড়িতে ৮০ বছর ধরে তাদের বসবাস। সেখানেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খেলাধুলা প্রিয় এই মানুষটি।

ইত্তেফাক/টিআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x