অনলাইন গেমিং যেন অর্থ আয়ের এক স্বর্ণখনি

অনলাইন গেমিং যেন অর্থ আয়ের এক স্বর্ণখনি
পাবজি মোবাইল খেলে বিভিন্নভাবে আয় করছেন অনেকে ।ছবি: সংগৃহীত

ই-স্পোর্টস যা দিয়ে বোঝা হয় একটি সুন্দর গুছানো টুর্নামেন্টকে, যেখানে বাস্তব খেলার প্রতিযোগিতার বদলে হয় অনলাইন গেমগুলোর প্রতিযোগিতা। গেমনির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সেরা প্লেয়ারদের নিয়ে নিজস্ব একটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। পুরস্কার হিসেবে থাকে আকর্ষণীয় প্রাইজমানি আর জনপ্রিয়তা থাকে আকাশচুম্বী।

শুধু যে অনলাইন গেমিং টুর্নামেন্টই আয়োজিত হয় এমন না। এর থেকে একেকজন খেলোয়াড় ও দল যেই পরিমাণ আয় করেতা দেখে অনেকেই অবাক হতে পারেন। সংশ্লিষ্টদের মতে অনলাইন গেমিং শিল্প যেন অর্থ আয়ের এক স্বর্ণখনি।

এমন একটি সম্ভাবনাময় শিল্পে মাত্র প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। গত কয়েকবছর ধরে গেমিং প্রেমি গোষ্ঠীর মধ্যে এই আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিলো। কিন্তু সম্প্রতি পাবজি মোবাইল গেমের সুবাধে সেই আলোচনা গড়িয়েছে অনেক দূর। এই গেমটির বৈশ্বিক পর্যায়ের বড় একটি আসরে বাংলাদেশের এ-ওয়ান ই-স্পোর্টস নামে একটি দল অংশ নিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেশের একদল তরুণের পৌঁছে যাওয়া নতুন এক দিগন্ত উঁকি দেয়ারই পূর্বাভাস। পশ্চিমাদেশগুলোতে ই-স্পোর্টস শিল্প রমরমা হলেও এখনো অন্ধকারে বাংলাদেশ। তবে পাবজি গেম দিয়েই সেই সম্ভবনার রাস্তা খুলতে যাচ্ছে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাক অনলাইনকে এ-ওয়ান দলের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা কাজী আরাফাত হোসেন বলেন, ‘ই-স্পোর্টস হচ্ছে নেক্সট বিগ থিং। এখন যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্স (এআই) নিয়ে সবাই মেতেছে, তেমনি একদিন সবাই ই-স্পোর্টস নিয়ে মেতে উঠবে।একবার ফাইভ-জি আসুক, তারপর দেখুন কি হয়।পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোতে এই শিল্পের অবস্থান খুব দৃঢ়। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এরসঙ্গে যুক্ত থাকায় এর থেকে আয়ও হয় অনেক। যদি আয়ের হিসেব বলি তা হলে ধরুণ, হলিউড ইন্ডাস্ট্রির মোট আয় থেকেও দ্বিগুণ আয় করছে ই-স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি। এটি সদ্য আবিষ্কৃত কোনো স্বর্ণখনির মতোই।’

এ-ওয়ান এর প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা কাজী আরাফাত হোসেনের সঙ্গে দলের খেলোয়াড়েরা

তিনি আরও বলেন, ‘মূলত গেমিং টুর্নামেন্ট গুলো খেলে খেলোয়াড় এবং দলগুলো আয়করে। এছাড়া স্পন্সর, ইভেন্ট ও মার্চেন্ডাইজিং থেকেও আয় হয়। সেইসঙ্গে স্ট্রিমিং সাইট যেমন ইউটিউব ও লোকো তে লাইভ খেলা দেখিয়েও অনেক খেলোয়াড় ভালো আয় করছে।’

ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং ভিডিও স্ট্রিমিং এর সুবাদে শুধু খেলাইনা, লক্ষ লক্ষ মানুষ গেম দেখার মাঝেও নিজেদের আগ্রহ তৈরি করে নিয়েছে। জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট থেকে যেমন বিপুল আয় হয়, তেমনই প্রফেশনাল খেলোয়াড়েরাও প্রচুর পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে এর থেকে। এছাড়া সরাসরি এসব স্ট্রিমিং করার মাধ্যমেও আয় করেনঅ নেকেই।

বাংলাদেশে নতুন এই শিল্পের ধারা সবেমাত্র শুরু হলেও যারা কাজ করছেন তাদের আয় দেখলে অনেকেই অবাক হবেন। দেশের যেসব পাবজি মোবাইল দল আন্তর্জাতিকভাবে আয়োজিত টুর্নামেন্ট অংশ নিচ্ছে তাদের আয় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে কয়েক লাখে। কাজী আরাফাতের ভাষ্যমতে তার দল এ-ওয়ানের আয় ৩৩ হাজারডলার (বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ২৮ লাখ টাকা)।এছাড়া খেলোয়াড়রা স্ট্রিমিং করার মাধ্যমেও দিব্যি আয় করছেন বলে জানা তিনি।

বিশ্বব্যাপী ই-স্পোর্টস এর জনপ্রিয়তা যেভাবে বাড়ছে তাতে করে তৈরি হচ্ছে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ। অনেক নামীদামী কোম্পানি ইতিমধ্যেই এর মধ্যে ঢুকে পড়েছে এবং পশ্চিমা টিভি আর ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং মিডিয়ারাও ই-স্পোর্টসের কন্টেন্টের জন্য নিজেদের মাঝে প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। এছাড়া নতুন ফিচার যুক্ত হচ্ছে সবসময়ই, যা আগ্রহ বাড়িয়ে তুলছে দর্শকদের মাঝে। মোবাইল গেমিং এর সাথে যুক্ত হয়ে আরো নতুন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০২২ সালের মধ্যে ই-স্পোর্টস মার্কেট বৈশ্বিকভাবে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি টাকায় ১৫ হাজার ২২৩ কোটি টাকার বেশি)রাজস্ব অর্জন করতে পারবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়ী এই শিল্পে দেরিতে হলেও প্রবেশ করেছে। দেশে বেকারত্ব হ্রাস, কিশোর ও যুবসমাজকে বিপথগামী পথ থেকে বাঁচানোর অন্যতম মাধ্যম হতে পারে এইখাত। সেইসঙ্গে আর্থিক স্বচ্ছলতার বিষয় তো আছেই তো আছেই।

ইত্তেফাক/টিআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x