৫০ বছরে প্রাপ্তি অনেক আছে অপ্রাপ্তিও

৫০ বছরে প্রাপ্তি অনেক আছে অপ্রাপ্তিও
ছবি: ইত্তেফাক

বাংলাদেশের ৫০ বছর, সুবর্ণজয়ন্তী। ক্রীড়াঙ্গনেও বাংলাদেশের ৫০ বছর। কালের গর্ভে হারিয়েছে পাওয়া-না পাওয়ার বেদনা। এই ৫০ বছরে বাংলাদেশের কতটুকু প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, সাফল্য-ব্যর্থতা, কত হিসাবই না উঠে আসে। সময়ের স্রোতে নানা চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে আজকের বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন। এই ৫০ বছরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন কতট এগিয়েছে? সাফল্য বিচার করলে অনেক কিছুই হয়নি। আবার অনেক কিছইি হয়েছে, যা প্রত্যাশার বাইরে ছিল। প্রাপ্তি আছে, অপ্রাপ্তিও আছে।

গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। কঠিন লড়াইয়ে ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে যেভাবে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আকবরদের বাংলাদেশ, তা ছিল সবচেয়ে স্মরণীয় একটি অধ্যায়। খেলাধুলার দুনিয়ায় বাংলাদেশকে তুলে ধরেছে।

ফুটবলে সাফ গেমস চ্যাম্পিয়ন, একই খেলা নাম বদলে এসএ গেমস ফুটবলেও আবার চ্যাম্পিয়ন, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবল দুনিয়াটা অনেক বড়। এর ব্যাপ্তি সুবিশাল। ফুটবলের সঙ্গে ক্রিকেটের তুলনা হয় না। তার পরও এই দুটি খেলা বাংলাদেশের খেলাপাগল মানুষগুলোকে সাফল্য দেয়, বিনোদন দেয়।

১৯৭৩ সালে বার্লিনে বিশ্ব যুব উত্সবে যোগ দিয়েছিলেন অ্যাথলেট সুলতানা কামাল ও তানভীর মাজহার তান্না। ভারত, পাকিস্তান থেকে পদক এনেছিলেন সুলতানা কামাল। তিনি বেঁচে থাকলে দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গন তার হাত ধরে অনেক দূরে যেতে পারত। সংগঠক পর্যায়ে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে বুলেটের আঘাতে শেখ কামালের মৃত্যু। আবাহনীকে গড়ে দেওয়া আধুনিক চিন্তা-ভাবনার শহিদ শেখ কামালের অকালে চলে যাওয়াটা অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে।

জুডোতে কামরুন নাহার হিরু আন্তর্জাতিক পদক এনেছিলেন। দাবাড়ু রাণী হামিদ ’৮৩ সালে ব্রিটিশ দাবায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। ’৮৪ সালে ঢাকায় দক্ষিণ এশিয়া ক্রিকেটে প্রথম চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। একই টুর্নামেন্টে ’৮৮ সালে হংকংয়ে বিদেশের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ’৮৬-তে সিউল এশিয়ান গেমস বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছেন মোশারফ হোসেন। ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গন কমনওয়েলথ শ্যুটিংয়ে স্বর্ণপদক এনেছিলেন আব্দুস সাত্তার নিনি ও আতিকুর রহমান। পদক জয়ের সেই আলো ধরে রাখতে পারেনি বক্সিং, শ্যুটিংয়ের কর্মকর্তারা। জাতীয় খেলা কাবাডিতে এশিয়ান পদক পেলেও রাখতে পারেনি, আবার সেই কর্মকর্তাদের ঘাড়েই দোষ যায়। অ্যাথলেটিকসে শাহ আলম, গোলাম আম্বিয়াদের আলো করা নৈপুণ্য দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে গিয়েছিল।

এরই মধ্যে টুকটুক করে ক্রিকেট এখন বাংলাদেশের সম্পদে পরিণত। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে স্বর্ণপদক পেয়েছে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের যৌথ আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অনেক খেলা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। ফুটবল বা ক্রিকেটের একটা জয় বাংলার আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে দিতে পারে। সাফল্যের জয়গানে প্রদীপ প্রজ্বলিত হয় মানুষের হূদয়ে। এদেশের সবচয়ে বড় শক্তি হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ সবাই খেলা ভালোবাসে। বলা হয় স্পোর্টিং ন্যাশন। রাজনীতিপ্রধান দেশ হলেও বাংলাদেশের খেলার দিনে মানুষ ভুলে যায় তার রাজনীতি ও ধর্মের কথা। খেলার দিনে সবাই যেন এক কাতারে। এক ছাতার নিচে। এই সমাবেশে ডেকে আনতে হয় না।

দেশে এখন ৫০টির বেশি স্বীকৃত খেলাধুলা রয়েছে। এত সব খেলার মধ্যে এই ৫০ বছরে একমাত্র ফুটবল ও ক্রিকেটে বেশি রোমাঞ্চ ছড়ালেও অন্য অনেক খেলা আছে, যা দিয়ে সোনার পদক এনেছে, আনতে পারবে। ৫০ বছরে না পাওয়ার বেদনা যেমন আছে, তেমনি সুখকর স্মৃতিও জ্বলজ্বল করে। যতটুকু সাফল্য আছে, তাকে পুঁজি করে নতুন পথে, নতুন আলোর সন্ধানে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন।

ইত্তেফাক/টিএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x