বক্সিংয়ে ফুটবলের চেয়েও বেশি আয়

বক্সিংয়ে ফুটবলের চেয়েও বেশি আয়
বিজিবির রাজ্জাকের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর আব্দুর রহিমের লড়াই। দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর সোনার পদক জিতেন আব্দুর রহিম (নীল)। ছবি: ইত্তেফাক

মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়াম স্টেডিয়ামে সেনাবাহিনীর বক্সার আব্দুর রহিম এবং বিজিবির বক্সার আব্দুর রাজ্জাক ৬৯ কেজি ওজন শ্রেণীতে লড়াই করছিলেন রিংয়ে। গ্যালারির চারদিকে অন্যান্য বক্সারদের পাশেই দর্শকের অবস্থান। করতালীতে মুখরিত। একের পর এক পাঞ্চ করে যাচ্ছেন দুই বক্সার। জমজমাট লড়াই। এক দর্শক বলছিলেন, ‘দেখ দেখ মারতে মারতে কপালে ফুলায়া দিছে।’

তিন রাউন্ডের খেলায় শেষ পর্যন্ত স্বর্ণ পদক জিতলেন সেনাবাহিনীর বক্সার আব্দুর রহিম। হেরে গেলেন বিজিবির আব্দুর রাজ্জাক। অথচ দিন শেষে বাংলাদেশ গেমস বক্সিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আনসার। ৫টি স্বর্ণ পেয়েছে। সেনাবাহিনী ৩টি স্বর্ণ পেয়ে রানার্সআপ এবং স্বর্ণ পদকের ভান্ডারে বিজিবির প্রাপ্তি শূন্য।

নিজে স্বর্ণ পদক পেয়ে খুশি হলেও দল যদি চ্যাম্পিয়ন হত তাহলে আরো খুশি হতে পারতেন আব্দুর রহিম। এসএ গেমস বক্সিংয়ে স্বর্ণ জিতেছিলেন ২০১০ সালে। এছাড়াও সংগ্রহে আছে তিনটা ব্রোঞ্জ। এখন আর জাতীয় দলে খেলেন না আব্দুর রহিম। তারপরও এই বক্সার এখনও রিংয়ে ঝড় তুলতে পারেন। বাবা মৃত লিয়াকত আলীর উৎসাহে বক্সিংয়ে এসেছিলেন। তাঁর চোখে বক্সিং সৌখিনতার খেলা হলেও এখানে পেশাদারিত্ব চালু হলে আরো বক্সার উঠে আসবে। বললেন, ‘বিশ্বে এমন বক্সারও আছেন যার একদিনের ইনকাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর এক বছরের ইনকামের সমান। বক্সিংয়ে ফুটবলের চেয়েও বেশি আয় করা যায়।’ নিজের ক্যারিয়ারে একটা দারুন সুখস্মৃতি আছে। স্বর্ণ পদক জিতে ঘর্মাক্ত শরীরের বলছিলেন রহিম। ২০০৯ সালে ইতালীতে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে ম্যাচ জিতেছিলেন যশোরের সাতমাইল নওদা গ্রামের আব্দুর রহিম।

আনসারের স্বর্ণ পদক জয় করেছেন জাতীয় দলের তারকা বক্সার সুর কৃষ্ণ চকমা। আল আমিন, সজীভ হোসেন, নারী বক্সারদের মধ্যে সাদিয়া সুলতানা খুকুমনি এবং শামীমা আক্তার। সেনাবাহিনীর বক্সারকে নুরুন্নাহারকে হারিয়ে চাপাইনবাবগঞ্জ বক্সিং একাডেমীর কায়মা খাতুন স্বর্ণ জয় করেন। বিওএর মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা পদক বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বক্সিং ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x